সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিষয়ে নাক না গলাক

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:০২ এএম

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে রাশিয়ার বিবৃতিতে বিব্রত বাংলাদেশ। দেশের রাজনীতি, মানবাধিকার ও নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের পরামর্শ ও দৌড়ঝাঁপের কারণে বিরক্ত সরকার। এরমধ্যে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। গতকাল সোমবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনও এ বিষয়ে কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা চাই না রাশিয়া, আমেরিকা কেউ আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাক, এটা তাদের বিষয় নয়।’ 

বিদেশিদের প্রতি কূটনৈতিক নিয়মনীতির মধ্যে থেকে কথা বলার প্রত্যাশা প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের জন্য নিয়ম আছে এবং সে অনুযায়ী তারা কথা বলবে। আমরা আমেরিকা, পশ্চিমা দেশ সম্পর্কে বলেছি, অন্য দেশ সম্পর্কেও আমাদের একই বক্তব্য।’

রাশিয়া কেন বিবৃতি দিচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি তাদের জিজ্ঞাসা করুন। আমরা চাই যে নিয়ম আছে, জেনেভা কনভেনশন আছে, সে অনুযায়ী প্রত্যেক দেশ কাজ করবে এবং আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না। আমরা পরিপক্ব, স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ এটা সবার মনে রাখা উচিত। আমার এই বক্তব্য রাশিয়া, আমেরিকার সবার জন্য প্রযোজ্য। ওইসব ওদের জিজ্ঞাসা করুন, আমার কাছে এত ঘ্যান ঘ্যান করছেন কেন?’

বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার নিয়ে কারও মাতবরির সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি যেÑ তাদের কী রকমের ব্যবহার করা উচিত। তাদের জন্য নিয়ম আছে এবং সে অনুযায়ী তারা কথা বলবে। আমরা আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশ সম্পর্কে বলেছি, অন্য দেশ সম্পর্কেও আমাদের একই বক্তব্য।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচন ছাড়া অন্য কোনোভাবে ক্ষমতায় আসেনি। আওয়ামী লীগ সবসময় গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদাবোধ সমুন্নত রেখেছে। এসব নিয়ে আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। আমি নিশ্চিত নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।’

সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেছেন। গত ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার শাহীনবাগে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে সংঘটিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ নিয়ে দুই পরাশক্তির কথা বলার সূচনা হয়।

ওই দিনই পিটার হাস পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে দেখা করে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানান। পরবর্তী সময়ে পিটার হাসের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উদ্বেগ জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এর মধ্যে মস্কোর দৃষ্টিতে ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কী ভূমিকা এবং ইউরোপে তার প্রভাব কেমন, তা তুলে ধরতে টুইটারে একটি ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করেছে ঢাকায় রুশ দূতাবাস। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার ঢাকায় রুশ দূতাবাস একটি বিবৃতি দেয়। এতে বলা হয়, গণতন্ত্র সুরক্ষা বা অন্য কোনো অজুহাতে বাংলাদেশসহ তৃতীয় কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার বিষয়ে রাশিয়া বদ্ধপরিকর। এর পাল্টায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক টুইটে প্রশ্ন করা হয়, ইউক্রেনের ক্ষেত্রে রাশিয়া এ নীতি অনুসরণ করেছে কি না।

এরপর রুশ দূতাবাসের পাল্টা টুইটে ইউক্রেন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে একটি ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশ করা হয়। সর্বশেষ গতকাল মস্কোয় রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা এ ঘটনা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি শাহীনবাগের ঘটনাকে ‘মার্কিন কূটনীতিকের তৎপরতার প্রত্যাশিত ফল’ বলে মন্তব্য করেন। জাখারোভা বলেন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার মৌলিক নীতি লঙ্ঘন করে, এমন পদক্ষেপ মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।

রাশিয়া কেন এ প্রতিক্রিয়া দিয়েছে, সে বিষয়ে তাদের প্রশ্ন করতে বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, প্রত্যেক দেশ যে নিয়ম আছে, জেনেভা কনভেনশন আছে, সে অনুযায়ী কাজ করবে, আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাবে না। আমরা পরিপক্ব, স্বাধীন, সার্বভৌম দেশÑএটা সবার মনে রাখা উচিত। আমার এ বক্তব্য রাশিয়া, আমেরিকা সবার জন্য প্রযোজ্য। ওদের জিজ্ঞাসা করুন, আমার কাছে এত ঘ্যান ঘ্যান করছেন কেন?’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত