চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে ভারসাম্য রাখাই চ্যালেঞ্জ

আপডেট : ১১ জানুয়ারি ২০২৩, ০৩:৩৮ এএম

চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়ে চীনের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিন গ্যাংকে অবহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। সোমবার মধ্যরাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতিতে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করেন।

গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ড. মোমেন বলেন, ‘চীনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা সেই সুবিধা পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে ঘোষণা দিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমি তাকে আরও বেশি সময়ের জন্য বাংলাদেশ সফরের প্রস্তাব দিয়েছি। একই সঙ্গে করোনার টিকা দেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানিয়েছি।’

যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে মোমেন বলেন, ‘এটি একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়।’ তবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতির কথা, অর্থাৎ ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বিদ্বেষ নয়’ এই নীতি সফলভাবে বজায় রেখে চলেছে। তিনি বলেন, ‘তাদের মধ্যে (যুক্তরাষ্ট্র ও চীন) সমস্যা থাকতে পারে...এটি তাদের মাথাব্যথা...আমরা আমাদের সুসম্পর্ক বজায় রাখব (যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ের সঙ্গে)।’

যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আসন্ন সফর প্রসঙ্গে মোমেন বলেন, ‘ঢাকা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক “খুব ভালো”। আমরা এটিকে (বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক) আরও দৃঢ় করতে চাই।’

বৈঠকে পদ্মা সেতুসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে চীনের সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় স্থান পেয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বহনকারী উড়োজাহাজটি পেইচিং থেকে আফ্রিকা যাওয়ার পথে জ¦ালানি সংগ্রহের জন্য হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে রাতেই ঢাকা ত্যাগ করেছেন চীনের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিন গ্যাং।

গতকাল মঙ্গলবার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের তৎপরতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. মোমেন বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে আপনারা বেশি বেশি আলাপ করেন। নির্বাচন এক বছর পরে হবে। এখনো অনেক দিন বাকি। এগুলো নিয়ে খামোকা আপনারা বেশি বেশি হইচই করেন। এখন নির্বাচন অনেক সুষ্ঠু হয়, কেউ মারা যায় না। বিশেষ করে গত কয়েকটি নির্বাচন হয়েছে সহিংসতামুক্ত। এটা খুবই ভালো।’

এর আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনায় যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এসেছিলেন বলেই আমরা বাংলাদেশকে পেয়েছি। জাতির জনক হিসেবে মাত্র তিন বছরেই তিনি পররাষ্ট্রনীতি ও জাতিসংঘের সদস্যপদসহ দেশকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তৎকালীন সময়ের ভারতবর্ষের নাগরিকদের আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি। তাদের সহযোগিতা আমাদের দেশের স্বাধীনতায় ভূমিকা রেখেছে।’

আলোচনায় যোগ দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু দিল্লি থেকে বিমানে ফেরার পথে “আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি” গানটি গেয়েছিলেন। সে সময় তিনি ফারুক চৌধুরীকে বলেছিলেন এটিই হবে আমাদের জাতীয় সংগীত।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত