নাটোরের বাগাতিপাড়া রেললাইনে ১০ লেভেল ক্রসিংয়ের পাঁচটি অরক্ষিত। এসব ক্রসিংয়ে নেই গেটম্যান এবং কোনো নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। উন্মুক্ত রেলগেটটি দিয়ে যানবাহন ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এসব ক্রসিংয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। রেল কর্মকর্তা বলেছেন, সরকারি অনুমোদিত নয় বলে এ পাঁচটি ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ করা যাচ্ছে না।
উপজেলার সীমানার মধ্যে মালঞ্চি ও লোকমানপুর দুটি রেলস্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে আবদুলপুর থেকে পার্বতীপুর অভিমুখে মালঞ্চি রেলস্টেশনের দুই পাশের পাঁচটি লেভেল ক্রসিং, যার সবকটিতেই অনুমোদিত গেটম্যান রয়েছে। অন্যদিকে আবদুলপুর থেকে রাজশাহী অভিমুখে লোকমানপুর রেলস্টেশনের দুই পাশে পাঁচটি লেভেল ক্রসিংয়ের সবই অরক্ষিত। এগুলো হলো মাড়িয়া নিংটিপাড়া, হাড়ভাঙ্গী, মালিগাছা, গাঁওপাড়া ও ঝিনা ক্রসিং। রেলগেটসংলগ্ন স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ছয় বছর আগে ইয়াছিনপুর রেলগেট পৃ পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় নববধূসহ চারজন ভটভটি যাত্রী নিহতের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর আবদুলপুর থেকে পার্বতীপুর অভিমুখে উপজেলার স্বরূপপুর, ঠেঙ্গামারা, ইয়াসিনপুর ও বড়পুকুরিয়া লেভেল ক্রসিংয়ে গেটম্যান নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে আবদুলপুর থেকে রাজশাহীর অভিমুখে উপজেলার পাঁচটি লেভেল ক্রসিংয়ের সবই উন্মুক্ত থাকায় প্রায়ই সেখানে দুর্ঘটনা ঘটছে। দুই বছর আগে মাড়িয়া নেংটিপাড়া রেলগেটে চিথলিয়া গ্রামের ফজিলা নামে এক গৃহিণী কাটা পড়েন। একই বছর ১৩ জুলাই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি একই ক্রসিংয়ে কাটা পড়ার ঘটনা ঘটে। এর দুদিনের মাথায় আইয়ুব আলী নামে আরও একজন ট্রেনে কাটা পড়েন।
হাড়ভাঙ্গী রেলগেটসংলগ্ন চা দোকানদার জামশেদ জানান, তিন বছর আগে তার চোখের সামনে ক্রসিং পার হওয়ার সময় একটি ট্রলি চলন্ত ট্রেনের ধাক্কা খায়। এতে চালকসহ অন্যরা ছিটকে পড়েন। এ সময় আবদুল খালেক সরকার নামে একজন মারা যান। তাছাড়াও গেটে প্রায় প্রতি বছরই যানবাহন পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হন। এ ছাড়া এসব রেলগেটে পারাপারের সময় নসিমন, খাবারের গাড়ি, সংবাদিকদের মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন যান ট্রেনের ধাক্কা খেয়েও বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পেয়েছে।
রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) অসীম কুমার তালুকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই রেলক্রসিংগুলো সরকার অনুমোদিত নয়। সেগুলো নিয়ম মেনে করা হয়নি। এমনিতেই আমাদের জনবল কম, তারপরও রেল বিভাগের তালিকায় না থাকায় জনবল নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না।
