দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে বলে দাবি করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, মানুষের গড় আয়ু এখন ৭৩ বছর হয়েছে। এটা জাদু না, কাজ করার ফলেই হয়েছে। আমরা চিকিৎসা খাতে কাজ করছি, তাই মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সার্ভিসের (ওসেক) উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সব জেলা হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সার্ভিস চালু করা হবে। এরই মধ্যে দেশের চারটি বড় হাসপাতালে এ সার্ভিস খোলা হয়েছে। হাসপাতালগুলো হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বাকি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে শিগগির চালু করা হবে।
তিনি বলেন, ওসেক চালু হলে হাসপাতালগুলোতে ৫০ শতাংশ মৃত্যু কমে যাবে। ইমার্জেন্সিতেই অর্ধেক রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে। এতে করে ইনডোরের রোগীর চাপ কমে যাবে। বেশি মানুষ সেবা পাবে। চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর চাপ কমে আসবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের সব বড় হাসপাতালে ওএসইসি (ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি কেয়ার) নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ওএসইসি খোলা হবে। এ ছাড়া যেসব হাসপাতালে বেশি রোগী সেবা নিতে আসেন, তা সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনাও আমাদের আছে।
চিকিৎসকদের পদোন্নতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রমোশন নিয়ে আপনাদের অনেক অভিযোগ। দেরিতে প্রমোশন হয়। আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বসে এ সমস্যা সমাধান করেছি। এখন থেকে প্রমোশন নিয়ে আপনাদের কোনো সমস্যা থাকবে না।
উদ্বোধনের পর গতকাল থেকেই রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওসেক সার্ভিসের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে রোগীদের সেবাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, ওসেক সার্ভিস একটি ইমার্জেন্সি সেবা। যেসব রোগী জরুরি চিকিৎসা নিতে আসবেন তাদের রোগ গুরুতর না হলে এখানে সেবা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হবে। এ সেবার মাধ্যমে হাসপাতালের ওয়ার্ডের ওপর চাপ কমবে।
ওসেকে যে কোনো জরুরি রোগীরা দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই চিকিৎসা নিতে পারবেন। রোগীর জরুরি প্রয়োজনে যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা এখানে রয়েছে। এতে রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অন্য কোথাও যেতে হবে না। এখানে জরুরি রোগীর সেবায় অত্যাধুনিক ল্যাব সাপোর্ট, আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি, পোর্টেবল এক্সরেসহ প্রায় সব ধরনের ডায়াগনস্টিক সুবিধা রয়েছে। মেডিকেল অফিসার ছাড়াও এখানে সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা পাওয়া যাবে।
চিকিৎসকরা আরও জানান, এখন থেকে এ হাসপাতালের ওসেকের মাধ্যমে চিকিৎসকদের পাশাপাশি জরুরি রোগীর সুষ্ঠু ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করতে নার্স, প্যারামেডিক, ওয়ার্ড বয় ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী রাখা হয়েছে। জরুরি রোগীর প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখানে জরুরি অপারেশনের সুবিধাও পাবেন। গুরুতর রোগীর প্রয়োজনে এখানে রয়েছে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন ও চার শয্যার আইসিইউ সাপোর্ট। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরুরি রোগী ভর্তি অথবা অবজারভেশনে রেখে চিকিৎসা করার ব্যবস্থা থাকবে। রোগীর উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য রেফার্ড হাসপাতালে নেওয়ার জন্য এখানে রয়েছে ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স সেবা।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, জরুরি রোগীর প্রয়োজনে ব্যবহৃত বেশিরভাগ ওষুধ ওসেক সেন্টারে থাকবে। রোগী ৪৮ ঘণ্টার বেশি ভর্তি থাকা লাগলে, অন্তঃবিভাগে বিভিন্ন ওয়ার্ডে রুটিন রোগী হিসেবে ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে ও আইসিইউ প্রয়োজন হলে হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে আইসিইউতে স্থানান্তরের ব্যবস্থা থাকবে।
