ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে অধ্যাপনা করছেন ড. আকসাদুল আলম। বাংলা অঞ্চলের ইতিহাসচর্চায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। বিগত ৫০ বছরে বাংলাদেশে ইতিহাসচর্চার রাজনীতি, ধারা, গতি-প্রকৃতি এবং স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইতিহাস পঠন-পাঠনের সংকট ও করণীয় নিয়ে একজন ইতিহাসবিদ হিসেবে কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের সাঈদ জুবেরী
(গতকাল রবিবার ‘মূলধারার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠত্ব আরোপের বয়ানই চলছে’ শিরোনামে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের পরের অংশ)
দেশ রূপান্তর: আমাদের এখানে বিভিন্ন শাসক, সেনাপতি এসেছেন, অভিযান চালিয়েছেন। আগের পাঠ্যবইয়ে কারও অনুপ্রবেশ বা আগমনকে ‘বাংলার জয়’ বলা হয়েছে, কারও আগমনকে ‘দখল’। তো নতুন বইতে এই জয় ও দখলকে কীভাবে ডিফাইন করা হয়েছে?
ড. আকসাদুল আলম: দেখুন, এই বিজয় এবং দখল দুটোই কিন্তু দুটো আলাদা পার্সপেক্টিভে সঠিক হতে পারে। প্রশ্নটা দাঁড়াচ্ছে, আপনি ইতিহাসের ন্যারেটিভটা কীভাবে চিন্তা করছেন, তার ওপর। ইতিহাসের কোন কোন তাত্ত্বিক কাঠামো ও চিন্তা কাঠামোতে আপনি কোন ভূখণ্ডের কোন মানুষের জন্য কখন এবং কীভাবে লিখছেন, তার ওপর। সুতরাং দেখুন, একজন ব্যক্তির কোনো কর্মকাণ্ড দখলও হতে পারে, আবার বিজয়ও হতে পারে। আমরা যদি বলি, বাংলা বা বাংলা অঞ্চলের ইতিহাস, বাংলাদেশ, তার প্রাচীন ও মধ্যযুগ এই সময়গুলোর ইতিহাস স্থানিক এবং কালিক মানদণ্ডে আপনাকে বুঝতে হবে। বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও আইনগত সীমানা মাথায় রেখে আপনি তো প্রাচীন ও মধ্যযুগের, এমনকি ১৯৪৭-পূর্ব সময়ের ইতিহাস বুঝতে পারবেন না। ১৯৪৭-পূর্ববর্তী সময়ের ইতিহাস আপনাকে একটা বড় আঞ্চলিক ভূখণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে বুঝতে হবে। যেখানে হাজার বছরের পথ পরিক্রমায় বাংলা ভাষা এবং বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী গড়ে উঠেছে, যে নির্দিষ্ট ভূখন্ডের রয়েছে মনুষ্যসৃষ্ট নয়, প্রকৃতি কর্র্তৃক নির্ধারিত সীমানা, সেইখানে আপনাকে যেতে হবে। তো আপনি যখন সেখানে গেলেন, সেইখানে কিছু মানুষ আছে, তারা জীবনধারণ করছে, তাদের খাদ্যাভ্যাস, তাদের অর্থনৈতিক জীবন, তাদের বেঁচে থাকা, তাদের ভাষা, যোগাযোগ এবং ভূপ্রাকৃতিক বিবেচনায় রয়েছে স্থানিক নানারকমের চ্যালেঞ্জ। বাংলা অঞ্চলে ইতিহাস ও সভ্যতা নির্মাণের আদিপর্বে চ্যালেঞ্জগুলো ছিল বহুবিচিত্র। ছিল জল-জঙ্গলের প্রতিকূলতা, নিয়মিত বন্যা ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাস, সাপ, বাঘের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ। প্রাতিষ্ঠানিক ভাষা, ধর্ম বা কোনো প্রথা পদ্ধতির সঙ্গে এই মানুষের কোনো যোগাযোগই ছিল না। পাহাড়, নদী, জঙ্গল এই মানুষকে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে বহুকাল। তো এই সাধারণ মানুষকে যদি আপনি বিচার-বিবেচনায় নেন, তাহলে এবার আপনাকে ধরতে হবে যে, বৃহত্তর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অধীন মানে আমি বলতে চাচ্ছি স্ট্রাকচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ, স্ট্রাকচারাল রিলিজিয়ন, পলিটিকস নিয়ে তথাকথিত অভিজাত বা এলিট ক্লাস পিপলের যারা ঢুকছেন তারা বহুদূরের ভূখণ্ড হতে আগত, তারা বাংলার ভৌগোলিক সীমানার বাইরের কোনো ভূখন্ড থেকে তাদের রীতিনীতি, ধর্ম, ভাষা ইত্যাদি নিয়ে প্রবেশ করছেন, কিছুটা পড়ালেখা জানা, কেউ ব্যবসায়ী, কেউবা ভাগ্যান্বেষী, কেউ আবার অর্থ এবং ক্ষমতালিপ্সু। এখানে ঢুকে যদি এমন হয় যে, তারা এখানকার ক্ষমতা নিয়ে নিজেদের উচ্চাকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন করছেন, তাহলে বাংলা ভূখ-ে বসবাসকারী মানুষের প্রেক্ষাপটে, মানদ-ে, তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে আপনি যদি বলতে চান; তাহলে তো আপনাকে বলতে হবে যে, বহুদূরের ভূখণ্ড থেকে এসে তারা বাংলা ভূখণ্ডে আদি বসতি স্থাপনকারী মানুষ এবং তাদের ভূখণ্ডের ওপর দখলদারিত্ব করছে, আধিপত্য স্থাপন করছে। এই যে, যারা দখল করছেন তাদের উৎকীর্ণ করা লিপি, তাদের লেখা গ্রন্থ কিংবা অন্যান্য উৎসতে কিন্তু এসব ঘটনা বিজয় হিসেবে চিত্রিত হয়েছে।
বাংলা অঞ্চলে কিন্তু অপেক্ষাকৃত বহু পরে ব্রাহ্মণ্যবাদী প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম-সংস্কৃতি ও রাজনীতি প্রবেশ করেছে। এটাকে ব্রাহ্মণ্যবাদীরা বলতে পারেন বিজয়। আর বাংলা অঞ্চলের বেদ ও ব্রাহ্মণ্য-পূর্বকালীন ভাষা-ধর্ম-সংস্কৃতির মানুষেরা বলবেন আগ্রাসন, আধিপত্য বা দখল। সমুদ্রগুপ্ত, হর্ষবর্ধন, শশাঙ্ক, ধর্মপাল, বিজয় সেনকে সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা হিসেবে প্রমাণ করার বয়ান এখানে চলছে। পরবর্তীকালে একই ধারায় চলছে তুর্কি-আফগান, পারস্য, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান থেকে আগত মুসলিম শাসকদের নিয়ে একই ধারায় ইতিহাসের বয়ান। বাংলাদেশের ৫০ বছর ধরে বহুদূরের ভূখণ্ড থেকে আগত এসব ব্রাহ্মণ্যবাদী ধর্ম-সংস্কৃতি ও শাসক বংশ, বৌদ্ধ ধর্ম-সংস্কৃতি ও শাসক বংশ, পরবর্তীকালে মুসলিম শাসক বংশ এবং তাদের ধর্ম-সংস্কৃতির গৌরব আর বিজয়ের বয়ান পাঠ্যপুস্তকে পড়ানো হচ্ছে। ধরুন, হর্ষবর্ধন। তার সভাকবি একটি বই লিখেছেনহর্ষচরিত। সেখানে বানভট্ট এবং হর্ষের লিপিতে লেখা হয়েছে, হর্ষবর্ধন গৌড়কে পৃথিবীশূন্য করে দেবেন। শশাঙ্কের দিক থেকে এটাকে দখলের চেষ্টাই বলা হয়ে থাকে। সুতরাং এই দখল এবং বিজয় কথাটা কিন্তু একটা আপেক্ষিক ব্যাপার। স্থানিক এবং পার্সপেক্টিভগত দিক থেকে বদলে যেতে পারে। এটা ইতিহাসবিদ এবং যারা লিখছেন তাদের ওপর নির্ভর করে যে, তারা কীভাবে, কখন, কোন তাত্ত্বিক কাঠামো এবং উৎস ব্যবহার করে একটি ভূখন্ডের মানুষের ইতিহাস লিখছেন।
দেশ রূপান্তর: ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির ইতিহাসও কি তাই?
ড. আকসাদুল আলম: একদমই তাই। আপনি যদি ধরেন প্রাচীনকালের রাজা, মধ্যযুগের রাজা, যদি বলেন ব্রাহ্মণ্যবাদী শাসক, যদি বলেন বৌদ্ধ শাসক, ইসলাম ধর্মের অনুসারী শাসক যারা ছিলেন তারা... প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এই কথাগুলো প্রযোজ্য। এখন আপনি হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলমান এইভাবে রাজাদের পরিচয় দেবেন, নাকি আপনি এই রাজাদের অভিজাত সম্প্রদায়, নাম-যশ-খ্যাতি বিস্তারে ব্যতিব্যস্ত অর্থসম্পদলিপ্সু একধরনের ক্ষমতাশালী ব্যক্তি বলে পরিচয় দেবেন এটা আপনার নিজস্ব রাজনীতি। আপনি কী নামে পরিচয় দেবেন, এটা আপনার ওপর নির্ভর করে। ইতিহাসবিদের গবেষণা, মেথড, চিন্তাধারা এবং তত্ত্ব-কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। আপনি ধর্মকে আশ্রয় করে যখন পরিচয় দেবেন, তখন জিনিসটা কী হচ্ছে দেখেন। বাংলায় যেসব মুসলমান শাসক ছিলেন তাদের ওপর দিল্লির মুসলমান শাসকগণ তো নিয়মিত আক্রমণ চালিয়েছে, অত্যাচার করেছে, বারবার এসে এখানে যুদ্ধ করেছে, ধ্বংস করেছে এগুলোকে কী বলবেন? এখানে তো একজন মুসলমান শাসক আরেকজন মুসলমান শাসকের ওপর এসে আক্রমণ করেছে, ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেছে। সুতরাং আপনি তাদের কি মুসলমান, ইসলাম নাম দিয়ে পরিচয় দেবেন; নাকি আপনি তাদের বলবেন যে, তারা হলেন রাজা, সম্রাট, সুলতান, নবাব ইত্যাদি। তারা ক্ষমতালোভী, তারা অভিজাত... কী বলবেন আপনি? এখানেই হচ্ছে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিগত বিষয়।
দেশ রূপান্তর: আচ্ছা, স্কুলের পাঠ্যবইয়ের ভাষা নিয়ে একটা বিতর্ক যেমন আছে, তেমনি প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাসের ধোঁয়াশাপূর্ণ বা বিতর্কিত, অমীমাংসিত অনেক বিষয় নাকি রয়েছে। যেগুলো নিয়ে উচ্চশিক্ষা বা গবেষণা পর্যায়ে আলোচনা চলতে পারে। তো এই বিষয়গুলোর কতখানি শিশুদের ইতিহাস পাঠ উপযোগী?
ড. আকসাদুল আলম: এত সময় সে ইতিহাসের আলোচনা করছিলাম আপনার সঙ্গে, ইতিহাসের সেই বয়ান কিন্তু গত ৫০-৬০ বছর ধরেই সামান্য কিছু পরিবর্তন করে চলছে। এর পেছনে রয়েছে গভীর এক রাজনীতি। পাকিস্তান আমলের ভাবধারায় রচিত প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাসের ধোঁয়াশাপূর্ণ বা বিতর্কিত, অমীমাংসিত অনেক বিষয় ইতিহাসের পাঠ হিসেবে সামান্য কিছু ব্যতিক্রম বাদে এতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের স্কুল পাঠ্যবইগুলোতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসের বাংলা/বাংলাদেশ অধ্যয়নের নামে চলেছে।
দেশ রূপান্তর: মানে ইতিহাসের যে বিষয়গুলো নিয়ে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম গবেষণা এখনো চলছে বা চলার সুযোগ আছে, সে ধরনের বিষয় কি স্কুলের পাঠ্যবইয়ে থাকার দরকার ছিল?
ড. আকসাদুল আলম: সেটাই বলছিলাম, এগুলো এখনো চলছে। আপনি যদি বিগত যেকোনো বছরের আগের পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইগুলোকে দেখেন সেখানকার ভাষা, বিষয়, বয়ান, কেবলই সন-তারিখ, রাজা-বাদশার নাম-ঠিকুজি এবং তাদের গৌরব বয়ান দিয়ে ঠাসা। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের কাছে ইতিহাস তাই এক মহা আতঙ্কের নাম। কখনো হিন্দু রাজা, কখনো বৌদ্ধ রাজা, কখনো মুসলমান রাজা, কখনো সেন বংশ, কখনো খিলজি, কখনো সুলতানি, কখনো মুঘল... এসবের ফিরিস্তি দিয়ে ইতিহাসের বই ভরা। আমার মনে হয়েছে এবারই প্রথম একটা চেষ্টা করা হয়েছে সাধারণ মানুষকে মূল উপজীব্য করে, সমাজসংস্কৃতি এবং মানুষের ধর্মজীবন ও অনুভূতির জায়গাগুলোকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে নির্মোহ ইতিহাস সহজ ভাষায় শিক্ষার্থীর সামনে আনতে। যেখানে গল্প আকারে শিক্ষার্থীরা বাংলা অঞ্চল তথা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের অতীতের সকল সামষ্টিক অভিজ্ঞতার কথা জানতে পারে।
দেশ রূপান্তর: আমরা স্কুলে যেভাবে পড়েছি কত সালে কোন রাজা এলেন, কত সালে কোন রাজার কোন ছেলে সিংহাসনে বসলেন বা কোন রাজপুত্র তার বাবা বা ভাইকে মেরে ক্ষমতা নিলেন, এমন। এখানে কে প্রাচীন এলাকাটিতে আক্রমণকারী, কে অনুপ্রবেশকারী এবং এসবের আড়ালে সাধারণ মানুষ এই আক্রমণ আর অনুপ্রবেশে কী উদ্ধারটা পেল তা বোঝা যেত না। সে ক্ষেত্রে আমার মতো সাধারণ মানুষ, যাদের ইরান-তুরান-আফগান বা দিল্লির লিগেসি নেই, যথেষ্ট বংশীয় অর্থে সৈয়দ না, বাংলার সাধারণ মানুষের জায়গা থেকে এবার কি তবে নিজেকে খুঁজে পাওয়াটা সহজ হবে নতুন পাঠ্যবইয়ে?
ড. আকসাদুল আলম: সেটা বলা খুব কঠিন আমার জন্য। আমি ইতিহাসের শিক্ষার্থী। ভবিষ্যৎ তো বলতে পারব না ভাই। তবে হ্যাঁ, এই ভূখন্ডে আমার পূর্ব-পুরুষরা সাপের সঙ্গে, বাঘের সঙ্গে, বন্যায় ডুবে, জলচ্ছ্বাসে ভেসে লড়াই করে বেঁচে ছিল। আমি প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে এখানে টিকে থাকি, এরই মধ্যে বহু দূরের ভূখণ্ড থেকে একজন এসে আমার ওপর ভাষা চাপিয়ে দেবে, একজন ধর্ম চাপিয়ে দেবে, আরেকজন তার রাজবংশীয় শাসন চাপিয়ে দিয়ে আমাকে নিয়ে পরিচয়-রাজনীতি করবেন, সেটা তো আমার জানার অধিকার আছে। এই ন্যারেটিভটাকে এবার সম্ভবত সামনে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। বাচ্চারা যাতে করে তার ভূখন্ডের আলোকে, তার অস্তিত্বটাকে যেন ইতিহাসের মাধ্যমে রিলেট করতে পারে। সে যেন তিন-চার হাজার বছর ধরে এখানে তার বেড়ে ওঠার লড়াই এবং অভিজ্ঞতাকে অনুধাবন করতে পারে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলা দরকার। দেখুন, ইতিহাসে আমার-তোমার কিংবা আমি-তুমি বা আমরা এবং তোমরা এগুলো শিশু শিক্ষার্থীর জন্য খুবই ভয়ংকর বলে মনে করি। এটা কিন্তু ইতিহাসের একটা বড় সংকটের জায়গা। আর্যভাষীরা এখানে এসেছে, তাদের কেউ এখানে মিশে গিয়েছে, অনেকে সম্পদ লুট করে চলে গিয়েছে। সুতরাং অনেকে মিশেছে, অনেকে মেশেনি। অনেক সাধারণ মানুষও ব্যবসা কিংবা ধর্ম প্রচারে এখানে এসেছে, এখানে এসে নিজেদের বসতি স্থাপন করেছে। ফলে তারাও এ ভূখন্ডের মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে গিয়েছে। সুতরাং যারা মিলেমিশে গিয়েছে তারা তো ধীরে ধীরে এখানকার মানুষের অংশে পরিণত হয়েছে। ইতিহাসের বয়ানে আপনি ইনক্লুসিভ হবেন নাকি এক্সক্লুসিভ হবেন, আপনি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিচয়-রাজনীতি নিয়ে ইতিহাসের বয়ান তৈরি করবেন নাকি একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর টিকে থাকার সামষ্টিক অভিজ্ঞতার বয়ান লিখবেন তা আগে নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন।
