কিডনি হাসপাতালে ফের ৩ ঘণ্টা ডায়ালাইসিস বন্ধ

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০২৩, ০২:০৮ এএম

জাতীয় কিডনি অ্যান্ড ইউরোলজি ইনস্টিটিউট হাসপাতালে (নিকডু) সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান স্যানডোর ডায়ালাইসিসের ইকুইপমেন্ট (উপকরণ) যথাসময়ে সরবরাহ না করায় গতকাল সোমবার ৩ ঘণ্টা বন্ধ ছিল ডায়ালাইসিস। এই ৩ ঘণ্টার জেরে চার শিফটের কিডনি রোগীরা সারা দিন ভোগান্তিতে ছিল। এর আগে গত রবিবার ৬ ঘণ্টা সেবা বন্ধ রাখা হয়। এমনকি বকেয়া পাওনা না দিলে ডায়ালাইসিস সেবা অব্যাহতভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এতে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

স্যানডোর ডায়ালাইসিস সেন্টারে কথা হয় খিলক্ষেত এলাকার রানী বেগমের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সপ্তাহে দুই দিন ডায়ালাইসিস নিতে হয়। প্রতিবারের মতো আজও ভোরে বাসা থেকে বের হয়ে হাসপাতালে এসেছি সকাল ৭টায়। কিন্তু ডায়ালাইসিস শুরু হয়েছে পৌনে ১১টার দিকে।’

রাজধানীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকার বাসিন্দা কিডনি রোগী হালিমুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৩ ঘণ্টা আগে এসেছি, ডায়ালাইসিস করতে ৪ ঘণ্টা লাগবে। এক ডায়ালাইসিস করে বাসায় ফিরতে ৭-৮ ঘণ্টা সময় লাগলে সেটা চরম ভোগান্তির।’ 

রোগীর স্বজনরা জানিয়েছে, এখানে ডায়ালাইসিস করতে আসা সব রোগীর তারিখ ও সময় পূর্বনির্ধারিত ছিল। শুরু করতে দেরি হলে তারা আমাদের ২ ঘণ্টা পরে আসতে বলতে পারত।

জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউটে নিয়োজিত স্যানডোরের ব্যবস্থাপক নিয়াজ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠান সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। এ কারণে একটু দেরিতে শুরু হয়। কারণ ডায়ালাইজারসহ ২৫ ধরনের ইকুইপমেন্ট লাগে। এগুলো আসতে একটু সময় লাগছে। তাই শুরু হতে সময় লাগছে।’  

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, কিডনি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু থাকে। সরকারের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ প্রকল্পের আওতায় ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যানডোর পরিচালনা করে ডায়ালাইসিস সেন্টারটি। গত রবিবার হঠাৎ সেন্টারে ডায়ালাইসিসের উপকরণ সংকটের কারণে ডায়ালাইসিস বন্ধ করে দেয় স্যানডোর কর্র্তৃপক্ষ।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (ডেপুটি পরিচালক) ডা. আকতারুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হয়েছিল। সেটা আবারও চালুও হয়ে গেছে। সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে আশা করছি।’

এর আগে গত বছর জাতীয় কিডনি অ্যান্ড ইউরোলজি ইনস্টিটিউট (নিকডু) ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়াই সেবা বন্ধ করে দিয়েছিল স্যানডোর। পরে পাওনা টাকা পরিশোধ করলে প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় ইকুইপমেন্ট সরবরাহ ও ডায়ালাইসিস সেন্টার চালু করে। এবার রোগীদের ডায়ালাইসিস বাবদ সরকারের কাছে ৩১ কোটি টাকা পাওনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত