স্কুল টিফিনে স্বাদ ও পুষ্টি দুটোই থাক

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:৩৭ এএম

প্রতিদিন স্কুলগামী সন্তানকে টিফিন দেওয়া মায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ শিশু-কিশোররা অনেকটা সময় স্কুলে কাটায়। স্কুলের টিফিনে শর্করা, আমিষ, স্নেহ, ভিটামিনস ও মিনারেলসের সমতা থাকতে হবে যা শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করবে। টিফিন নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্কুলের সময়সূচির দিকে খেয়াল রাখা উচিত। সকালের শিশু-কিশোরদের টিফিন হবে নাশতা জাতীয় আর দুপুরের একটু ভারী জাতীয় খাবার। টিফিনের খাবার হওয়া উচিত মুখরোচক, সুষম, স্বাস্থ্যসম্মত, পুষ্টিকর এবং উচ্চ ক্যালরিসমৃদ্ধ। পাশাপাশি লক্ষ রাখতে হবে এই খাবারে থাকা চাই বৈচিত্র্য, ভিন্নতা ও নতুনত্ব।

যা থাকতে পারে টিফিনে

ফল ও সবজি : টিফিনে ফল ও সবজির প্রাধান্য দিতে হবে। এতে শিশুদের দেহের ভিটামিনস ও মিনারেলসের চাহিদা পূরণ হবে। মৌসুমি ফল ও সবজি  দিয়ে তৈরি খাবার টিফিন হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের ফল কেটেও দেওয়া যেতে পারে। যেমন পেয়ারা, পাকা পেঁপে, নাশপাতি, আম, বরই এবং কমলা, আপেল, আঙুর ইত্যাদি। খাবারের সঙ্গে ড্রাই ফ্রুটস যেমন কিশমিশ, বাদাম ইত্যাদিও টিফিনে দেওয়া যেতে পারে। গাজর, শসা, টমেটো মিশিয়ে ফলের সালাদ তৈরি করে দিতে পারেন।

শর্করা জাতীয় খাবার : অনেক শিশু সকালবেলা খেতে চায় না। এ ধরনের শিশুদের টিফিনে শর্করা জাতীয় খাবার থাকা প্রয়োজন। শর্করা জাতীয় খাবার দেহে শক্তির জোগান দেয়। ঘরে তৈরি নুডলস, ফ্রাইড রাইস, স্যান্ডউইচ, বিভিন্ন ধরনের কেক, মিষ্টি, পিঠাও টিফিন হিসেবে ভালো ও পুষ্টিকর।

আমিষ জাতীয় খাবার : ডিমের পুডিং, মাংস দিয়ে তৈরি স্যান্ডউইচ, মাংসের পাকোড়া. নাগেট, চিকেন বল টিফির হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের বিন জাতীয় খাবার যেমন মটর, শিমের বীজ সিদ্ধ যাতে প্রচুর আমিষ রয়েছে। পেটও ভরবে।

দুধের খাবার : সুজির পায়েস, পুডিং, ওটস দিয়ে তৈরি খাবার যেমন সুস্বাদু তেমনি স্বাস্থ্যসম্মত। বাজারে বিভিন্ন ধরনের দই পাওয়া যাচ্ছে যা টিফিনে দিতে পারেন। প্রয়োজনে ঘরেও দই তৈরি করে নিতে পারেন।

খেয়াল রাখুন : বাচ্চা কোন খাবারগুলো পছন্দ করে তার তালিকা তৈরি করে নিন।  টিফিনে রঙিন ফলমূল ও সবজি ব্যবহার করুন। সুন্দর টিফিন বক্সে সুন্দর করে খাবার পরিবেশন করুন। এতে করে শিশুর খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। প্রতিদিন একই টিফিন যেমন দেবেন না তেমনি রান্নার প্রণালিও পরিবর্তন করে দিন। অনেক বাচ্চার দুধ ও বাদামে অ্যালার্জি তাদের ও ধরনের খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার টিফিনে  বাদ দিন। কারণ বাচ্চার হাইপারঅ্যাকটিভিটি বেড়ে যায়। বক্সে ঢোকানার আগে খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণ ঠান্ডা করে নিতে হবে। বাইরের এবং ফাস্টফুড জাতীয় খাবার টিফিনে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ ফাস্টফুডে ব্যবহৃত পনির বা চিজ, মেয়নেজ অধিক পরিমাণে গ্রহণ করা দেহের জন্য ক্ষতিকর। এতে পরবর্তী জীবনে ওজন বৃদ্ধিসহ নানা ধরনের জটিল শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত