খুলনায় অপহরণের পর গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রকে হত্যা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নিজ বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত একটি ভবন থেকে নীরব মণ্ডল (১৩) নামে ওই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তাকে হত্যায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ একই স্কুলের পাঁচ ছাত্রকে আটক করেছে। ভারতীয় টিভি সিরিয়াল ক্রাইম প্যাট্রল দেখে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে তারা নীরবকে অপহরণের পরিকল্পনা করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত নীরব খুলনার ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া পূর্বপাড়া এলাকার পান-সুপারি ব্যবসায়ী শেখর মণ্ডলের ছেলে। সে স্থানীয় গুটুদিয়া এসিজিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। আটকরাও একই বিদ্যালয়ের নবম, দশম ও ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। তাদের মধ্যে একজনের বাড়ি ডুমুরিয়ার ভা-ারপাড়া তেলিগাতি এলাকায় এবং অন্য চারজনের বাড়ি গুটুদিয়া এলাকায়।
ডুমুরিয়া থানার ওসি শেখ কনি মিয়া জানান, আটক পাঁচজনের মধ্যে একজন বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির পর নীরবকে ডেকে নিয়ে যায়। স্কুলের পেছনে পরিত্যক্ত একটি ভবনের মধ্যে অবস্থান করছিল অন্য তিনজন। নীরবকে সেখানে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা তার পা ধরে মুখ বন্ধ করতে চায়। এ ছাড়া রশি ধরে রেখেছিল একজন। আটকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের পরিকল্পনা ছিল নীরবকে অচেতন করে তার বাবার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার। কিন্তু তারা প্রথমেই তাকে রশি পেঁচিয়ে মেরে ফেলে। দুই-তিনজন গলায় রশি টেনে ধরে রাখে, নীরব সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। সেখানে নীরবের মরদেহ রেখে তারা তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়। আটক আরেকজনের দায়িত্ব ছিল নীরবের বাবার মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করার। ওই নম্বরে কল করে নীরবের বাবার কাছে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বিষয়টি জানার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ বিভিন্ন জায়গা থেকে পাঁচজনকে আটক করে। এর মধ্যে মরদেহ উদ্ধারের আগে চারজনকে এবং পরে একজনকে আটক করা হয়।
ওসি শেখ কনি মিয়া বলেন, ‘প্রথমে আটক চারজনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাত ১১টার পর বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনে যাই। এ সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক, স্থানীয় জনগণ ও জনপ্রতিনিধিরা ছিলেন। ভবনের একটি কক্ষে মরদেহটি নোংরা কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। নীরবের কাঁধে স্কুলব্যাগ ছিল। তখন আমরা মরদেহটি উদ্ধার করি।’
এ পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘আটকরা ক্রাইম প্যাট্রলের একটি পর্ব দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। সেই প্ল্যান অনুযায়ী কার কী ভূমিকা থাকবে, সেই অনুযায়ী তারা ভূমিকা নিয়েছে। তারা এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা ক্রাইম প্যাট্রল দেখেই ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি এবং আগে-পরে কী করবে সেই অনুযায়ী কাজ করেছে।’
নিহত নীরবের বাবা শেখর মণ্ডল বলেন, ‘স্কুল ছুটির পর নীরব না আসায় বাসা থেকে ফোন করে আমাকে জানানো হয়। এরপর ফোনে একজন নীরবের মুক্তির জন্য টাকা দাবি করে এবং পুলিশকে না জানাতে বলে। এ সময় আমি বলি পুলিশকে জানাব, তখন ফোন কেটে দেয়। বিষয়টি আমি ডুমুরিয়া থানা পুলিশকে জানাই। পুলিশ ওই মোবাইল নাম্বার অনুযায়ী তাদের আটক করে। এমনভাবে যেন আর কোনো মা-বাপের বুক খালি না হয়। আমরা চাই তাদের উপযুক্ত শাস্তি হোক।’
