পর্দা নামল ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানের

ব্র্যাক মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প বলে

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১১:০৫ পিএম

'ব্র্যাক মানুষের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প শোনায়। দেখায় মানুষের অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে।'- এভাবেই সমাপনী বক্তব্য দিলেন ব্র্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ সালেহ। বিশ্বের সর্ববৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক-এর ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে তিনি দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। গত ০৯ ফেব্রুয়ারি থেকে আজ ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সে সব অনুষ্ঠানে নানাভাবে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্র্যাককে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়। সেই সঙ্গে আগত অতিথিদের মনোরঞ্জনের ব্যবস্থা তো ছিলই।

সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ব্র্যাক এর পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয় এক উৎসবমোড়া অনুষ্ঠানমালার। এ উৎসব শিল্পের, সংস্কৃতির, গল্পের, সংগীতের, চারুকলার। এ উৎসব সবার, সার্বজনীন।

টানা তিন দিনের এই অনুষ্ঠানে কমতি ছিল না কোনো কিছুরই। দিনভর অনুষ্ঠানে ব্র্যাক শুনিয়েছে তাদের নিজেদের কথা, শুনেছে যারা তাদের নয়, তাদের কথাও। আজ সমাপনী দিন তাদের কাছে শোনা গেল আগামী দিনের কথা। নিজের দেশ, সেই সঙ্গে বিশ্বকে বদলে দেওয়ার আকাঙ্ক্ষার গল্পও। ব্র্যাক ইন্টান্যাশনালের নির্বাহী শামেরান আবেদ দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করে দিয়ে গেলেন, 'মানুষের শক্তি আর আশার জয় হবেই'।

প্রায় ৯০ হাজার মানুষের এই বিশাল পরিবার আগামীর দিকে তাকিয়ে। এ তিন দিন তারা বার বার স্মরণ করেছেন সংস্থাটির স্বপ্নদ্রষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদকে। এই তিন দিনে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট ডকু দেখানো হয় তাকে নিয়ে। যাতে উঠে এসেছে তার কর্ম ও জীবনবোধের কথা। তার আশা ও অকৃত্রিম আকাঙ্ক্ষার কথা। তার স্বপ্ন ঘিরেই আবর্তিত ব্র্যাক যেন আজও তার মানবপ্রেমে নিবেদিত প্রাণের গুঞ্জন থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি।

৫০ বছর পূর্ত নানাভাবে পালন করেছে ব্র্যাক। নিজেদের সাজিয়েছে, গুছিয়েছে, দেখিয়েছে। তাদের স্বপ্ন, স্বপ্নপথের যাত্রা, প্রতিবন্ধকতা- সব গল্প শুনিয়েছে। সেই সাথে রেখেছে মানুষকে আনন্দদানের নানা উপসর্গ। কোনো কিছুতেই ক্লান্তি ছিল না, ছিল না খামতি।

অনুষ্ঠান ছিল শিল্পের, সংস্কৃতির, নাটকের, গানের, কবিতার। অনুষ্ঠান ছিল বহুমাত্রিক। অনুষ্ঠানে ছিল পুঁথিপাঠ, ছিল মঞ্চনাটক, আবার ছিল আধুনিক গানের মহাতারকাদের পদচারণ। আসলে কী ছিল না, সেটাই প্রশ্ন!

আভিযাত্রিক তদরুণদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি ব্র্যাক বাংলাদেশ আর বাঙালিয়ানার গল্প বলেছে। ব্র্যাক নিজেকে বদলেছে, বদলেছে সময় ও দেশকে। ব্র্যাক-নির্বাহীই বলেছেন এই সংস্থাটি কী চায়- 'বিশ্বের সাথে তাল মানিয়ে চলা মানে এই নয় যে নিজেদের সংস্কৃতি হারিয়ে ফেলব। বাংলাদেশের স্বকীয়তাকে গুরুত্ব দিয়েছে ব্র্যাক। আমাদের রোলমডেলের দরকার নাই। রোলমডেল আমাদের আশপাশেই আছে। সমাজ আমাদের, দেশ আমাদের, আমাদের সবাইকে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে।'

সেই ইতিবাচকতার দিকে পা পা করে এগিয়েই আজ সমৃদ্ধ ৫১-তে পা রাখল ব্র্যাক।ে

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত