সেচ পাম্পে তালা, ২০০ বিঘা জমিতে আবাদ অনিশ্চিত

আপডেট : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১০:৫৮ পিএম

দিনাজপুরের হাকিমপুরে জমির মালিকানা নিয়ে দুপক্ষের বিরোধের জেরে সেচ কাজে ব্যবহৃত গভীর নলকূপে তালা দিয়েছে এক পক্ষ। এর ফলে উপজেলার খট্টামাধবপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকার প্রায় ২০০ বিঘা জমির বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আবাদ করতে না পারায় বোরোর বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

ওই এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমার বাবার অংশীদারিত্ব হিসেবে আমি এই সেচ পাম্প পরিচালনার একজন সদস্য। বিএডিসির কাছ থেকে বলরামপুর (গোবিন্দপুর) কৃষকগ্রুপ সমবায় সমিতির মাধ্যমে সেচ পাম্পটি ১৯৮২ সাল থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে। আমরা এই পাম্পের মাধ্যমে এলাকার ২০০ বিঘা জমিতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে আসছি। এ থেকে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে ড্রেনেজ সংস্কারসহ সেচ পাম্পের যন্ত্রাংশ ক্রয়, বিদ্যুৎ বিল ও লাইনম্যানের বেতন দেওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু গেল বছরের ১৬ ডিসেম্বর স্থানীয় ইউপি সদস্য বিনুল ইসলাম সেচপাম্পটি তার নিজের জমিতে দাবি করে সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তী সময়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে নোটিস পেয়ে আমরা সেখানে উপস্থিত হই। উনাকে সবকিছু অবগত করা হলে জায়গা মাপজোখ করে সরকারি জায়গায় হলে পাম্প চালুর ব্যবস্থা করার কথা বলেন। সে অনুযায়ী সার্ভেয়ার দিয়ে মাপজোখ করে দেখা যায় সরকারি জায়গায় পড়েনি। বিনুল ইসলামের দেড়ফিট জায়গা পাম্পের মধ্যে পড়েছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিএডিসি পল্লীবিদ্যুৎ অফিসে কথা বলেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। এতে আমাদের বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং বোরো ধান রোপণের মৌসুমও পার হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, এই মুহূর্তে বোরো ধান রোপণের জন্য আমাদের চারা প্রস্তুত হয়ে গেছে। কিন্তু পানির অভাবে জমি প্রস্তুত করতে পারছি না।’

অপর কৃষক ইউসুফ আলী বলেন, বোরো ধান রোপণের সময় তো চলে যাচ্ছে। আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি কখন ধানের চারা রোপণ করব। দ্রুত সেচপাম্পের তালা খুলে দিয়ে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।’

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য বিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জায়গার ওপর সেচ পাম্পটি স্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অভিযোগ দিই। পরবর্তী সময়ে উনি সার্ভেয়ার দিয়ে মাপজোখ করে আমার জায়গার ওপর পাম্প থাকার বিষয়টির সত্যতা পান। যেহেতু আমার জায়গার ওপর সেচ পাম্পটি অবস্থিত তাই আমি সেখানে তালা লাগিয়েছি। তবে কৃষকের ধানের চারা বাঁচানোর জন্য ওরা এলে আমি তালা খুলে দিয়ে জমিতে পানি দিচ্ছি ধানের চারা বাঁচিয়ে রাখতে। যেহেতু বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে বিচারাধীন রয়েছে উনিই ফয়সালা দেবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নূর-এ আলম বলেন, ‘সেচ পাম্প নিয়ে বিরোধে দুপক্ষই আমার কাছে এসেছিল। প্রথমত জমি নিয়ে যে বিরোধ ছিল সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সেটি পরিমাপ করে সমাধান করা হয়েছে। বাকি যে জটিলতা রয়েছে সেটি সমাধানের জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এটি নিরসন হলে কৃষকরা নিয়মিত সেচ সুবিধা পাবে। আর যদি না হয় তাহলে এই মৌসুমে কৃষকদের বোরো আবাদ যেন ব্যাহত না হয় সেজন্য দূরবর্তী গভীর নলকূপ থেকে বা স্থানীয়ভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের জমিতে সেচের জন্য যা যা সহায়তা করা দরকার সেটি করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত