সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

বিদ্যুৎ-শিক্ষা-স্বাস্থ্যে বরাদ্দ কমেছে

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ১২:২১ এএম

চলতি অর্থবছর ২০২২-২৩ এ বার্ষিক উন্নয়ন বাজেটে (এডিপি) বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কমে তা হয়েছে ২ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। তবে এক্ষেত্রে বিদ্যুৎ-জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবহন খাতে উল্লেখযোগ্য হারে বরাদ্দ কমেছে। এসব খাতে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কমানো হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনসহ কয়েকটি খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি সংশোধিত এডিপির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। আগামী ১ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি অনুমোদন হতে পারে।

চলতি অর্থবছরের শুরুতেই আলোচনায় ছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায় বেশ চাপের মধ্যে পড়ে বাংলাদেশে। ডলার সংকট তা আরও বাড়িয়ে তোলে। জ্বালানিসহ কাঁচামালের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়ে শিল্প খাতও। চূড়ান্ত খসড়ায় দেখা যায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বরাদ্দ ৬ হাজার কোটি টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি বছর এডিপিতে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৪৪ হাজার ৩৮৯ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে আনা হয়েছে ৩৮ হাজার ৩১৬ কোটি টাকায়।

শিক্ষা খাতের বরাদ্দও কমানো হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এডিপিতে এ খাতের বরাদ্দ ছিল ২৯ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে তা সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ১৮ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা করা হয়েছে।

দেশের যোগাযোগ খাতে গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তবে এবারের সংশোধিত এডিপিতে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ কমেছে। এ খাতেও বরাদ্দ কমেছে সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ খাতের মধ্যে ৫ মেট্রোরেল প্রকল্পেরই বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা।

করোনা মহামারীর সময় সারাবিশে্ব প্রশংসনীয় ছিল স্বাস্থ্য খাত। কিন্তু চলতি অর্থবছর উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ দেখাতে পারেনি এ খাতের সংশ্লিষ্টরা। এ খাতের বরাদ্দ সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ১২ হাজার ৭৪৫ কোটি টাকায় আনা হয়েছে। এডিপিতে এ খাতের বরাদ্দ ছিল ১৯ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা।

সরকারের গুরুত্বের তালিকায় থাকা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতেও এ অর্থবছর তেমন কোনো সাফল্য না আসায় তাদের বরাদ্দও প্রায় অর্ধেক কমানো হয়েছে। এডিপিতে ৪ হাজার ২৩৩ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও এ খাতের বরাদ্দ ১ হাজার ৮৯০ কোটি কমিয়ে ২ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকায় রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের সংশোধিত এডিপিতে নিজস্ব অর্থায়ন কমছে না। এডিপিতে নিজস্ব অর্থায়নের ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে বিদেশি সহায়তা থেকে ১৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তাতে সংশোধিত এডিপিতে বিদেশি সহায়তার পরিমাণ দাঁড়াবে সাড়ে ৭৪ হাজার কোটি টাকায়। বর্তমানে এডিপিতে ১ হাজার ৩৬৩টি প্রকল্প আছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, নির্বাচনী বছর হিসেবে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমালেও স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়নে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এ খাতে এডিপির আকার ১৬ হাজার ৪৬৫ কোটি থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ২৩০ কোটিতে আনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টিতে থাকা জলবায়ু খাতেও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এতে ৯ হাজার ৮৫৯ কোটির বরাদ্দ বাড়িয়ে সংশোধিত এডিপিতে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। তা ছাড়া উন্নয়ন সহায়তা খাতে ৪ হাজার কোটির বরাদ্দ থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার কোটি, সামাজিক সুরক্ষায় আড়াই হাজার কোটির বরাদ্দ বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার কোটি করা হয়েছে।

অর্থনীতির চাপের কারণে চলতি অর্থবছরের তিন মাস পার হওয়ার পরই প্রকল্পগুলোকে ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’ শ্রেণিতে ভাগ করেছে সরকার। এ ছাড়া অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার প্রকল্পের তালিকা করা হয়। ‘এ’ শ্রেণির প্রকল্পকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পে চলতি এডিপিতে যা বরাদ্দ আছে, তা পুরোটাই খরচ করা হবে। ‘বি’ শ্রেণির প্রকল্পগুলোতে বরাদ্দ (দেশজ উৎসের অর্থ) ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। আর ‘সি’ শ্রেণির প্রকল্পকে নামমাত্র বরাদ্দ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে। বর্তমানে ৬৪৬টি প্রকল্প ‘এ’ শ্রেণিতে; ৬৩৬টি প্রকল্প ‘বি’ শ্রেণিতে এবং ৮১টি প্রকল্প ‘সি’ শ্রেণিতে রাখা হয়েছে। প্রকল্পের অগ্রাধিকার নির্ধারণের সময় বলা হয়েছিল, এতে প্রায় ২০-২৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এর বাইরে নানা ধরনের কৃচ্ছ্রসাধনের কারণে আরও ১০-১৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হওয়ার কথা বলা হয়। সব মিলিয়ে এডিপির ৩০-৩৫ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত