শুক্রবার, ৩১ মে ২০২৪, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

পৃষ্ঠায় পৃষ্ঠায় দৃষ্টিহীনদের আলো

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ০৮:০৪ এএম

চোখের আলো নেই বলেই জ্ঞানের আলো থেকে বঞ্চিতএই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশন। যাদের চোখের আলো নেই তারাও জ্ঞানের স্পর্শ থেকে দূরে থাকবে নাএমন চিন্তা থেকেই বইয়ের ব্রেইল সংস্করণের উদ্ভব। আর বইমেলায় দৃষ্টিহীন মানুষের জন্য জ্ঞানের সন্ধান দিতেই ব্রেইল সংস্করণের বইয়ের সম্ভার নিয়ে হাজির হয়েছে স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশন।

সাধারণ মানুষের যখন বইমেলাকে ঘিরে আগ্রহের শেষ নেই তখন কিছু মানুষ নিভৃতে কেঁদে যায়। অন্যের মতো করে মেলার সে আনন্দ ভাগাভাগি করার সুযোগ নেই তাদের। কারণ তাদের চোখে আলো নেই। অন্ধদের দুঃখ হয়তো এখানে একটু লাঘব হয়। কারণ পাঠ্যবইয়ের বাইরে তারা এখানে পাচ্ছেন বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকের লেখা গল্প ও কবিতার বই। 

তবে এ সুযোগ আলোহীন মানুষ সব প্রকাশনী থেকে পেতে চান। বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে প্রত্যেক প্রকাশনাকে কমপক্ষে একটি ব্রেইল প্রকাশ বাধ্যতামূলক করে দেওয়ার দাবি করেন তাদের কেউ কেউ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাত্তর হলের শিক্ষার্থী রমজান আলী বলেন, স্পর্শ ব্রেইল শুধু আমাদের জন্য বই প্রকাশ করে থাকে। যদি সব প্রকাশনী বছরে একটি করে বইও ব্রেইল আকারে বের করে, তাহলে আমাদের পড়ার সুযোগ বাড়ে। বাংলা একাডেমি চাইলে প্রত্যেক প্রকাশনাকে এটি বাধ্যতামূলকও করে দিতে পারে।

চোখে আলো নেই বলে বইমেলার জন্য আগ্রহের কমতি নেই বদরুন্নেসা মহিলা কলেজের ছাত্রী কবিতা আক্তারেরও। মেলা ঘুরে দেখেছেন। চোখের আলোতে না দেখলেও অন্তরালোতে অনুভব করেছেন এর কোলাহল। স্পর্শ ব্রেইল প্রকাশনীতে দায়িত্ব পালনরত কর্মীরা বলেন, মূলত মানুষের সচেতনতা বাড়াতেই আমরা এই ধরনের বই প্রকাশ করে আসছি।

নতুন বই : গতকাল ছিল বইমেলার ২৩তম দিন। মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায়, চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। নতুন বই এসেছে ৭৮টি।

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে হয় ‘জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুবিষয়ক কথাসাহিত্য, নাটক ও চলচ্চিত্র’ এবং ‘জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুবিষয়ক গবেষণা ও মুক্ত গদ্যচর্চা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মিল্টন বিশ্বাস এবং ফরিদ কবির। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন রফিকুর রশীদ, সুভাষ সিংহ রায়, সরিফা সালোয়া ডিনা, মাসুদ পথিক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোলাম কুদ্দুছ।

প্রাবন্ধিকরা বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও রাজনৈতিক আদর্শ, তার মৃত্যু ও মৃত্যুঞ্জয়ী ভূমিকা উপস্থাপিত হয়েছে শতাধিক ছোটগল্প এবং তিরিশের অধিক উপন্যাস, পঞ্চাশটির মতো নাটক ও চলচ্চিত্রে। বর্তমান শতাব্দীতেও বঙ্গবন্ধু বাঙালি সাহিত্যিকদের কাছে সৃষ্টিশীলতার এক অফুরান উৎস। অপরদিকে বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যত গবেষণা, যত মুক্তগদ্য ও স্মৃতিগদ্য লেখা হয়েছে, পৃথিবীর ইতিহাসে আর কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে এত গবেষণা এবং এত গ্রন্থ রচিত হয়েছে বলে জানা নেই। তবে এত গবেষণা, এত গ্রন্থ রচিত হলেও এ নিয়ে আত্মশ্লাঘায় ভোগার সুযোগ কতটুকু আছে, সেটাই বড় প্রশ্ন।

আলোচকরা বলেন, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক কথাসাহিত্য-নাটক-চলচ্চিত্র-মুক্তগদ্য ও স্মৃতিগদ্য সংখ্যায় বিপুল, তবে গুণগত উৎকর্ষের বিষয়টিও এক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনায় রাখতে হবে। জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যেসব রচনাকর্ম আমরা উপহার পেয়েছি, এখন প্রয়োজন তার যথাযথ বিশ্লেষণ।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম কুদ্দুছ বলেন, বঙ্গবন্ধুবিষয়ক শিল্প-সাহিত্যচর্চা একটি চলমান বিষয়। প্রতিদিনই এ বিষয়ে নতুন নতুন সৃষ্টিকর্ম যুক্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিপুল সৃষ্টিকর্ম যেমন একদিকে আশা-জাগানিয়া, তেমনি মানের বিষয়টি নিশ্চিত না হলে এ বিষয়ে আমাদের সচেতনতার প্রয়োজন আছে।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কামাল চৌধুরী, জহরত আরা, মোস্তফা আল-মেহমুদন্ডরাসেল এবং আনজীর লিটন।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন ভাস্কর রাশা, দুলাল সরকার, কামরুজ্জামান, রাজীব কুমার সাহা, মাহবুবা ফারুক, আতিক আজিজ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী শফিকুল ইসলাম বাহার, চৌধুরী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জিনিয়া ফেরদৌস রুনা এবং অনন্যা সাহা। এ ছাড়া ছিল হাসান আবদুল্লাহ বিপ্লবের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঘাসফুল’, শাহিনুর আল-আমিনের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সম্প্রীতি সংস্কৃতি সংসদ’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী ঝুমা খন্দকার, চঞ্চল খান, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, অণিমা রায়, মঞ্জু সাহা, মিরা মণ্ডল, আশরাফ মাহমুদ। যন্ত্রানুষঙ্গে ছিলেন রবীন্দ্রনাথ পাল (তবলা), রবিন্স চৌধুরী (কি-বোর্ড), মো. হাসান আলী (বাঁশি) এবং বিশ্বজিৎ সেন (মন্দিরা)।

আজকের অনুষ্ঠানসূচি : আজ একুশে বইমেলার ২৪তম দিন। মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।

শিশুপ্রহর : আজ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় শিশুপ্রহর চলবে।

সকাল সাড়ে ১০টায় শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। সভাপতিত্ব করবেন নাট্যজন ফেরদৌসী মজুমদার। 

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে হবে ‘আধুনিকতা, উত্তর-আধুনিকতা ও পরবর্তীকালের সাহিত্যতত্ত্ব’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মাসুদুজ্জামান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন নিরঞ্জন অধিকারী, এজাজ ইউসুফী, বিপ্লব মোস্তাফিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন রাশিদ আসকারী।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত