বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা দায়িত্বহীন বলে মন্তব্য করেছেন সরকারবিরোধী দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল শনিবার বিডিআর বিদ্রোহের বার্ষিকীতে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের সমাধিতে দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
একই দিন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও মাহাবুবউল আলম হানিফ বিডিআর বিদ্রোহের যড়যন্ত্রে খালেদা জিয়ার জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন।
‘বিদ্রোহের দিন খালেদা জিয়ার গতিবিধি সন্দেহজনক ছিল’ হানিফের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে একটি দায়িত্বহীন কমেন্ট। তাদের সমস্যাটা হচ্ছে, তারা মূল সমস্যায় না গিয়ে সবসময় অন্য দিকে যেতে চান। কারণ এই ঘটনাগুলো যেভাবে সমাধান করা উচিত ছিল তা তারা করতে পারেননি।’
তিনি বলেন, ‘পিলখানায় ঘটা নৃশংস ঘটনা ছিল দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’ সেনাবাহিনীর মনোবলকে ভেঙে দিতেই এই হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনার তদন্ত যেভাবে হওয়া উচিত ছিল, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে রকম হয়নি।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখেছি যে, সেনাবাহিনী একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, সেটার পূর্ণাঙ্গ যে চেহারা সেটা দেশবাসী জানতে পারেনি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ, সেই মুক্তিযুদ্ধেও এত সেনা কর্মকর্তাদের আমরা হারাইনি।’
তিনি বলেন, ‘পিলখানার ঘটনার দুই বিষয়ে বিচার হয়েছে। একটি হলো বিদ্রোহ এবং হত্যা, আরেকটি হলো বিস্ফোরক। সাজা হয়েছে কিছু মানুষের, কিছু মানুষের মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়েছে, কিছু মানুষকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ৭ হাজারের মতো সৈনিক যারা অনেকে দাবি করেন যে, তারা সম্পূর্ণভাবে নির্দোষ তাদের মামলাটার শুনানি এখন পর্যন্ত শেষ করা হয়নি। যারা কারাগারে রয়েছে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাদের পরিবার নষ্ট হয়ে গেছে, তাদের সমস্ত ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে গেছে।’
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় বনানী কবরস্থানে বিডিআর বিদ্রোহে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যান বিএনপি নেতারা। দলের মহাসচিব বিদ্রোহের সময় নিহত বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভুঁইয়ার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভে যান।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, সাবেক বিমানবাহিনীপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল ফখরুল আজম, অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মুস্তাফিজুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জহুরুল আলম প্রমুখ।
