সম্পত্তিতে নারী অধিকার বাস্তবায়ন বহুদূর

আপডেট : ০১ মার্চ ২০২৩, ১০:১৩ পিএম

নারী একজন গর্ভধারিণী মা জননী, নারী কর্মজীবী একজন সফল মানুষ। তিনি শিক্ষক, নেতা, কর্তা, উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। পরিবারের ভালোমন্দ, অগ্রগতি, শান্তি-শৃঙ্খলার একজন মহান দায়িত্বশীল মানুষ। তাকে ছাড়া পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তা করা যায় না।

পরিবারের সুখ-শান্তি-উন্নতি-অগ্রগতির একজন অংশীদার সফল মা। দুনিয়াজুড়ে নারী জাতি, তাদের মেধাশক্তি যোগ্যতা দিয়ে সফলভাবে পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। নারীর শ্রম, মেধা, যোগ্যতা দিয়ে পরিবার ও সমাজ নানাভাবে উপকৃত হচ্ছে। নারী মানুষের কর্মস্থল স্বামী থেকে পরিবার, পরিবার থেকে রাষ্ট্র, রাষ্ট্র থেকে দুনিয়াজুড়ে তাদের ভূমিকা বলে শেষ করা যাবে না।

নারীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে দুনিয়ায় ধর্মগ্রন্থসমূহে গুরুত্বের সঙ্গে নির্দেশনা রয়েছে। নারীকে অবহেলা, অবমূল্যায়ন, ছোট করে দেখা, মোটেও ভালোভাবে দেখা হয়নি। কঠোরভাবে ধর্মগ্রন্থে বলা আছে, মা জাতির প্রতি সুন্দর সদাচরণ করার জন্য। কিন্তু সমাজ সে পথ থেকে বহু দূরে সরে যাচ্ছে।

সেই সাহেবি যুগের চরিত্র এখনো সমাজ পালন করছে। নারীকে মানুষ হিসেবে সম্মান ও মূল্যায়ন করতে পুরুষ সমাজ নানাভাবে ফন্দি আঁটে। নানাভাবে নারী সমাজ তাদের সততা, দক্ষতা, যোগ্যতায় এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, কর্মক্ষেত্রে নারীর দক্ষতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নারী জাতি অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রে অবদান রাখছে। তাদের অবদান পুরুষশাসিত সমাজ যেভাবে স্বীকৃতি দেওয়া দরকার, সেভাবে তারা পাচ্ছে না।

সামাজিকভাবে মাতা-পিতার সম্পদ থেকে, যেভাবে তাদের অধিকার পাওয়ার ন্যায্যতা রয়েছে, সে ক্ষেত্রে নারীরা এখনো পরিবার ও সমাজ থেকে সে অধিকার বঞ্চিত। নানাভাবে নারী জাতিকে ঠকানোর পরিকল্পনা থাকে, পরিবার ও সমাজ কর্তাদের হাতে। নারী তার অর্থ সম্পত্তিতে পূর্ণ অধিকার পাচ্ছেন না।

সমাজে অসংখ্য চিত্র লেখকের সৃষ্টিতে রয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সমাজে অসংখ্য পরিবারে দেখছি, নারীর যে অংশ সম্পত্তিতে ‘অধিকার’ হিসেবে ক্ষমতা রাখা রয়েছে, সে অধিকার পুরুষ আত্মীয়রা আত্মসাৎ করছে। অথবা নামমাত্র দিয়ে ঠকিয়ে রেখেছে। নারীদের পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ঠকাঠকির খেলা, আমার জীবনকালেই দেখে আসছি।

আমরা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করি। নারীর সম্পদের অধিকার সমাজ ও পরিবার দিচ্ছে না। অসংখ্য সংবাদ ও ঘটনা আমার জানা। কিন্তু সমাজকর্তা কিছুই করছে না। রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়েও তেমনভাবে সুফল পাওয়া যায় না। নানাভাবে ছলচাতুরী করে বঞ্চিত করার সফল নিয়মনীতি বাস্তবায়ন করা দৃশ্যমান একটি সামাজিক ব্যাধি। এ ব্যাধি এখন পরিবার ও সমাজের রক্তে রক্তে ঢুকে গেছে। এ চরিত্র নিয়মিতভাবে অনুশীলন হচ্ছে।

শিক্ষা, সংস্কৃতি চরিত্রে আমরা যতই উন্নতি ও দায়িত্বশীলতার কথা বলি না কেন বাস্তব ক্ষেত্রে নারীর সম্পত্তিতে অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে চোখ বন্ধ রেখেছি। চোখ খোলার কোনোই লক্ষণ ও সময় বাস্তবে দেখব বলে মনেও করতে পারছি না। কারণ সম্পত্তির মূল্য দিন দিন যে হারে বাড়ছে, তাতে করে নারী জাতি পিতা, স্বামী, ভাইবোন অথবা অন্য কারও কাছ থেকে যে সম্পদের হিসাব নিতে পারবে, সেটি আমার বিশ্বাসের জায়গায় স্থান পাচ্ছে না।

আমাদের পারিবারিক দায়িত্ববোধ থেকে এ বিষয়টি যত দিন বাস্তবায়ন না করব, সে সময় পর্যন্ত নারী তাদের পারিবারিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত থাকবে। তাদের পাশে সে বিষয়ে কাউকে এগিয়ে আসতে দেখছি না। অসহায়ভাবে নারীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। মায়া-মমতা, লজ্জায় অনেক মা জাতি সম্পত্তির অধিকার না চাইলেও, তাদের মনের মধ্যে জ¦ালা ও যন্ত্রণার আহামরি দেখা যায়। সমাজের জন্য এটি একটি মারাত্মক অভিশাপ, মারাত্মকভাবে জঘন্য অপরাধ। এ অপরাধকে সমাজ অপরাধ হিসেবে এখনো মনে করছে না।

নারীদের পৈতৃক সম্পত্তির অধিকার অন্য সদস্যরা আত্মসাৎ করে নীরবে ভোগ করে যাচ্ছে। কঠিন ধরনের অবস্থা সমাজের নানা পরিবারে দেখা যায়। এসব লজ্জাজনক কর্মকাণ্ডের কোনো প্রতিকার এ সমাজে হবে বলে মনে হয় না।

অসহায় অধিকার হারা, মা-বোনরা কীভাবে জঘন্য অনিয়ম ও পারিবারিক জুলুম থেকে রক্ষা পাবে, সেটি তাদের চিন্তা ও সাহসের মধ্যে আসছে না। তাই তারা মজলুম, অসহায় ও নির্যাতিত। বহু নামিদামি মানুষ, জমিদার, চৌধুরী, সিকদার পরিবারে এসব বঞ্চিত করার ইতিহাস অসংখ্যবার সমাজ দেখছে। তারাই সমাজ চালায়, তারাই সমাজের কর্তা। সমাজের নেতৃত্ব তাদের হাতেই।

এটি পরিষ্কারভাবে রাষ্ট্রের কাছে জানা আছে। বর্তমানে নারীরা সমাজের নীতিনির্ধারণী অনেক পদের সঙ্গে যুক্ত, ভাবতে হবে তাদের। পুরুষ ইচ্ছে করে হলেও নারীর সব অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাইবে না।

নিজের অধিকার নিজেদের প্রতিষ্ঠার জন্য উদ্যোগ ও কর্মসূচি নিতে হবে। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র সবক্ষেত্রে নারীর ন্যায্য অধিকারপ্রাপ্তি রাষ্ট্রীয়ভাবে করার আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। ঠকিয়ে ঠকিয়ে যেনতেনভাবে মা জাতির সম্পত্তির আত্মসাৎ আর দেখতে চাই না।

পুরুষের পাশাপাশি নারীর সম্পত্তির অধিকার পারিবারিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হোক। তাদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি সহায়তার পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

পারিবারিকভাবে নিগৃহীত মজলুম অসহায় নারীদের সাহায্য ও কল্যাণে নারী সংগঠনদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

লেখক : কলাম লেখক

[email protected]

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত