চিকিৎসক ধর্মঘটে অচল খুলনার সব হাসপাতাল

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২৩, ০২:২৫ এএম

চিকিৎসকদের টানা দুদিনের ধর্মঘটে গতকাল বৃহস্পতিবারও খুলনার সরকারি-বেসরকারি কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে মেলেনি চিকিৎসাসেবা। চিকিৎসা না পেয়ে বহু রোগীকে হাসপাতালের ফটক থেকেই ফিরে যেতে দেখা গেছে। চিকিৎসকদের এ ধর্মঘটের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

এদিকে চিকিৎসক নিশাত আবদুল্লাহর ওপর ‘হামলাকারী’ পুলিশের এএসআই নাঈমুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও তার স্ত্রী বাদী হয়ে ‘মিথ্যা অভিযোগে’ করা মামলা প্রত্যাহার করা না পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন চিকিৎসকরা। এমনকি প্রয়োজনে গণপদত্যাগের হুমকিও দিয়েছেন তারা।

অন্যদিকে শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেখ নিশাত আবদুল্লাহর ওপর হামলার ঘটনায় সাতক্ষীরা সদর থানার এএসআই নাঈমুজ্জামান শেখকে আসামি করে মামলা হওয়ার পর তাকে জেলার পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে (থানার দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার)। তবে তার শ্লীলতাহানি ও স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ এনে গতকাল দুপুরে খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ডা. নিশাত আবদুল্লাহর বিচার দাবি করেছেন এএসআই নাঈমুজ্জামান শেখের স্ত্রী নুসরাত আরা ময়না। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে গিয়ে দেখা যায়, রোগীদের বিশাল লাইন। তাদের কেউ কেউ এসেছিলেন নগরীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। আবার কেউবা এসেছিলেন দূরের কোনো জেলা থেকে। তারা সবাই এসেছিলেন চিকিৎসক দেখাতে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে তারা চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হন।

নগরীর নিরালা এলাকা থেকে আসা শরিফুল আলম জানান, সকাল সাড়ে ৯টার আগে এসে বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারে দাঁড়িয়েছিলেন। টিকিট পাওয়ার আশ্বাসও পেয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও চিকিৎসক না আসায় ফিরে যান তিনি।

মোংলার দ্বিগরাজ থেকে আসা মনিরা বেগম বলেন, ‘বোনকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে ও টেস্ট করাব বলে এসেছিলাম। কিন্তু এসে শুনি কর্মবিরতির কারণে ডাক্তাররা আজও (গতকাল) রোগী দেখবেন না। এতদূর থেকে এসে আবার ফিরে যেতে হচ্ছে।’

খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের পরিচালক ডা. রবিউল হাসান জানান, এ হাসপাতালে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি রোগী বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসাসেবা নেন। তবে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি থাকার কারণে বহির্বিভাগ বন্ধ থাকায় গত দুদিন রোগীরা কোনো চিকিৎসাসেবা পাননি। গত দুদিনে হাসপাতালে ৩৭ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অবশ্য চিকিৎসকদের অবহেলায় কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি এবং তাদের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এরকম মৃত্যু প্রতিদিনই হাসপাতালে হয় বলেও উল্লেখ করেন হাসপাতাল পরিচালক। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ থাকলেও জরুরি বিভাগ খোলা রয়েছে। সেখানে রোগীদের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।’

নিশাত আবদুল্লাহর ওপর হামলাকারী এএসআই নাঈমুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও তার স্ত্রীর করা মামলা প্রত্যাহার করা না পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে খুলনা বিএমএ। এ ছাড়া চিকিৎসকরা আগামীকাল শনিবার দুপুর ১২টায় শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে। একইদিন সন্ধ্যা ৭টায় বিএমএ ভবন মিলনায়তনে জরুরি সাধারণ সভা হবে। প্রয়োজনে ওইদিন চিকিৎসকরা গণপদত্যাগ করবেন। গতকাল দুপুরে বিএমএ ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন খুলনা বিএমএর সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম।

চিকিৎসক ধর্মঘট প্রসঙ্গে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘চিকিৎসকদের সঙ্গে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে, এটা কারও কাম্য নয়। একই সঙ্গে চিকিৎসকদের প্রতিবাদের ভাষা ভিন্ন হওয়া উচিত। তারা মহান পেশার দায়িত্ব পালন করেন। সাধারণ রোগীদের কষ্ট দেওয়া কোনোভাবেই ঠিক নয়।’

ডা. নিশাত আবদুল্লাহর ওপর হামলার প্রতিবাদে গত বুধবার সকাল ৬টা থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন চিকিৎসকরা। এতে করে খুলনা মহানগরীসহ জেলার সব সরকারি হাসপাতাল-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত