দোহায় প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের প্রতি যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ আহ্বান

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৩, ০৬:০৭ এএম

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধে যত দ্রুত সম্ভব বিশেষ ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ যত দ্রুত শেষ হবে, ততই জনগণের জন্য মঙ্গলজনক হবে।

প্রধানমন্ত্রী গতকাল শনিবার বিকেলে (স্থানীয় সময়) কাতার ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে (কিউএনসিসি) জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠককালে এ আহ্বান জানান। তিনি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বিষয়ে পঞ্চম জাতিসংঘ সম্মেলনে (এলডিসি ৫ : সম্ভাবনা থেকে সমৃদ্ধি) যোগ দিতে গতকাল দুপুরে (স্থানীয় সময়) কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছান। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘ মহাসচিব যত দ্রুত সম্ভব চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে বিশেষ উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে তিনি মত দেন যে যুদ্ধ থেকে লাভবান দেশগুলোর দুর্ভোগ কমাতে অন্য দেশগুলোকে সহায়তা করা উচিত।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী মিয়ানমারের নাগরিকরা যাতে তাদের স্বদেশে ফিরে যেতে পারে, সে জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানান।

ভাসানচরে ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরের বিষয়ে তার সরকারের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবকে আরও রোহিঙ্গাদের সেখানে স্থানান্তর করতে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।

প্রধানমন্ত্রী ও জাতিসংঘ মহাসচিব উভয়েই একমত হয়েছেন যে সেখানে রাজনৈতিক অঙ্গনে কোনো পরিবর্তন আসুক বা না আসুক, রোহিঙ্গাদের শিগগিরই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে।

বৈঠকে আন্তোনিও গুতেরেস উন্নয়ন, কূটনীতি এবং কভিড মহামারি মোকাবিলায় অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং বলেন যে “অর্জিত সাফল্যগুলো খুবই উৎসাহজনক”।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্বের জন্য তারা গর্বিত, যিনি কভিড-১৯ পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবিলা করেছেন এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সংকট মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে গেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বিকেলে (স্থানীয় সময়) কিউএনসিসিতে ইউএনজিএর প্রেসিডেন্ট সাবা করোসির সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেন। ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা বৈঠকে সাউথ-সাউথ দেশগুলোকে সম্পৃক্ত করে একটি আন্তর্জাতিক ফোরাম গঠনের প্রস্তাব করেন, যাতে উন্নত দেশগুলো তাদের প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী সেভাবে সাহায্য না করায় জনগণের কল্যাণে সম্ভাবনা ও করণীয় খুঁজে পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে তিনি এক দিনের জন্য এ বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে ইউএনজিএ সভাপতি পরবর্তী সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে এই উদ্যোগ নেওয়া উচিত বলে অভিমত দিয়ে বলেন, তারা আগামী জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বার্ষিক সমাবেশের কাজের জন্য নিযুক্ত থাকবেন।

বৈঠকে ইউএনজিএ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এটিকে “একটি অলৌকিক ঘটনা” বলে উল্লেখ করেন। দুই নেতা পানি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেন।

এর আগে এলডিসি সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফর সঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইট (বিজি-৩২৫) গতকাল স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। কাতার সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি এবং কাতারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পরে একটি আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রায় শেখ হাসিনাকে বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি দোহার উদ্দেশে যাত্রা করে।

আজ রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কিউএনসিসিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মেলনের উদ্বোধনী পূর্ণাঙ্গ সভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরে তিনি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে, বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘ সম্মেলনের সেক্রেটারি জেনারেল রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব ডোরেন বোগদান মার্টিনের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে টনি ব্লেয়ারের বৈঠক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল তার সরকারি বাসভবন গণভবনে টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জের নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী তার ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবহিত করেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এবং টনি ব্লেয়ার উভয়েই বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক পর্যালোচনা করেন। শেখ হাসিনা ভবিষ্যৎ বিশ্বের নেতা এবং সরকারকে সক্ষম করে গড়ে তোলার জন্য টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউটের মিশনের প্রশংসা করেন।

টনি ব্লেয়ার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তার সঙ্গে বৈঠকের কথা স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তারা খেলাধুলা বিশেষ করে ক্রিকেট নিয়েও কথা বলেছেন। ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের এখন বাংলাদেশ সফরের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন উপস্থিত ছিলেন। বাসস

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত