দেশের ক্রিকেট মহলে একটা প্রশ্ন প্রচলিত আছে কোন সংস্করণটায় কম খারাপ বাংলাদেশ; টেস্ট না টি-টোয়েন্টি? ধ্রুপদি পাঁচ দিনের ক্রিকেটে ব্যর্থতার পেছনে অজুহাত দেশে টেস্ট সংস্কৃতির অনুপস্থিতি আর উত্তর-আধুনিক টি-টোয়েন্টিতে ভালো করতে না পারার কারণ, গায়ের জোরের অভাব।
সবশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে আর নেদারল্যান্ডসকে হারানোটাই তাই ক্রিকেট কর্তাদের কাছে বড় সাফল্য, কারণ ২০০৭ সালের পর যে এর আগে মূল পর্বে কোনো জয়ই ছিল না! বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান আগেই বলেছেন, তাদের লক্ষ্য ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
কাল চন্দিকা হাথুরুসিংহেও বললেন, এখন থেকে ২০২৪ সালের আসরের দিকে যাত্রার শুরু। সেই যাত্রার শুরুতে সঙ্গী বাংলাদেশ ক্রিকেটে ভালো করা কয়েকজন ক্রিকেটার।
বিশ্বকাপের দলে থাকা সৌম্য সরকার বিদায় নিয়েছেন। বিপিএলেও ভালো না করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে উপজেলা পর্যায়ে খ্যাপ ক্রিকেট খেলতে দেখা গেছে। একটা সময় হাথুরুসিংহের সুনজরে থাকা সৌম্য আপাতত তার রাডারের বাইরে। বরং বিপিএলে ভালো করে আট বছর পর ফের জাতীয় চলের চৌহদ্দিতে রনি তালুকদার। রংপুর রাইডার্সের এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে দেখা যেতে পারে তিনে, কারণ বিপিএলের সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্তকে ওপেনার হিসেবে রাখতেই হবে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজেও আছে দুটো হাফসেঞ্চুরি, যার একটা সবশেষ ম্যাচে চট্টগ্রামেই।
লিটন দাস ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ একটা ইনিংস খেলেছিলেন, তবে সাম্প্রতিক ফর্মটা খারাপ। সবশেষ তিন আন্তর্জাতিক ইনিংসে তিনি হয়ে গেছেন জেমস বন্ড, কারণ ইনিংসগুলো ০, ০, ৭! তবুও লিটনের সামর্থ্যইে আস্থা।
বিশ্বকাপে মিডল অর্ডারে খেলা মোসাদ্দেক হোসেনও জায়গা হারিয়েছেন, তার পরিবর্তে হয়তো দলে ঢুকে যেতে পারেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ক্ষিপ্ত ফিল্ডিং, দুর্দান্ত ব্যাটস্পিড এমন অনেক বৈশিষ্ট্যই তাকে ২০২১ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ দলে জায়গা এনে দিয়েছিল। ১০ ম্যাচে ১১১ স্ট্রাইক রেটে ১২৪ রান করা শামীমের ক্যারিয়ারটা থেমে যায় সেই বিশ্বকাপের পর, যেখানে তিন ম্যাচে করেছিলেন যথাক্রমে ১১, ১৯ ও ২২ রান। বিপিএলে শুরুতে খুব একটা ভালো রান পাচ্ছিলেন না শুরুতে, কিন্তু বিপিএলের এলিমিনেটর ম্যাচে শক্তিশালী ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে তার ৫১ বলে ৭১ রানের ইনিংস নির্বাচকদের ভাবিয়েছে নতুন করে। ২০২১-এর নভেম্বরের পর তাই আজ ফের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে উঠতে পারে চাঁদপুরের এই তরুণের।
বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তানভীর ইসলাম ও হাসান মাহমুদ, দুজনই আছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দলে। নির্বাচকরা ওয়ানডে সিরিজে দলে রেখেছিলেন বিপিএলের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তৌহিদ হৃদয়কে, তাকে রাখা হয়েছে টি-টোয়েন্টি দলেও।
টি-টোয়েন্টি দলটাকে গড়তে শ্রীধরন শ্রীরামকে এনেছিল বিসিবি, তার হাত ধরে কুড়িয়ে পাওয়া সাফল্যকে বড় করে দেখিয়েছেন অনেকেই। সাব্বির রহমানকে ফিরিয়ে আনা, মেহেদী হাসানকে ওপেনার বানানোসহ অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিশ্বকাপ শেষে বিদায় নিয়েছেন শ্রীরাম, তার সঙ্গে চুক্তিটা আর বাড়েনি নানান কারণেই। হাথুরুসিংহের হাতে নতুন করে সাজানো হচ্ছে টি-টোয়েন্টি দল, লক্ষ্য উইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া বিশ্বকাপ। সেই যাত্রায় শুরুতে বিপিএলে ভালো করা ক্রিকেটাররা দিচ্ছেন সাহস।