রোববার, ২৩ জুন ২০২৪, ৯ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আধিপত্য বিস্তারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন দেওয়া হয়

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৩, ০২:৫০ এএম

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার করতে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত কাউকে চিহ্নিত করতে পারেনি তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনে ২ হাজার ৮০৫টি ঘর পুড়ে গেছে। এতে ৩ হাজার ১১ পরিবারের ১৫ হাজার ৯২৬ রোহিঙ্গা গৃহহীন হয়ে পড়ে। কেউ মারা না গেলেও আহত হয়েছেন ২১২ রোহিঙ্গা।

প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি ঘটনার অধিকতর তদন্ত করতে মামলাসহ ১২টি সুপারিশ করেছে কমিটি। গতকাল রবিবার প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শাহীন ইমরানের হাতে চার পৃষ্ঠার মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে ৭০ পৃষ্ঠার সহায়ক নথিও তুলে দেন।

এরপর জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের শহীদ এটিএম জাফর আলম সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এ সময় তদন্ত কমিটির সদস্য ক্যাম্প ইনচার্জ, উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) কক্সবাজারের উপপরিচালক, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান আবু সুফিয়ান বলেন, গত ৫ মার্চ বিকেলের অগ্নিকাণ্ডের পর গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি ৬ মার্চ থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। সরেজমিনে পরিদর্শনকালে ৭৫ জনের সাক্ষাৎকার ও লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রোহিঙ্গা, সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে তারা কথা বলেছেন। ক্যাম্পে লার্নিং সেন্টারের ইনস্ট্রাকটরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারা। প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রকাশিত ও প্রচারিত সংবাদ যাচাই ও তিন দিন সরেজমিনে ও বিভিন্নভাবে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখেছেন। সব মহলের সঙ্গে কথা বলে ও যাচাই-বাছাই করে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয়েছে যে, আধিপত্য বিস্তার করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আগুনটি লাগানো হয়েছে।

আবু সুফিয়ান আরও বলেন, ওই দিন দুপুর আড়াইটার দিকে ১১ নম্বর ক্যাম্পের ডি-ব্লকে আগুন জ্বলে ওঠে। এ সময় রান্নার কোনো কাজও ছিল না। এক স্থানে আগুন লাগার কিছু সময় পর আরও একাধিক স্থানে আগুন ধরার বিষয়টি কোনোভাবেই স্বাভাবিক অগ্নিকাণ্ড হতে পারে না। সবকিছু পর্যালোচনা করে এটি উদ্দেশ্যমূলক ঘটনা বলেই প্রতীয়মান হয়। ঘনবসতিতে আগুন ও সরু রাস্তা হওয়ায় দমকল বাহিনীর গাড়ি চলাচলে বাধাগ্রস্ত হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে সময় লেগেছে প্রায় চার ঘণ্টা। ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার ঘর পুড়ে ছাই হয়।

তার মতে, কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে তা তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হতে পারেনি। যেহেতু আগুন লাগার আগের রাতেও দুই গ্রুপে গোলাগুলি হয়েছে। সবকিছু যাচাই করে তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয়েছে, আগুন লাগার ঘটনাটি আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এডিএম বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ১২টি সুপারিশ উপস্থাপন করেছি। সেসবের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রথম ও প্রধান সুপারিশ হলো ঘটনার আদ্যোপান্ত জানতে মামলা করা। মামলা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অধিক তদন্ত করে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হবে।

তদন্ত কমিটির অন্য সুপারিশের মধ্যে আছে নিয়মিতভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো, আগুন প্রতিরোধ ও নির্বাপণের ক্ষেত্রে জরুরি কিছু পদক্ষেপ।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত