বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে সেই বাঘিনীর মৃত্যু

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৩, ০২:২৬ এএম

গাজীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে প্রায় দেড় মাস ধরে অসুস্থ আফ্রিকান স্ত্রী বাঘটি মারা গেছে। গতকাল বুধবার দুপুরের আগে বাঘটির মৃত্যু হয়। বাঘটিকে পার্কের বন্যপ্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্রের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল।

এর আগে গত বছরের জানুয়ারিতে সাফারি পার্কে আরেকটি বাঘের মৃত্যু হয়।

সাফারি পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো. ইমরান আহমেদ জানান, বাঘটির আনুমানিক বয়স প্রায় ১৪ বছর। বার্ধক্যজনিতসহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে দেড় মাস ধরে অসুস্থ ছিল বাঘটি। পার্কের মেডিকেল বোর্ড ও বিশেষজ্ঞ বন্যপ্রাণী চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেছেন, বাঘটির  লিভার, হার্ট, ফুসফুস কাজ করছিল না। বাঘটির রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজিসহ বিভিন্ন পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছিল।

গতকাল সকালে বাঘটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের কিছু সময় আগে বাঘটি মারা যায়। মৃত বাঘের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে শরীরের বিভিন্ন অংশের নমুনা সংগ্রহ করে বিভিন্ন পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরে পার্কের নির্দিষ্ট জায়গায় বাঘের দেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। বাঘের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও জানান প্রকল্প পরিচালক।

সাফারি পার্ক কর্র্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পার্কের প্রতিষ্ঠালগ্নে ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে বেশ কয়েকটি বাঘ আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে এই স্ত্রী বাঘটির ছয় মাস আগে অসুস্থতার লক্ষণ দেখা যায়। ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে বাঘটি খাদ্যগ্রহণ কমিয়ে দেয়। এরপর ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাঘটি খাবার গ্রহণ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। এরপর থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে এর চিকিৎসা শুরু করা হয়। পরে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ মার্চ পর্যন্ত বাঘটি অল্প খাদ্য গ্রহণ শুরু করে। কিন্তু ৭ মার্চ থেকে আবারও খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দেয় বাঘটি।

পার্কের এক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীর কেন্দ্রীয় ভেটেরিনারি হাসপাতালের সাবেক প্রধান ভেটেরিনারি অফিসার এবিএম শহীদুল্লাহ সরেজমিন অসুস্থ বাঘটিকে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তার তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় বাঘটির মৃত্যু হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত