মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার বিপর্যয়ের মুখে ইউরোপের ব্যাংক

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৩, ০২:২৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং খাতে বিপর্যয়ের পর এবার একই পরিস্থিতির মুখোমুখি ইউরোপীয় ব্যাংক। শেয়ারবাজারে দরপতনে অনিশ্চয়তার মুখে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকিং জায়ান্ট ক্রেডিট সুইস। দেউলিয়াত্ব ঠেকাতে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে প্রায় ৫৩ বিলিয়ন ডলার বা ৫ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ চেয়েছে ব্যাংকটি। এদিকে এ অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে, এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকার বড় বড় স্টক মার্কেটে। উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে ব্যাংকের শেয়ারের।

সিলভারগেট, সিলিকন ভ্যালি আর সবশেষ সিগনেচার ব্যাংক। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দেউলিয়া হয় যুক্তরাষ্ট্রের বড় এ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। আর্থিক বিপর্যয়ের এ ঢেউ এখন ইউরোপেও দেখা যাচ্ছে। টালমাটাল পরিস্থিতিতে সুইজারল্যান্ডের অন্যতম বৃহত্তম আর্থিক প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট সুইস ব্যাংক। সর্বোচ্চ শেয়ারহোল্ডার সৌদি ন্যাশনাল ব্যাংক নতুন তহবিল দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বুধবার এক দিনেই প্রায় ৩০ শতাংশ দরপতন দেখে প্রতিষ্ঠানটি। এদিন নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে ক্রেডিট সুইসের শেয়ারের দাম পড়ে যায় ১৪ শতাংশ।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক গ্রেগ সোয়েনসন বলেন, ক্রেডিট সুইস ব্যাংকের ওপর দিয়ে বড়সড় ঝড় যাচ্ছে। সিলিকন ভ্যালি বা সিগনেচার ব্যাংকের মতো একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে এটি। আমানত তুলে নিয়েছেন অনেকে। ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা নজরে আসার মতোই।

এ বিষয়ে সৌদি ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান আম্মার আল খুদাইরি জানান, তারা সুইস ব্যাংকটির শেয়ারে বিনিয়োগের পরিমাণ আর বাড়াবে না। একসময় ওয়ালস্ট্রিটের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ক্রেডিট সুইস একাধিক ভুল পদক্ষেপ ও ব্যর্থতার কারণে গত কয়েক বছরে ভাবমূর্তি হারিয়েছে, কমেছে মুনাফা। এ ছাড়া শীর্ষ কয়েকজন নির্বাহীকে চাকরিও ছাড়তে হয়েছে। মূলত গত মঙ্গলবার ক্রেডিট সুইস ব্যাংকের নিরীক্ষক পিডব্লিউসি আর্থিক প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা চিহ্নিত করার পর থেকে শেয়ারের দাম কমতে শুরু করে।

ব্যাংকটির প্রতিবেদনে, ব্যবস্থাপনা ত্রুটির কথা স্বীকারও করেছে ১৮৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্রেডিট সুইস ব্যাংক। এ পরিস্থিতিতে আমানতকারীদের ভরসা দিচ্ছে সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক এবং সুইস ফাইন্যান্সিয়াল মার্কেট সুপারভাইজরি অথরিটি জানিয়েছে, তারা প্রয়োজনে ক্রেডিট সুইসকে সাহায্য করতে প্রস্তুত। ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও দাবি, শক্ত অবস্থানে আছে তাদের ব্যাংকিং খাত। ইইউ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকিং বিপর্যয়ের প্রভাব পড়বে না দাবি করলেও, এ ব্যাপারে সতর্কতার কথা জানিয়েছে জোটের আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ। ইইউর ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রধান মেইরেড ম্যাকগিনেস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। আশা করি সেখানকার ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে আমাদের সামনে অনেক বিষয় উঠে এসেছে, যা নিয়ে সতর্ক হতে হবে। বিদেশি আমানতকারীদের বিষয়ে কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করা প্রয়োজন।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত