রপ্তানি উন্নয়ন ফান্ডের (ইডিএফ) অনাদায়ী অর্থের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ জরিমানা সুদ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এমন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
২০১৭ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ইডিএফের ঋণের মূল, অর্জিত সুদের পদ্ধতি ও আদায়ের বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছিল। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যদি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কোনো ব্যাংক ইডিএফ ঋণ ও সুদ পরিশোধ করতে না পারে তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার ক্লিয়ারিং হিসাব থেকে তা কেটে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা ব্যাংকগুলোর অনুমোদিত ডিলাররা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে নেবে।
তবে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্দেশনা অনুযায়ী ইডিএফের ঋণের সঠিক ব্যবহার করা হচ্ছে না। রপ্তানিকারকদের জন্য ইডিএফ থেকে নেওয়া ঋণের অর্থ সময়মতো পরিশোধ করা হচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে ইডিএফ থেকে রপ্তানিকারকদের জন্য নেওয়া ঋণ সময়মতো পরিশোধ করতে বিলম্ব হলে মেয়াদোত্তীর্ণ অংশের ওপর বাংলাদেশ ব্যাংকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ দ- সুদ দিতে হবে। ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিপূরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর অথরাইজড শাখাগুলো (এডি) ঋণের অর্থসহ সুদ ও দ- সুদ বাংলাদেশ ব্যাংককে দেবে।
বৈদেশিক মুদ্রায় গঠিত এ তহবিল গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে। ১৯৮৯ সালে মাত্র ৩৮ লাখ ৭২ হাজার ডলার নিয়ে গঠিত ইডিএফের আকার দিন দিন বেড়ে তা কিছুদিন আগে ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। আর ইডিএফসহ রিজার্ভের অর্থ দিয়ে গঠিত তহবিলের পরিমাণ ৮ বিলিয়ন ডলারের ওপরে।
এর আগে গত ১ ফেব্রুয়ারি ইডিএফের ঋণের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে ৩ শতাংশ সুদে অর্থ দেওয়ার কথা জানায়। আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে সাড়ে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ নেবে রপ্তানিকারকরা। এতদিন ইডিএফ থেকে ব্যাংকগুলো ২ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে রপ্তানিকারকদের কাছে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করত।
করোনায় ২০২০ সালের এপ্রিলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রথমবারের মতো ইডিএফ ঋণের সুদের হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। তার আগে সুদের হার ছয় মাসের লন্ডন ইন্টার-ব্যাংক অফারড রেটের (লাইবর) সঙ্গে দেড় শতাংশ যুক্ত করে নির্ধারণ করা হতো।
এর মধ্যে গত ১ জানুয়ারি গঠন করা হয় ১০ হাজার কোটি টাকার ‘রপ্তানি সহায়ক প্রাক অর্থায়ন তহিবল (ইএফপিএফ)’। ৪ শতাংশ সুদে এ তহবিল থেকে সরাসরি ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তারা ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকবে, যার মেয়াদ হবে ১৮০ দিন।
