জাবিতে ছাত্রলীগ নেতার থাপ্পড়ে কান ফাটল কর্মীর

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২৩, ০২:৪২ এএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মীর মশাররফ হোসেন হলে থাপ্পড় মেরে নিজ সংগঠনেরই এক কর্মীর কান ফাটানোর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত হাসান মাহমুদ ফরিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং জাবি শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি। আর ভুক্তভোগী সজিব আহমেদ ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কয়েকজন বহিরাগতের সঙ্গে মীর মশাররফ হোসেন হলের শিক্ষার্থীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। তখন বহিরাগতদের মধ্য থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থী অনিন্দ্য দিব্য মেহেদী নামে ইতিহাস বিভাগের এক শিক্ষার্থীর ছবি তুলে রাখেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দিব্যকে মারধর করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিকেল ৪টার দিকে দিব্যকে মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে দেখতে পেয়ে মারধর করে তাকে হলের অতিথি কক্ষে আটকে রাখেন শিক্ষার্থীরা। দিব্য রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি এবং মীর মশাররফ হোসেন হল ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের পূর্বপরিচিত। তাকে মারধরে অভিযুক্তরাও জাবি শাখা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এই ঘটনার মীমাংসা করতে রাত সাড়ে ৮টার দিকে হল শাখা ছাত্রলীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা মারধরের ঘটনায় জড়িত ছাত্রলীগ কর্মীদের অতিথি কক্ষে ডেকে নেন। কিন্তু মীমাংসার পর দিব্য হল থেকে বের হওয়ার সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী তাকে আরেক দফায় মারধর করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হলের জ্যেষ্ঠ ছাত্রলীগ নেতারা অতিথি কক্ষে ওই ছাত্রলীগ কর্মীদের ডেকে নেন। সেখানে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সজীব আহমেদকে এলোপাতাড়ি থাপ্পড় দেন হাসান মাহমুদ ফরিদ। এতে সজীবের কান দিয়ে রক্ত বের হতে থাকে। বন্ধুরা তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিতে চাইলে জাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফারুক ইমরান বাধা দেন। পরে সজীবের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে এবং পরে সেখান থেকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে সজীবকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা হাসান মাহমুদ ফরিদ বলেন, ‘কাল (মঙ্গলবার) রাতে গেস্টরুম হয়েছিল। সেখানে স্বাভাবিক কথাবার্তা হয়েছে। কাউকে কানে থাপ্পড় দেওয়া বা মারা হয়নি। ওই ছেলে (সজীব) গেস্টরুমে অসুস্থ বোধ করছিল, তাই তাকে আমরা তার বন্ধুদের সঙ্গে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।’

আর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘অতিথি কক্ষে নির্যাতন কিংবা মারধর হয়ে থাকলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। স্বপ্রণোদিত হয়ে দুপক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত