কোমর ব্যথার একটি বিষয় হলো ম্যালিগনেন্সি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, ম্যালিগনেন্সি অথবা টিউবারকোলোসিস খুবই ঝুঁকিপূর্ণ রোগ। এর লক্ষণ দেখা দিলে সতর্ক থাকতে হবে। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। একদমই দেরি করা যাবে না।
লক্ষণ
ম্যালিগনেন্সি বা ক্যানসারের কারণে যে ব্যাকপেইন হয় তা সাধারণত বয়স্কদের দেখা দেয়। এর ফলে তীব্র ব্যথাও হয়। অনেক সময় রাতে রোগীর ঘুমাতে ও বসতে কষ্ট হয়। এর সঙ্গে সঙ্গে ওজন কমতে থাকে, ক্ষুধামন্দাভাব দেখা দেয়। অনেক সময় রোগী প্যারালাইস্ট বা অবশ হয়ে যাওয়ার পর্যায়ে চলে আসে। দুই পা অচল হয়ে যায়। কোনো কোনো রোগীর বাউল ব্লাডার সমস্যা হয়। প্রস্রাব আটকে অথবা মলদ্বারের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। সুতরাং ম্যালিগনেন্সিও ব্যাকপেইনের সবচেয়ে খারাপ একটি কারণ।
বয়স্ক মানুষের ব্যাকপেইন হলে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। দ্রুত রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা নিলে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত দেখা যায়, বোন্সের এবং ম্যালিগনেন্সির ক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব বোন্সের একটি টিউমার আছে বা ক্যানসার আছে, এটাকে আমরা বলি মাল্টিপল মায়নোমা। ছেলেদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট থেকে অনেক সময় মেটাস্টাসিস হয়, কিডনি থেকেও হতে পারে। মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্রেস্ট থেকে হতে পারে। সুতরাং বয়স ৬০ বছরের ওপরে বা ৫৫ বছর এ রকম সময়ে ক্রনিক ব্যাকপেইন হয়, রাতে ঘুমাতে পারেন না, ওজন কমে, খেতে পারেন না। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যানসার শনাক্ত না হলে তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিন ধরনের ক্যানসারের লক্ষণ হিসেবে ব্যাকপেইন হতে পারে।
মূত্রাশয় ক্যানসার
পিঠের নিচের অংশে ব্যথা মূত্রাশয় ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। মূত্রাশয়ের গভীরতম টিস্যুতেই সাধারণত টিউমার বড় হতে থাকে। তলপেটে ব্যথা সাধারণত মূত্রাশয় ক্যানসারের গুরুতর লক্ষণ ধরা হয়। এ ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মূত্রাশয় ক্যানসারের লক্ষণগুলোর মধ্যে আছে ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাবে রক্ত ও প্রস্রাবের সময় ব্যথা।
মেরুদন্ডের ক্যানসার
স্পাইনাল কর্ড ও মেরুদন্ডের কলামের ক্যানসারও পিঠের ব্যথার কারণ হতে পারে। যদিও এটি বিরল। মেরুদন্ডে টিউমার হলে ব্যাকপেইন হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তবে এই ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে না। মূত্রাশয় ক্যানসারের মতোই মেরুদ-ের ক্যানসারের ক্ষেত্রেও পিঠে ব্যথা প্রাথমিক এক লক্ষণ। তাই ব্যাকপেইনকে কখনো উপেক্ষা করা ঠিক নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যথা তীব্র হতে পারে ও শরীরের অন্যান্য অংশে যেমন হাত-পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। মেরুদ-ের ক্যানসারের লক্ষণগুলোর মধ্যে অসাড়তা, বাহু ও পায়ে দুর্বলতা এবং পক্ষাঘাত দেখা দেয়।
ফুসফুসের ক্যানসার
ফুসফুসের ক্যানসারের বিভিন্ন লক্ষণগুলোর মধ্যে একটি হলো ব্যাকপেইন। আপনি যদি পিঠে ব্যথার সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারের অন্য কোনো উপসর্গ লক্ষ্য করেন, অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। ফুসফুসের ক্যানসারের লক্ষণগুলো হলো কাশিতে রক্ত পড়া, অবিরাম শ্বাসকষ্ট, দীর্ঘস্থায়ী কাশি যা আরও খারাপ হয়। এ ধরনের কাশি, যা দুই বা তার বেশি সপ্তাহ ধরে থাকে।
করণীয়
ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে অবশ্যই স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে। প্রচুর ফল ও শাকসবজি খেতে হবে নিয়মিত। এর পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম করা, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা ও ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। সমস্যার শুরুতেই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
