সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী

জেসমিনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনের অপপ্রয়োগ হয়েছে

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৩, ০৩:২৭ এএম

নওগাঁয় র‌্যাবের হেফাজতে মৃত্যুবরণকারী সুলতানা জেসমিনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল  নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ হয়েছে বলে মনে করেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক। একই সঙ্গে সাভারে কর্মরত দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক শামসুজ্জামানের বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছে সেটি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে নয় অন্যায়ের বিরুদ্ধে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

নওগাঁয় র‌্যাবের হেফাজতে জেসমিনের মৃত্যুর ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই ভদ্রমহিলাকে যখন তুলে নেওয়া হয় তখন কিন্তু তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মামলা ছিল না। তার দুর্ভাগ্য, যখন তিনি মারা যান তখনো তার বিরুদ্ধে এই মামলা ছিল না। মামলা করা হয়েছে তার পরের দিন। তাহলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট এখানে অপব্যবহার করা হয়েছে এবং এই মামলায় কোনো প্রসিড করা হয়নি। কিন্তু এই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট দিয়ে কিন্তু ওই মহিলাকে ধরা হয়। দুএকটা মামলায় অপব্যবহার হচ্ছে এবং সেটা আমরা দেখছি।’   

ডিজিটাল আইনে মামলা হলে প্রথমে সেলে পাঠানো হয়, কিন্তু শামসুজ্জামানকে মামলার পরেই গ্রেপ্তার দেখানো হলো- এমন প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মামলায় যখন তথ্য দেওয়া হবে তখন যদি প্রাইমাফেসি কেস না থাকে তখন প্রাইমাফেসি কেস নির্ধারণের জন্য আগে সেলে পাঠানো হবে এবং সেলের পরীক্ষার পর মামলা নেওয়া হবে। কিন্তু গতকাল (বুধবার) যে মামলাটি করা হয়েছে তার যে বিবরণী  সেটা যদি দেখে থাকেন তাহলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের যে মামলা হয় সেটার তথ্য উপাত্ত কিন্তু সেখানে ছিল। সেক্ষেত্রে পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে না বলে এই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘যে মামলা করা হয়েছে (শামসুদ্দিনের বিরুদ্ধে) সেটা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আমি স্বীকার করি আপনারা নির্ভীক সাংবাদিক। আপনারা যদি জনগণকে সত্য তথ্য প্রকাশ করেন তাহলে কোনো মতেই এই সরকার সাংবাদিকদের বাধা দেবে না।’ 

রাজশাহীতে র‌্যাবের তদন্ত টিম : আমাদের রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, র‌্যাব হেফাজতে নওগাঁর ভূমি অফিসের কর্মচারী সুলতানা জেসমিন মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে র‌্যাব সদর দপ্তরের তদন্ত টিম রাজশাহীতে অবস্থান করছে। জেসমিনকে গ্রেপ্তারে অংশ নেওয়া অপারেশন টিমকে নিয়ে আসা হয়েছে র‌্যাব-৫-এর রাজশাহী সদর দপ্তরে।

র‌্যাব-৫-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব কর্মকর্তা রিয়াজ শাহরিয়ার জানান, তদন্ত কাজ করছে র‌্যাব সদর দপ্তরের ইন্টারনাল ইন্টারোগেশন টিম। তারা এখন রাজশাহীতে অবস্থান করছেন। 

জেসমিনকে আটকের অভিযান চালিয়েছিল র‌্যাব-৫-এর জয়পুরহাট ক্যাম্পের যে দলটি সেই দলের প্রত্যেককেই রাজশাহীতে র‌্যাবের ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আনা হয়েছে। মূলত তদন্ত কমিটি এই সদস্যদের কাছ থেকে নানা প্রশ্নের উত্তর জানছেন। তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতার অংশ হিসেবেই তাদের রাজশাহী আনা হয়েছে। এটি ‘প্রত্যাহার’ কিংবা ‘ক্লোজড’ পর্যায়ের বিষয় নয়।

রাজশাহীতে নিয়ে আসা র‌্যাব সদস্যের সংখ্যা কত জানতে চাইলে র‌্যাব-৫-এর অধিনায়ক বলেন, ১১ জনের একটু বেশি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত