‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ অর্থবহ এই স্লোগানে সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে আমাদের দেশেও সাধারণ জনগণকে স্বাস্থ্যরক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে পালিত হচ্ছে ওয়ার্ল্ড হেলথ ডে। মুখগহ্বর যেমন শরীরের সবচেয়ে বড় প্রবেশদ্বার, তেমনি শরীরের আয়না বা প্রতিচ্ছবিও বটে।
অস্বাস্থ্যকর বা অবহেলিত মুখ থেকে মুখের অভ্যন্তরে নানা রোগের সৃষ্টি হয়, একই সঙ্গে এখানকার দীর্ঘমেয়াদি রোগ শরীরের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শরীরে যত রোগ হয় তার মধ্যে মুখের রোগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, কিন্তু সঠিক যত্নের মাধ্যমে এর সিংহভাগ প্রতিরোধ সম্ভব। যেমন :
ডেন্টাল ক্যারিজ
যেকোনো বয়সে দাঁতে গর্ত হওয়ার কারণ নিঃসৃত লালা, মুখের অভ্যন্তরে সুপ্ত ব্যাকটেরিয়া গোত্রীয় জীবাণু ও গৃহীত মিষ্টি জাতীয় খাদ্যকণা। নিয়ম মেনে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ও নরম টুথব্রাশ ব্যবহারে দাঁতের পৃষ্ঠে এগুলো আটকে থাকে না, পাশাপাশি মিষ্টি জাতীয় খাদ্যের পরিবর্তে স্বাস্থ্যবান্ধব খাবার গ্রহণে ক্যারিজের সম্ভাবনা অনেক কমে যায়।
মাড়ি রোগ
ব্রাশের সময় বা খাবার খেলে রক্ত পড়া নিয়ে অনেকেই ভোগেন, এমনটি হওয়ার প্রধান কারণ দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থলে জীবাণু জমা ও পরবর্তীতে শক্ত পাথরে রূপ নেওয়া। অনেকের দাঁতের ফাঁকে খাবার জমে, যা ডেন্টাল ফ্লস বা ইন্টার ডেন্টাল ব্রাশের সাহায্য ছাড়া বের না হলে সেখানেও প্রদাহের সৃষ্টি হয়। সকালে নাশতার পর ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুই মিনিট করে দাঁতের পাঁচটি পৃষ্ঠ ভালোভাবে ব্রাশ করলে মাড়ি ভালো থাকে। অন্যান্য কারণের মধ্যে অপুষ্টি, ভিটামিনের অভাব, রক্তের রোগ, লিভারের রোগসহ বেশ কিছু কারণেও মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। কারণ নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা জরুরি। মাড়ি রোগকে নীরব ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
নানা ক্ষত
অপরিষ্কার মুখ, রক্তস্বল্পতা, অপুষ্টি ও ভিটামিনের অভাব, হরমোনের তারতম্য, ধূমপান, জর্দা, গুল, ভাঙা দাঁত বা ফিলিং, জীবাণু সংক্রমণ প্রভৃতি নানা কারণে মুখের মধ্যে জ্বালাপোড়া বা ক্ষত তৈরি হয়। মুখের যেকোনো ক্ষত, ঘা বা ফুলে যাওয়া অথবা অস্বাভাবিক রং বা পি- নিয়ে ২ সপ্তাহের বেশি অপেক্ষা করা আত্মঘাতী। ক্ষতের ধরন বুঝে চিকিৎসা নিতে হবে।
অতি সংবেদনশীলতা
ডেন্টাল ক্যারিজ, নিয়মবহির্ভূত দাঁত ব্রাশ বা জোরে জোরে শক্ত ব্রাশ দিয়ে দাঁত ঘষা, কয়লা-ছাই ব্যবহার, অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস্ট্রিক এসিডিটি, দাঁত দিয়ে সুতা কাটা ইত্যাদি থেকে দাঁতের স্তর ক্ষয় হয়ে শিরশির করতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শে কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ছাড়া দুধদাঁতের যতœ সঠিক সময়ে পড়লে স্থায়ী দাঁতের এলোমেলোর সম্ভাবনা কমে যায়।
