এবার ইফতার মাহফিলে ভাঙচুর, হাতাহাতি

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৩, ০৬:১২ এএম

এবার সুপ্রিম কোর্ট বারের ইফতার মাহফিলে হামলা ভাঙচুর, হাতাহাতি, ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট বার ভবনের দোতলায় আইনজীবীদের নির্ধারিত ১ ও ২ নম্বর হলে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সরকারপন্থি আইনজীবীরা এ ঘটনায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের দায়ী করেছেন। তবে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মধ্য মার্চে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি (সুপ্রিম কোর্ট বার) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারপন্থি ও বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা মুখোমুখি অবস্থানে। ইতিমধ্যে উচ্চ আদালতের একাধিক কর্মদিবসে আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল, হাতাহাতি, ডিম ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে।

গত ৩০ মার্চ জ্যেষ্ঠ কয়েকজন আইনজীবীর নেতৃত্বে আইনজীবীদের একপক্ষ নতুন করে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে। গত রবিবার সুপ্রিম কোর্ট বারের কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানের দিন আইনজীবীদের মধ্যে ডিম ছোড়াছুড়ি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

গতকাল সুপ্রিম কোর্ট বারের পক্ষে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট বার মিলনায়তনে ইফতার আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছিল অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটি। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিলনায়তন তালাবদ্ধ দেখা গেছে। দুপুর থেকেই বার ভবনের নিচে জড়ো হয়ে সরকারপন্থি আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সেøাগান ও মিছিল করতে থাকেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন গত নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) থেকে সভাপতি ও সম্পাদক পদে অংশ নেওয়া মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কুদ্দুস কাজল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব কায়সার কামাল, একই সংগঠনের সুপ্রিম কোর্ট বার ইউনিট শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল।

পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে সরকারপন্থি আইনজীবীরা বার ভবনের দোতলায় সভাপতি ও সম্পাদকের কক্ষের সামনে অবস্থান নেন। বিকেল ৪টার কিছু আগে বিএনপিপন্থিদের একটি মিছিল ভবনের ২ নম্বর হল অতিক্রম করার সময় ভেতরে থাকা টেবিল, চেয়ার ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়। এ সময় দুপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পরে ১ নম্বর হলে ভাঙচুর চলে। ভেতরের চেয়ার ও টেবিল তছনছ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সরকারপন্থি আইনজীবীরা সংঘবদ্ধ হয়ে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়ে মিছিল করেন। বিকেল ৫টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা তখন বার ভবনের নিচে অবস্থান নেন। এর কিছুক্ষণ পর ১ নম্বর হলে সুপ্রিম কোর্ট বারের ইফতার মাহফিল শুরু হয়। এতে অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন, সমিতির সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সম্পাদক আব্দুন নূর দুলাল, সাবেক সম্পাদক বশির আহমেদ অংশ নেন। তবে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ইফতার আয়োজন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বার ভবনের নিচে অবস্থান নিয়ে ইফতার সম্পন্ন করেন।

বিএনপিপন্থিদের আক্রমণের মুখে শামসুদ্দিন মানিক : সুপ্রিম কোর্ট বারের ইফতারে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে সন্ধ্যা ৬টার দিকে বার ভবনে নিচে আসেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। বার ভবনের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের হেনস্তা ও আক্রমণের শিকার হন তিনি। কয়েকজন আইনজীবী তার দিকে তেড়ে যান। সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় ওঠার সময় তার দিকে কয়েকটি বোতল ছুড়ে মারেন আইনজীবীরা। এ সময় তার বিরুদ্ধে সেøাগান দিতে দেখা যায় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের। একপর্যায়ে পুলিশি নিরাপত্তায় থাকায় শামসুদ্দিন মানিক ইফতার আয়োজনে পৌঁছান।

সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক আবদুন নূর দুলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ইফতার মাহফিলে প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের অন্য বিচারপতিদের আসার কথা ছিল। কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের আইনজীবীরা ভাঙচুর করে যে পরিস্থিতি তৈরি করেছেন, তাতে বিচারপতিরা আসতে পারেননি। আমরা বিএনপি-জামায়াতের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সুপ্রিম কোর্ট বার ইউনিট শাখার সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভাঙচুরের ঘটনা তাদের (সরকারপন্থি আইনজীবী) অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ঘটেছে। এ ঘটনায় আমাদের কেউ জড়িত নন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত