পঞ্চগড়ে গুজব ছড়িয়ে জেলা শহরের ধাক্কামারা গোলচত্বর এলাকায় ভাঙচুর ও লুটপাটে ক্ষতিগ্রস্ত স্টিলের রেলিং ও গ্রিল ২৮ দিনেও মেরামত বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখনো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে তিন রাস্তার কেন্দ্রস্থল গোলচত্বরের ট্রাফিক বক্স এবং বক্সের চারপাশের সিমেন্টের খুঁটি। এতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি সড়ক দুর্ঘটনার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ৩ জানুয়ারি পুলিশের সঙ্গে খতমে নবুওয়াত সমর্থকদের সংঘর্ষের পরদিন ৪ জানুয়ারি গুজব ছড়িয়ে শহরের ব্যাপক তান্ডব চালায় দুষ্কৃতকারীরা। তাদের একটি অংশ শহরের বিভিন্ন দোকান, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগসহ লুটপাট চালায়। তারা ট্রাফিক অফিসসহ দুটি ট্রাফিট বক্সেও ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। ধাক্কামারা গোলচত্বর এলাকায় ট্রাফিক বক্সের চারপাশে কয়েক লাখ টাকা খরচে ঘেরা দেওয়া স্টিলের রেলিং ও গ্রিল ভেঙে লুটপাট করে নিয়ে যায়। তাদের তান্ডবে সৌন্দর্যম-িত গোলচত্বর পরিণত হয় ধ্বংস স্তূপে। স্টিলের গ্রিল খুলে নিয়ে যাওয়ায় সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত সিমেন্টের পিলার মাঝেমধ্যেই রাস্তায় পড়ে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। ব্যাহত হয় যান চলাচলও। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়রা।
স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন বাবু বলেন, ‘আমি ধাক্কামারা গোল চত্বরের পাশ দিয়ে প্রতিদিন যাতায়াত করি। এটা জরুরিভাবে সংস্কারের প্রয়োজন। দুর্বৃত্তরা স্টিলের রেলিং খুলে নিয়ে গেলেও সিমেন্টের খুঁটিগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো মাঝেমধ্যে রাস্তার ওপর পড়ে যায়। এর মধ্যে আমি একটি খুঁটি রাস্তা থেকে সরিয়ে দিয়েছি।’
ধাক্কামারা এলাকার কলেজ শিক্ষক এসএম হাসিবুল ইসলাম বলেন, জেলার তিন উপজেলার সব রকম যানবাহন এই গোলচত্বর হয়েই চলাচল করে। কিন্তু ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর যখন তখন খুঁটিগুলো রাস্তায় ভেঙে পড়ছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গোলচত্বরটি সংস্কার অথবা মেরামতে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া দরকার।
পঞ্চগড় সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘শহরের ধাক্কামারা গোলচত্বর এলাকাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের। আমরা শুধু গোলচত্বরের ভিটা করে দিয়েছি। কিন্তু চত্বরের গ্রিল বা রেলিংসহ সৌন্দর্যবর্ধনে কাজ করেছে পঞ্চগড় পৌরসভা। এজন্য সংস্কার বা মেরামতকাজ পৌরসভাই করবে।
পঞ্চগড় পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় কিছু স্টিল উদ্ধার করা হয়। কিন্তু আমাদের প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের স্টিলের গ্রিল ও রেলিং লুটপাট করা হয়েছে। সেখানে পৌরসভার পক্ষ থেকে একটি ম্যুরাল করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এজন্য আপাতত সংস্কার কাজ শুরু করা হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ৩ মার্চ আহমদনগরে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক সালানা জলসা বন্ধের দাবিতে সম্মিলিত খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ পরিষদ সমর্থকরা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা। সংঘর্ষে দুই যুবক মারা যান। পরে ঘোষণা দিয়ে জলসা বন্ধ করা হলেও পরদিন গুজব ছড়িয়ে আবারও আহমদিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের বাড়িঘর ও শহরে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়।
