রাঙ্গাবালীতে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, নন্দীগ্রামে অগ্নিসংযোগ

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৩, ১১:৫৯ পিএম

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে গত শুক্রবার রাতে দুর্বৃত্তদের হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই রাতে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

নন্দীগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন আদর বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার (গতকাল) অবস্থান কর্মসূচি ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানের জন্য থানা থেকে অনুমতি নিতে সব নেতাকর্মী সেখানেই ছিলাম। শনিবারের ইফতারির খাবার রান্নার জন্য শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে অফিসে তিনজন আদা, রসুন ও পেঁয়াজ বাটছিল। এ সময় মুখ বাঁধা অবস্থায় কয়েকজন অফিসে ঢুকে পেট্রল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় ও চেয়ার ভাঙচুর করে। আগুনে অফিসের চেয়ার ও ব্যানার পুড়ে গেছে।

নন্দীগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইন্সপেক্টর তানভীর হাসান বলেন, খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। এর আগেই আগুন নেভানো হয়েছে। একটি চেয়ার ও একটি ব্যানার পুড়ে গেছে। সেখানে পেট্রলের গন্ধ ছিল।

নন্দীগ্রাম থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনা শুনেছি। এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

বিএনপির দাবি, উপজেলা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃত্বে এ হামলা হয়েছে। উপজেলার বাহেরচরবাজার নতুন ব্রিজসংলগ্ন এলাকার ওই কার্যালয়ে হামলা করে তারা। এ সময় চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করা হয়। ভেঙে ফেলা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং জিয়াউর রহমানের ছবি।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুর রহমান ফরাজী বলেন, ‘আমাদের জনসমর্থন জানান দিতে শনিবার (গতকাল) কেন্দ্রঘোষিত গণ-অবস্থান কর্মসূচি রয়েছে। এটিকে বানচাল করার জন্য রাতের আধারে যুবলীগ-ছাত্রলীগ আমাদের অফিসে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জেলা পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান শিমুল, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে সাটার ভেঙে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনায়ক তারেক রহমান ও আমাদের নেতা এবিএম মোশাররফ হোসেনের ছবি এবং প্রায় একশ চেয়ার ভাঙচুর করা হয়েছে। তারপরও আমাদের কর্মসূচি বন্ধ হবে না। আমরা কর্মসূচি পালন করব।

উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মশিউর রহমান শিমুল বলেন, ’আমি তো এ বিষয়ে কিছুই জানি না।’ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান আরিফ বলেন, ‘ছাত্রলীগের কেউ এসব কাজ করেনি। এসব ভিত্তিহীন। বিএনপির কাজই মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়ানো।’

রাঙ্গাবালী থানার ওসি নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত