উপকরণের মূল্যবৃদ্ধিতে পাদুকা শিল্পে সংকট

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৩, ০৩:৫৩ এএম

পাদুকার ব্যাপক চাহিদার সত্ত্বেও তৈরির উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সংকটে পড়েছে কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পাদুকাশিল্প।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্যমতে, উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ৬ থেকে ৭ হাজার পাদুকা তৈরির কারখানা আছে। যার মধ্যে রপ্তানিমুখী ৩৫টি। এসব কারখানার এক লাখের বেশি শ্রমিকের মধ্যে ১৫ থেকে ২০ হাজার নারী। পাদুকার তৈরির বিভিন্ন  উপকরণ বিক্রির ব্যবসাসহ প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে উপজেলায় এই শিল্পে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ যুক্ত আছেন।

৬টি পাইকারি মার্কেট এবং ৫০টির বেশি পাদুকাশিল্প পল্লী নিয়ে এখানে গড়ে উঠেছে/একটি বড় কর্মবলয়।

রমজান মাসে পাদুকা উৎপাদন ও বিক্রি নিয়ে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকেন এখানকার মালিক-শ্রমিকরা। এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা এই মৌসুমের আয় দিয়ে সারা বছর জীবিকা নির্বাহ করেন।

কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপটে তাদের কাছে ভিন্ন। উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে তারা চাহিদা মতো পাদুকা উৎপাদন করতে পারছেন না। ফলে পাইকার ধরে রাখতে পারছেন না। আর ভরমৌসুমে পাইকারের চাহিদা মতো পণ্য সরবরাহ না দিতে পারলে, সেই বিমুখ পাইকারের কাছে আর পরে পণ্য বিক্রি করা যাবে না। আগের বকেয়াও আদায় করা কঠিন হয়ে পড়বে। এতে শ্রমিকদের পাওনাও মেটানো যাবে না।

শহরের কমলপুর এলাকার কারখানা মালিক আতাউর মিয়া বলেন ‘গত দুই থেকে তিন বছর করোনা ভাইরাসের প্রভাবে ভৈরবের পাদুকা শিল্পে ধ্বস নামে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় আমাদের মতো ছোট কারখানার মালিকরা। করোনা-পরবর্তী এই মৌসুমে বিপুল চাহিদা সত্ত্বেও বিভিন্ন উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ঠিকমতো পাদুকা উৎপাদন করতে পারছি না।

মুসলিমের মোড় এলাকার কারখানা মালিক সবুজ মিয়া বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতে সব উপকরণের দাম ৮০ থেকে ১০০ ভাগ বেড়েছে। কিন্তু বাজারে পাদুকার দাম তো সেই অনুযায়ী বাড়েনি। ফলে আমরা উৎপাদন ব্যয় আর বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েছি।

গোধূলি সিটি এলাকার কারখানাশ্রমিক বশির, ফুলমিয়া পাদুকাপল্লীর রমজান মিয়া এবং গাছতলাঘাট এলাকার ময়না ও রেশমা বেগম জানান, তাদের মজুরি দুই থেকে তিন বছর আগে যেমন ছিল, এখন তেমনই আছে। অথচ জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ফলে তাদের জীবনযাপন কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

তারা আরও জানান, একজন পুরুষ শ্রমিক গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরি পান। আর একজন নারী পান ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এই টাকায় তিন থেকে চার জন বা এর অধিক সদস্যের পরিবার কীভাবে চলতে পারে?

ভৈরব পাদুকা কারখানা মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আলামিন মিয়া বলেন ‘এ মুহূর্তে বাজার পরিস্থিতি ভালো নয়। বিশেষ করে চীন  থেকে আমদানি করা পাদুকা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ যেমন-চামড়া,  রেক্সিন, হিল, সুতা, ফোম, কভার, পেস্টিং, আঠার মূল্য দ্বিগুণ বেড়েছে। ফলে এর সরাসরি প্রভাব উৎপাদনের ওপর পড়েছে। ফলে পাদুকা কারখানার মালিক-শ্রমিকরা মহাসংকটে পড়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাদিকুর রহমান সবুজ বলেন, বিরূপ বৈশি^ক অবস্থার কারণে সব ক্ষেত্রেই মন্দাভাব পড়েছে।  সেক্ষেত্রে পাদুকাশিল্পও বাদ যায়নি। যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্ষুদ্র পাদুকা কারখানার মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ব্যাপারে কেউ যোগাযোগ করলে উপজেলা প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করতে বদ্ধপরিকর।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত