চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও জেলা যুবলীগের নেতা খাইরুল আলম জেমকে (৫০) প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের উদয়ন মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে রড দিয়ে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে জখম করে আহত করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জেমকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি শিবগঞ্জ পৌর এলাকার মরদানা এলাকার মাইনুল আহসান এডু মাস্টারের ছেলে। নিহত জেম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা যুবলীগের সাবেক সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সদস্য। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সন্ধ্যায় শহরের উদয়ন মোড়ে খাইরুল আলম জেম ইফতারি কেনার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে চলে যায়।
উদয়ন মোড়সংলগ্ন জিয়া নগরের বাসিন্দা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর যুবলীগের সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম শহিদ বলেন, ‘উদয়ন মোড়ে ইফতারি কিনে জেমের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলার বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইফতারি কিনতে উদয়ন মোড় এলেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেসবাহুল হক টুটুলের নেতৃত্বে ছয়-সাত সন্ত্রাসী চাকুসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে এসে তাকে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে আহত করে। আমি চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে এসে দেখি রক্তাক্ত অবস্থায় জেম পড়ে রয়েছে। পরে স্থানীয়দের নিয়ে তাকে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাত্র কয়েক দিন আগে নিজের প্রাণহানির শঙ্কা প্রকাশ করে ফেসবুকে লাইভ করে আজ (গতকাল) তিনি (জেম) সন্ত্রাসীদের হাতে মারা গেলেন।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিরা খাতুন জানান, সন্ধ্যায় গুরুতর অবস্থায় খাইরুল আলম জেমকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার দেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের অনেক চিহ্ন ছিল। চিকিৎসকরা চিকিৎসা দেওয়ার মধ্যেই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি মারা যান।
এদিকে যুবলীগ নেতা জেমের মৃত্যুর সংবাদ শুনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওদুদ হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে খাইরুল আলম জেমকে হত্যা করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোখলেসুর রহমান ও গত সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিউল হক লিটনের নির্দেশে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা জেমকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। ডিআইজি নুরুল (ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম) দীর্ঘদিন ধরে তাকে (জেমকে) মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিলেন, ক্রসফায়ারে দেওয়ার হুমকি দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের দুর্বলতার কারণে সন্ত্রাসীরা একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটাচ্ছে। কদিন আগে লাভাঙ্গায় হত্যাকান্ড ঘটানোর পর আবারও হত্যাকা- ঘটল। সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। যেকোনো কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ আমাদের নিরাপত্তা দিতে, আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।’
অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে উদয়ন মোড়ে জেমের ওপর হামলা করে জখম করা হয়। তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে তিনি সেখানে মারা যান। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত করে জড়িতদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
সন্ধ্যায় জেমের মৃত্যুর সংবাদ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে এসে তারা জমায়েত হন। সন্ধ্যার পর জেম হত্যার বিচার দাবি করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরে যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। এ ঘটনার পর শহরের দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
