‘খুন গুমের’ শিকার হাজার পরিবারের পাশে বিএনপি

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৩, ১২:৫০ এএম

গত ১৫ বছর ধরে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে ‘খুন-গুম’, নির্যাতন, হামলা, মামলার শিকার ও কারাবন্দি প্রায় এক হাজার নেতাকর্মীর পরিবারকে এবারও ঈদের উপহার সামগ্রী দিয়েছে বিএনপি। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হয়ে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের পক্ষ থেকে তাদের নিজ নিজ এলাকার নেতাকর্মীদের পরিবারের মধ্যে এসব উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। ঈদের দিন ও পরেরদিন জ্যেষ্ঠ নেতারা কারাবন্দি নেতাদের পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে তাদের বাসায় যাবেন।

এদিকে দেশবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে এই শুভেচ্ছা জানান দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বেশিরভাগ জ্যেষ্ঠ নেতা ঢাকায় ঈদ করবেন। কেউ কেউ ঈদের আগেই নিজ এলাকা ঘুরে এসেছেন। কেউ আবার ঈদের পরদিন নিজ নিজ এলাকায় যাবেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। এছাড়া গুম ও খুন হওয়া নেতাকর্মীদের বাড়িতে উপহার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। কারাবন্দি নেতাদের বাসায় পরিবারের সদস্যদের জন্যও ঈদ উপহার পাঠানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন চেয়ারপারসনের অনুমতি সাপেক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা তার বাসভবন ফিরোজায় যাবেন ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে।’  

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রয়াত ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান তাদের দাদির সঙ্গে ঈদ করতে গতকাল দুপুরে ঢাকায় এসেছেন। ঈদ উদযাপন শেষে মায়ের সঙ্গে যুক্তরাজ্য ফিরে যাবেন তারা। গত ২১ মার্চ কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি দেশে আসেন। তিনি গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় ওঠেন। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত ৭৮ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেখতেই ঢাকায় এসেছেন তিনি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ২২ আগস্ট থেকে জ্বালানি তেলসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে সারা দেশে বিএনপি জেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এরপর গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার গোলাপবাগে ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করে বিএনপি। এ আন্দোলনে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ১৭ জন নেতাকর্মী নিহত হন। তাদের প্রত্যেকের বাড়িতে উপহার সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ঈদের দিন ও পরেরদিন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় এবং জেলা নেতারা সরকারবিরোধী আন্দোলনে কারান্তরীণ নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাৎ করে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। ইতিমধ্যে জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন এবং পরবর্তী দুই দিন এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’

ঈদের শুভেচ্ছা উপহার : গত ১৫ এপ্রিল বুধবার গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘খুন-গুম’, নির্যাতন ও মামলার শিকার এবং কারাবন্দি নেতাকর্মীদের পরিবারের মধ্যে ঈদের উপহার সামগ্রী হস্তান্তরের কার্যক্রম শুরু হয়। এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল। ওইদিন ১০/১২ জনের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়। এরপর ১৬ এপ্রিল থেকে বাকি পরিবারের বাড়িতে সশরীরে গিয়ে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া শুরু করেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এর জন্য সারা দেশকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করে ঈদের আগেই এসব উপহার সামগ্রী সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছানো হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এ উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।

সমমনা দলের নেতাদের ঈদের শুভেচ্ছা : রাজপথে সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর এটাই প্রথম ঈদ। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। এছাড়া বিএনপির পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী নেতাদের ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড পাঠানো হয়েছে। এছাড়া রমজানে একে অপরের সম্মানে ইফতার পার্টি দিয়েছেন এবং তাতে দলগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন। প্রথমবারের মতো জাতীয় পার্টির ইফতারে যেমন বিএনপি নেতারা অংশ নেন তেমনি বিএনপির ইফতারে অংশ নেন জাতীয় পার্টির নেতারা।

বিএনপি নেতারা যে যেখানে ঈদ করবেন : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার ঢাকায় ঈদ করবেন। স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন নিজ নির্বাচনী এলাকা কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঈদ করবেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম, সালাউদ্দিন আহমেদ সস্ত্রীক ভারতে, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে থাকায় সেখানেই ঈদ করবেন। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ অন্যরা ঢাকায় ঈদ করবেন। ভাইস-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রামে ও বরকত উল্লাহ নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীতে যাবেন। মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, মোহাম্মদ শাহজাহান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ঢাকায় ঈদের নামাজ আদায় করে পরে এলাকায় যাবেন। ঈদের দিন সকাল ১১টায় শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত ও দোয়া করবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত