যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রভাব পড়বে না

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৩, ০৫:৫৬ এএম

ইউক্রেনে হামলার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রসাটমের নাম রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধানে পাবনার রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলছে।

এর আগে এক রুশ জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কিছু সরঞ্জাম পেতে প্রায় তিন মাস দেরি হয়েছে। এখন নতুন করে ওয়াশিংটনের ওই নিষেধাজ্ঞার ফলে দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ যথাসময়ে শেষ হওয়া নিয়ে অনেকে সংশয় পোষণ করলেও রসাটমের দাবি এতে প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটবে না।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে রসাটম জানিয়েছে, ‘রসাটমের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাতে বাংলাদেশে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি সরবরাহ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ সফলভাবে শেষ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

মস্কোকে আরও চাপে ফেলার কৌশল হিসেবে গত ১২ এপ্রিল রাশিয়ার ৮০ প্রতিষ্ঠান ও একক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রসাটমের সংশ্লিষ্ট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান এবং রসাটম ওভারসিসের প্রেসিডেন্ট ইভজেনি পাকেরমানভের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে ওই তালিকায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম সরাসরি না থাকলেও যেসব প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের মালামাল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ফলে পরোক্ষভাবে এক ধরনের চাপ থেকে যাচ্ছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরমাণু শক্তি কমিশন বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের  জেনারেল ডিজাইনার ও কন্ট্রাক্টর রাশিয়ার রসাটম করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা।

বাংলাদেশের একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বড় অবকাঠামো এই বিদ্যুৎ প্রকল্পের দুটি ইউনিটে থাকছে ৩+ প্রজন্মের রুশ ভিভিইআর রিয়্যাক্টর, যেগুলো সব আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চাহিদা পূরণে সক্ষম। বাণিজ্যিকভাবে এই কেন্দ্রের আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ৬০ বছর। ইতিমধ্যে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ ৭০ শতাংশেরও বেশি শেষ হয়েছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৪ সালে এবং এর পরের বছর দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ১২০০  মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পে রাশিয়া ৯১ হাজার ৪০  কোটি টাকা ঋণ সহায়তা দেবে এবং বাংলাদেশ সরকার দেবে ২২ হাজার ৫২ কোটি ৯১ লাখ ২৭ হাজার টাকা।

পাবনায় পদ্মা নদীর পাড়ে ঈশ^রদীর রূপপুরে ২০১৭ সালের নভেম্বরে দেশের প্রথম এই পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত