যুদ্ধবিরতির সময় বাড়লেও লড়াই থামেনি সুদানে

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৩, ০১:৩৭ এএম

সুদানে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষের আগ মুহূর্তে তা নবায়ন করে আরও তিনদিন বাড়াতে রাজি হয়েছে ক্ষমতার লড়াইয়ে লিপ্ত দুইপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাতিসংঘসহ সুদানের প্রতিবেশী দেশগুলোর কূটনৈতিক চেষ্টার ফলে দুইপক্ষ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৭২ ঘণ্টা বাড়িয়েছে।

কিন্তু যুদ্ধবিরতির সময় বাড়লেও রাজধানী খার্তুমে দুইপক্ষের মধ্যে তুমুল লড়াই চলার খবর পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটি বলছে, তুরস্কের নাগরিকদের উদ্ধার করতে সে দেশের একটি উদ্ধারকারী উড়োজাহাজেও গুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং জ¦ালানি ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উড়োজাহাজটি নিরাপদেই ওয়াদি সিনদা বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করতে সক্ষম হয়েছে।

সুদানের সামরিক বাহিনী তাদের প্রতিপক্ষকে এ জন্য দায়ী করে বলেছে, আরএসএফ যোদ্ধারাই ওই উড়োজাহাজে গুলি করেছে। তবে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, জরুরি মানবিক প্রয়োজনে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির যে প্রতিশ্রুতি তারা দিয়েছে সেটি এখনো অবিচল আছে

বিবিসি বলছে, আগের যুদ্ধবিরতিতে হাজারো মানুষ নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এ সময় বেশ কিছু দেশ তাদের নাগরিকদেরও সুদান থেকে সরিয়ে নেয়।

গত ১৫ এপ্রিলে সুদানে সশস্ত্র বাহিনী এসএএফ ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ এর মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে ৪০০ বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে হাজারো মানুষ। এ লড়াইয়ে রাজধানী খার্তুম ও আশপাশের আবাসিক এলাকাগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে হাসপাতাল ও অন্যান্য পরিষেবা। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক ত্রাণ কাজ সহজ করতে দুপক্ষ ৭২ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতিতে রাজি হয়েছিল। সুদানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেই সুদানের সেনাবাহিনী আরেক দফায় ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর প্রতিপক্ষ আরএসএফও যুদ্ধবিরতি নবায়নে রাজি হয়।

দুইপক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে দক্ষিণ সুদান। এ আলোচনায় প্রতিনিধি পাঠাতে রাজি হয়েছে সুদানের সেনাবাহিনী।

তিক্ত অতীত এবং বছরের পর বছরের সংঘাতের পর ২০১১ সালে সুদানের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল দক্ষিণ সুদান। তারপরও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক এখন বন্ধুত্বপূর্ণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত