সুদানে চলমান সংঘাতের কারণে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমাগী ৩ বা ৪ মের মধ্যে নিবন্ধিত সাত শতাধিক বাংলাদেশি সৌদি আরব পৌঁছে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। নৌপথে তাংেদর সৌদি আরবে নেওয়ার পর জেদ্দা থেকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে দেশে আনা হবে।
গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, প্রায় দুই সপ্তাহজুড়ে সুদানে সেনাবাহিনী এবং আধা সামরিক বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ চলছে। এ পরিস্থিতিতে দেশটি থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ বাংলাদেশি দেশে ফেরার জন্য নিবন্ধন করেছেন। সুদানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি রয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আটকে পড়া এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে চেয়ারপারসনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এখানে তার কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর তার সর্বশেষ স্বাস্থ্যগত অবস্থা নিয়ে কথা বলতে পারব। চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন।’
হাসপাতালে নেওয়ার আগে খালেদা জিয়ার বাসভবন ফিরোজায় তার সঙ্গে দেখা করে সালাম জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটি সদস্য জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খান।
খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। অসুস্থতা বাড়লে মাঝেমধ্যে তাকে হাসপাতালে নিতে হয়। গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছিল।
তাকে হাসপাতালে ভর্তির পর অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদিক) জানেন। কিছুদিন ধরে ওনার লিভারের জটিলতা ছিল। সেটা আছে। ওনার হার্টের জটিলতা ছিল। সর্বোপরি বাইরে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য এখানকার মেডিকেল বোর্ড পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু কেন নিতে পারেননি, সেটা আপনারাও জানেন, দেশবাসীও জানে। যেহেতু ওনার সঠিক চিকিৎসা করা যাচ্ছে না, তাই ওনাকে এখানে ভর্তি করা হয়েছে। ওনার সর্বশেষ আর কী সুযোগ আছে চিকিৎসা করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে, সে বিষয় নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে এখানে। যাতে ওনার অবস্থার খারাপের দিকে না যায়। সে জন্য পরীক্ষার পরে একটি ধারণা নিয়ে মেডিকেল বোর্ডের আলোচনা করে পরে কী করণীয়। চিকিৎসা বিষয়ে মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত দেবে। ইতিমধ্যে মেডিকেল বোর্ডের কয়েকজন সদস্য ওনাকে পরীক্ষা করেছেন। চিকিৎসা শুরু হয়েছে।’
‘বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ এবং বিদেশে যেতে পারবেন নাÑ আগের এই দুই শর্তে খালেদা জিয়ার দন্ডাদেশ আরও ছয় মাস স্থগিত করা হয় ১৯ মার্চ। ২৫ মার্চ থেকে এই নির্দেশ কার্যকর হয়।
দুই মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া কারাবন্দি ছিলেন। নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার দ- স্থগিত রয়েছে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদ- দেন বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালত। রায় ঘোষণার পর খালেদাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডে অবস্থিত পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রাখা হয়। এরপর ৩০ অক্টোবর এই মামলায় আপিলে তার আরও পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে হাইকোর্ট।
