খরা ও অনাবৃষ্টিতে চা উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা

আপডেট : ১২ মে ২০২৩, ১২:৪৫ এএম

বৈশাখ মাস ঝড়, বৃষ্টি আর কালবৈশাখীর মাস হলেও এ বছর তার কিছুরই দেখা মিলছে না। বৃষ্টি না হওয়ায় দীর্ঘ খরার কবলে পড়েছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের  চা বাগানগুলো। মার্চ মাস থেকে সাধারণত শুরু হয় চা মৌসুম। এ সময়ে নতুন কুঁড়ি ও পাতা চলে আসে। কিন্তু এ বছর অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে মে মাসেও গাছে আসছে না নতুন কুঁড়ি। এতে চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

সরেজমিনে শ্রীমঙ্গলের কয়েকটি চা বাগান ঘুরে দেখা যায়, অতিরিক্ত খরার কারণে অনেক গাছ জ্বলে যাচ্ছে। বাগানের লেক ও ছড়া থেকে কৃত্রিম উপায়ে পানি উত্তোলন করে দেওয়া হচ্ছে গাছগুলোতে। নার্সারিতে দেওয়া হচ্ছে শেড। চা পাতা চয়নকারী শ্রমিকরা অতিরিক্ত গরমের কারণে বেশিক্ষণ কাজ করতে পারছেন না। অল্প কিছুক্ষণ কাজ করে আবার গাছের নিচে বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। মে মাসে বাগানগুলোতে চা পাতায় ভরপুর থাকার কথা, অথচ এবারের চিত্র পুরাই ভিন্ন। বাগান কর্তৃপক্ষ বলছে, এভাবে চলতে থাকলে আশানুরূপ উৎপাদন সম্ভব নয়।

উপজেলার ক্লোনেল চা বাগানের ব্যবস্থাপক রনি ভৌমিক বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমের কারণে লাল মাকড়সার উপদ্রব খুব বেড়েছে। তাছাড়া পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় প্রয়োজন মতো পানিও দেওয়া যাচ্ছে না। এসব কারণে উৎপাদনও অনেক কম হচ্ছে।’

জেরিন চা বাগানের সর্দার অর্জুন স্বর্ণকার বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমের কারণে শ্রমিকরা একটানা কাজ করতে পারে না। অল্প সময় কাজ করে বিশ্রাম নিতে হয়। ফলে শ্রমিকরাও বেশি পাতা উত্তোলন করতে পারছে না।’

বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক এ কে এম রফিকুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বেশি তাপমাত্রা চা বাগানের জন্য ভালো না। বৃষ্টি না হওয়া ও তাপমাত্রা বেশি থাকায় চা গাছ খাদ্য তৈরি করতে পারছে না। এ কারণে চায়ের কুঁড়ি বের হচ্ছে না। চায়ের উৎপাদন ধরে রাখতে চা গাছে সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। চা বাগানে টি শেড লাগাতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত