জালিয়ানওয়ালাবাগ ও অনুশোচনাহীন এক জেনারেল

আপডেট : ১২ মে ২০২৩, ০১:২৯ এএম

ঔপনিবেশিক শাসনামলে জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড স্তব্ধ করে দেয় বিশ্বকে। ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা রেজিনাল্ড এডওয়ার্ড হ্যারি ডায়ার হাজারো নিরস্ত্র মানুষকে গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর তার নাম হয় ‘অমৃতসরের কসাই’। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া 

গণহত্যা

১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল। ব্রিটিশশাসিত ভারত সেদিন প্রত্যক্ষ করে ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ নৃশংসতা। পাঞ্জাব রাজ্যের অমৃতসর শহরে ব্রিটিশ এক সেনা কর্মকর্তার নির্দেশে ওই দিন হত্যা করা হয় শত শত মানুষকে। ভয়াল ১৩ এপ্রিলের ঘটনায় শিহরিত হয় বিশ্বের মানুষ। ঔপনিবেশিক শাসন কতটা নিষ্ঠুর হতে পারে, এই শাসনব্যবস্থায় শোষিতদের যে মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয় না, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙা কতটা জরুরি ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল ফের উপলব্ধি করে ভারতের স্বাধীনতাকামী মানুষ। অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগ নামে এক উদ্যানে সেদিন স্বাধীনতা সংগ্রামীরা জড়ো হয়েছিলেন। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজিনাল্ড এডওয়ার্ড হ্যারি ডায়ার তার সেনাদের জালিয়ানওয়ালাবাগে জড়ো হওয়া নারী, পুরুষ ও শিশুদের নির্বিচারে গুলি করার নির্দেশ দেন। জালিয়ানওয়ালাবাগ এমন এক জায়গায় অবস্থিত যেখান থেকে মানুষের পালানোর পথ ছিল না। ওই উদ্যানের ভেতরে এক জায়গায় একটি কুয়া ছিল। গুলি থেকে বাঁচতে উপায় না দেখে আতঙ্কিত মানুষ সেই কুয়াতেই ঝাঁপ দিয়েছিল সেদিন। ব্রিটিশদের তথ্য অনুযায়ী, ওইদিন প্রায় ৪০০ মানুষের মৃত্যু হয়। নয় বছরের এক শিশু ছিল নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে কমবয়সী আর সবচেয়ে প্রবীণ ব্যক্তির বয়স ছিল ৮০। ব্রিটিশ শাসকরা জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডে ৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার দাবি করলেও ভারতীয় ইতিহাসবিদরা মনে করেন, ডায়ারের নির্দেশে সেদিন কমপক্ষে এক হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের আগে এবং পরে ব্রিটিশরা যে ভারতীয়দের নৃশংসভাবে হত্যা করেনি, তা নয়। কিন্তু পাঞ্জাবের অমৃতসর শহরে ডায়ার স্বাধীনতাকামী বেসামরিক নাগরিকদের দমনের যে পরিকল্পনা করেছিলেন এবং যেভাবে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন, তা স্তব্ধ করে দেয় বিশ্ববাসীকে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওঠে নিন্দার ঝড়।

কী হয়েছিল সেদিন

১৩ এপ্রিল বৈশাখ মাসের প্রথম দিন। এ ছাড়া ওই সময় কৃষকরা তাদের শীতকালীন ফসল ঘরে তোলেন। এই দুই উপলক্ষে ভারতের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমের মানুষ বিশেষত হিন্দু ও শিখরা দীর্ঘদিন ধরে ১৩ এপ্রিলকে উৎসবের দিন হিসেবে উদযাপন করে আসছে। এ ছাড়া ১৯১৯ সালের ওই সময় রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ব্রিটিশদের হটাতে ভারতীয়দের স্বাধীনতা আন্দোলন দিনকে দিন বেগবান হচ্ছিল। ১৩ এপ্রিল ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতিবাদে ও ওই সময় ব্রিটিশদের পাস করা রোলাট আইন বাতিলের দাবিতে জালিয়ানওয়ালাবাগে বিক্ষোভ সমাবেশে তারা একত্রিত হন। ওই রোলাট আইনে ভারতীয়দের নাগরিক অধিকার খর্ব করার পাশাপাশি কোনো ধরনের পরোয়ানা ছাড়াই ঔপনিবেশিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভারতীয়দের গ্রেপ্তার করার অনুমতি দেওয়া হয়। রোলাট আইনের একটি ধারা নিয়ে নির্বাচিত ভারতীয় প্রতিনিধিদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তা আইন পরিষদে পাস করানো হয়। এ নিয়ে ভারতীয়রা ক্ষোভে ফুঁসছিল। রোলাট আইন বাতিলের দাবিতে দিল্লি, বোম্বে (বর্তমানে মুম্বাই), লাহোরসহ বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা মহাত্মা গান্ধী অহিংস শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেরও ডাক দেন। রোলাট আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন পাঞ্জাবের দুই আলোচিত রাজনৈতিক নেতা ড. সত্যপাল ও ড. সাইফুদ্দিন কিচলু। একপর্যায়ে ১৯১৯ সালের ১১ এপ্রিল লাহোর ও অমৃতসরে সামরিক শাসন জারি করেন ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা স্যার মাইকেল ও’ডোয়ায়ার। অমৃতসরে সামরিক শাসন জারির পাশাপাশি সেখানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডায়ারকেও পাঠান তিনি। ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল ছিল রবিবার। সেদিন ডায়ারের নির্দেশে সেনারা ঘরের বাইরে চারজনের বেশি জড়ো না হওয়ার জন্য লোকজনকে সতর্ক করতে থাকে। কিন্তু সেনাদের সেই সতর্কবার্তা অমৃতসরের বেশির ভাগ মানুষের কাছে যায়নি। ফলে অন্য বছরের বৈশাখী উৎসবের মতো ওই দিনও অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরের (শিখদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্দির) দিকে ভক্তরা যেতে শুরু করেন। অন্যদিকে বিকেল ৪টার মধ্যে ড. সত্যপাল ও ড. কিচলুর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানাতে পূর্বনির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে বহু মানুষ জালিয়ানওয়ালাবাগে সমবেত হয়। এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়। ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা স্যার মাইকেল ও’ডোয়ায়ার ১১ এপ্রিল বিভিন্ন শহরে সামরিক শাসন জারির নির্দেশ দিলেও অমৃতসরে তার ওই নির্দেশ পৌঁছাতে দেরি হয়। তিন দিন পর ১৪ এপ্রিল শহরটির কর্র্তৃপক্ষ সামরিক শাসন জারির নির্দেশ পায়। এ কারণে স্বর্ণমন্দির বা জালিয়ানওয়ালাবাগে জড়ো হওয়া সমস্যা মনে করেনি শিখ উপাসক বা বিক্ষোভকারীরা। তাদের ওই কর্মকাণ্ডকে ডায়ার দেখেন শিখদের সরকারি নির্দেশ লঙ্ঘন হিসেবে।

১৩ এপ্রিল বিকেলে এক সরু গলি দিয়ে সেনাদের সঙ্গে নিয়ে জালিয়ানওয়ালাবাগে প্রবেশ করেন ডায়ার। উদ্যানে ঢোকা ও বেরোনোর সেটিই ছিল একমাত্র পথ। ডায়ারের সঙ্গের ২৫ জন গোর্খা ও ২৫ জন বালুচ সেনার কাছে রাইফেল ছিল। বাকি ৪০ গোর্খা সেনার কাছে কেবল কুকরি (নেপালি ছোড়া) ছিল। আর জালিয়ানওয়ালাবাগের ভেতরে ছিল প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার মানুষ। পরে এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘জনতাকে ছত্রভঙ্গ হওয়ার কোনো নির্দেশ দেননি ডায়ার, কারণ তিনি মনে করেছিলেন, যেহেতু তারা তার নির্দেশ অমান্য করে সমবেত হয়েছে, সে ক্ষেত্রে ওই নির্দেশনার কোনো অর্থ হয় না। ডায়ার তার সেনাদের গোটা উদ্যান ঘিরে ফেলতে বলেন এবং একপর্যায়ে জনতাকে গুলি করার নির্দেশ দেন। টানা প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলে গুলিবর্ষণ। ভিড়ের মধ্যে কারোর কাছে আগ্নেয়াস্ত্র না থাকলেও কয়েকজনের হাতে লাঠি থাকতে পারে।’ সেনারা সব মিলে সেদিন ১ হাজার ৬৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ওই ঘটনার পর তদন্ত প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ৩৭৯ বলা হয়। আহতদের সংখ্যা সেখানে উল্লেখ করা ছিল না। অনেকের মতে, ওই প্রতিবেদনে উল্লিখিত নিহতের সংখ্যার চেয়ে তিন গুণ মানুষকে হত্যা করেছিলেন ডায়ার। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতীয় রাজনৈতিক নেতারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নোবেলজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওই ঘটনার প্রতিবাদে নাইটহুড উপাধি ত্যাগ করেন।

কে ছিলেন ডায়ার

১৮৫৪ সালে পাঞ্জাবের মুরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন ডায়ার। ১৮৮৫ সালে ওয়েস্ট সুরে রেজিমেন্টে সেনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন তিনি। পরে তাকে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে বদলি করা হয়। ১৮৮৬-৮৭ সালে ডায়ার মিয়ানমারে ছিলেন। এরপর তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে (১৯১৪-১৮) অংশ নেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডায়ার কে ছিলেন, কর্মজীবনে তিনি কেমন ছিলেন এসব প্রশ্ন জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের পর উঠে আসে। জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনাতেই যে কেবল তিনি নৃশংসতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তা নয়। এর পরও তাকে অমানবিক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের কয়েকদিন আগে ১৯১৯ সালের ১০ এপ্রিল মারসেলা শেরউড নামে এক ধর্মপ্রচারক অমৃতসরের এক রাস্তায় সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ওই সময় তার ওপর হামলা হয়। স্থানীয়রা একপর্যায়ে তাকে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করে। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ছয় দিন পর শেরউডের ওপর হামলার ঘটনাটি জানতে পারেন ডায়ার। তিনি নির্দেশ দেন, যে রাস্তায় শেরউড হামলার শিকার হন, সে রাস্তা দিয়ে কেউ চলাফেরা করতে পারবে না। যাদের ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত খুব দরকার, তাদের হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হবে। নির্দেশ অমান্যকারীদের বেত্রাঘাত করা হবে।  

জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের ছয় মাস পর ১৯১৯ সালের ১৪ অক্টোবর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিকে কেবল জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনা নয়, একই সঙ্গে বছরটির শুরুতে বোম্বে, দিল্লি ও পাঞ্জাবে ঘটে যাওয়া নৈরাজ্য নিয়েও তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কমিটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন স্কটল্যান্ডের সাবেক সলিসিটর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম হান্টার। তার সঙ্গে কমিটিতে ছিলেন সাত সদস্য। উইলিয়াম হান্টারের নামানুসারে ওই কমিটিকে পরবর্তীতে হান্টার কমিটি বলা হয়। কমিটির প্রথম বৈঠক হয় ১৯১৯ সালের ২৯ অক্টোবর, দিল্লিতে। সেখানে ৮ দিন, লাহোরে ২৯ দিন, আহমেদাবাদে ৬ দিন ও বোম্বেতে ৩ দিন ধরে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে হান্টার কমিটি। ১৯২০ সালের ৮ মার্চ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৩ এপ্রিলের ঘটনায় নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডায়ারকে অনুতপ্ত হতে দেখা যায়নি। তিনি মনে করেন, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবিলায় তার গুলি করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। ডায়ার কমিটিকে বলেছিলেন, ‘পরিস্থিতি অনেক বেশি গুরুতর ছিল। আমি মনস্থির করেছিলাম, ভারতীয়রা যদি জালিয়ানওয়ালাবাগে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে, তাহলে আমি তাদের সবাইকে গুলি করে মারব।’ সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগের দরকার ছিল কি না, হান্টার কমিটির এই প্রশ্নের জবাবে ডায়ার বলেন, ‘সেদিন গুলি না করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ দিয়েই বিষয়টি শেষ করতে পারতাম। তারা হয়তো আমার নির্দেশে ছত্রভঙ্গ হতো। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, তারা সেখানে আবার জড়ো হতো আর আমাকে নিয়ে মজা করত, হাসাহাসি করত। তারা আমাকে আহাম্মক ভাবত। নিজেকে তাদের সামনে এভাবে উপস্থাপন করতে রাজি ছিলাম না।’ ডায়ার তদন্ত কমিটিকে আরও বলেন, ‘তারা (ভারতীয়রা) যদি আমার নির্দেশ না মানে, তাহলে তাদের আমার সঙ্গে লড়তে হবে। আমি তাদের শিক্ষা দিতে সেখানে (জালিয়ানওয়ালাবাগ) গিয়েছিলাম। আমি তাদের শাস্তি দিতে গিয়েছিলাম। আমি যে একজন যোগ্য সামরিক কর্মকর্তা, তা দেখাতে চেয়েছিলাম।’ ডায়ার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে হান্টার কমিটি জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানায়। একই সঙ্গে তাদের প্রতিবেদনে ডায়ারের পক্ষ নিয়ে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে আফগান যুদ্ধে জেনারেল ডায়ারের বীরত্বপূর্ণ অবদানের কথা ভুলে গেলে চলবে না। ১৩ এপ্রিল জালিয়ানওয়ালাবাগে তিনি গুলি করার যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা কঠোর, তবে ভুল ধারণা থেকে উৎসারিত হয়েছিল। ঘটনার চূড়ান্ত প্রভাব বিবেচনায় তার নির্দেশ ক্ষতিকর হলেও বিশৃঙ্খল শক্তিকে থামাতে তা সহযোগিতা করেছিল।

ডায়ারের পরিণতি

হান্টার কমিটি জালিয়ানওয়ালাবাগ গণহত্যার নিন্দা জানালেও ডায়ারকে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়ার সুপারিশ করেনি। সেনাপ্রধান ডায়ারকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন এবং তাকে এও জানানো হয়, ভারতে তিনি আর কোনো চাকরি করতে পারবেন না। ডায়ার পদচ্যুত হলেও ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের জন্য তার ব্যাপক প্রশংসা করে। যুক্তরাজ্যের রক্ষণশীল পত্রিকা ও সংস্থাগুলো পরবর্তী সময় ডায়ারের জন্য তহবিল গঠন করে এবং সেই তহবিলে প্রচুর অর্থ জমা পড়ে। জীবনের শেষ সময়ে কয়েকবার স্ট্রোক হয় ডায়ারের। একপর্যায়ে তিনি পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন এবং কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। ১৯২৭ সালের ২৩ জুলাই মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তার। কথিত আছে, মৃত্যুশয্যায় তিনি বলেছিলেন, ‘অমৃতসরের পরিস্থিতি যারা জানতেন, তাদের অনেকে বলেছেন, আমি ঠিক কাজই করেছিলাম। অনেকে আবার মনে করেন, আমার পদক্ষেপ ভুল ছিল। আমি কেবল মারা যেতে চাই এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে জানতে চাই, আমি ঠিক করেছিলাম না ভুল করেছিলাম।’

১৯৪০ সালে ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তা মাইকেল ও’ডোয়ায়ার যিনি ১৯১৯ সালের ১১ এপ্রিল লাহোর ও অমৃতসরে সামরিক শাসন জারি করেছিলেন, তাকে লন্ডনে হত্যা করেন সর্দার উধম সিং নামে এক পাঞ্জাবি। জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের দিন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং কোনোমতে পালিয়ে বেঁচেছিলেন। উধম সিং তার ব্যক্তিগত ডায়রিতে মাইকেল ও’ডোয়ায়ারকে বারবার ডায়ার হিসেবে উল্লেখ করেন। ধারণা করা হয়, ডোয়ায়ার ও ডায়ার এই দুই কাছাকাছি নামধারী ব্যক্তিকে গুলিয়ে ফেলেছিলেন উধম সিং। এ কারণে গণহত্যাকারী ডায়ারের জায়গায় তিনি ও’ডোয়ায়ারকে হত্যা করেছিলেন।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত