প্রধানমন্ত্রী বললেন

স্বাস্থ্যসেবায় ধনী দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে

আপডেট : ১২ মে ২০২৩, ০৪:৪৩ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোকে সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য উন্নত দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রয়োজনীয় তহবিল বিতরণ করে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ধনী দেশগুলোর এগিয়ে আসা উচিত। অনেক দেশ এখনো পিছিয়ে রয়েছে। তাদের সহায়তা প্রয়োজন।’

তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘অ্যাকসিলারেটিং ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ টুওয়ার্ডস স্মার্ট বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), সিআরআই, সূচনা ফাউন্ডেশন ও চ্যাথাম হাউজ লন্ডনের মতো বেশ কয়েকটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ইভেন্টের দুটি অংশ ছিল। প্রথম অংশে ছিল প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি ও বিশেষজ্ঞদের প্রশ্নোত্তরপর্ব। মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম বিষয়ে ডব্লিউএইচও’র মহাপরিচালকের উপদেষ্টা এবং চ্যাথাম হাউজ কমিশনের ইউনিভার্সাল হেলথ বিষয়ক কমিশনার সায়মা ওয়াজেদ এটি পরিচালনা করেন। নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চ্যাথাম হাউজ কমিশনের কো-চেয়ার হেলেন ক্লার্ক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেসব ক্ষেত্রে এখনো উন্নয়ন হয়নি বা যেগুলো স্বাস্থ্যের দিকে খুব বেশি অগ্রগতি করতে পারেনি, সেখানে স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকে সহায়তার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য তহবিল গঠন করা উচিত। কারণ স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।’ সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব দেওয়া এবং একটি আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা করা উচিত।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর বোঝা যাবে কোন দেশের বেশি প্রয়োজন। এটি নির্দিষ্ট করা যেতে পারে এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যেতে পারে। তবে আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এটি করতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. মো. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার স্বাগত বক্তব্য রাখেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইউএইচসি বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করতে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের সদস্য ও যুব নেতারাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ এসডিজি-৩ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কভিড মহামারী, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক সংকটের কারণে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও জাতিসংঘের এসডিজি-৩-সহ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও চ্যাথাম হাউজ কমিশনের কো-চেয়ার হেলেন ক্লার্ক তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য জাতীয় স্বাস্থ্য কৌশলগত পরিকল্পনা ২০১১-৩০ বাস্তবায়নে কাজ করছে।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পের আরও উন্নয়নের জন্য তার সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে হেলেন ক্লার্ককে অবহিত করেন। তিনি ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, এই খাত থেকে এখন ১০০টিরও বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন যে সরকার দেশে গবেষণা পরিচালনা, কভিড-১৯ এবং অন্যান্য ভ্যাকসিন উৎপাদনের ওপর জোর দিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তায় গোপালগঞ্জে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদন কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে।

জবাবে নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কভিড-১৯ ভ্যাকসিনসহ বিশেষ ওষুধ রপ্তানিকারক হতে পারে।

আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে (ইউএনজিএ) তার অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি নিউ ইয়র্কে সর্বজনীন স্বাস্থ্য কভারেজসহ অন্যান্য জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য অধীর অপেক্ষা করছেন।

এ সময় হেলেন ক্লার্ক বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডব্লিএইচও’র মহাপরিচালকের মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজমবিষয়ক উপদেষ্টা সায়মা ওয়াজেদ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং স্বাস্থ্য সচিব ডা. মো. আনোয়ার হাওলাদার উপস্থিত ছিলেন। বাসস

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত