সুজনের সুনাম ম্লান আত্মীয়স্বজনে

আপডেট : ১৬ মে ২০২৩, ১২:৫২ এএম

পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের নূরুল ইসলাম সুজন একই সঙ্গে রেলপথমন্ত্রীও। সে কারণে তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবে বেশিই তার কাছে।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়ে নূরুল ইসলাম সুজন প্রথম সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন। আসনটি দেবীগঞ্জ ও বোদা উপজেলা নিয়ে গঠিত। দেবীগঞ্জের দেবীডুবা ও চিলাহাটি এবং বোদা উপজেলার সাকোয়া, মাড়িয়া ও চন্দনবাড়ির বিভিন্ন বয়সী ও পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এমপি সুজনের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, সেগুলোর বাস্তবায়ন এবং তার কর্মকা- সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন দেশ রূপান্তরের দুই প্রতিবেদক।

ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি কী ছিল জানতে চাইলে বোদা উপজেলার বাসিন্দা রিকশাচালক রমিজ মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করতোয়ায় আউলিয়ার ঘাটে সেতু নির্মাণ ও নির্বাচনী এলাকায় কর্মসংস্থানের মধ্য দিয়ে বেকারত্ব দূর করা ছিল এমপি সুজনের অন্যতম অঙ্গীকার।’ তিনি বলেন, ‘করতোয়ায় আউলিয়ার ঘাটে সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়াধীন শুনে আসছি অনেক দিন ধরেই, বাস্তবায়ন দেখছি না। কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নও উল্লেখযোগ্যভাবে হয়নি। রেলমন্ত্রী হওয়ার পরে অল্প কিছু চাকরি এলাকার মানুষকে দিয়েছেন সুজন।’

দেবীগঞ্জ উপজেলার এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এমপি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এমপি হিসেবে সুজনের দৃশ্যমান উন্নয়ন তেমন নেই। তবে মন্ত্রী হওয়ার পরে পঞ্চগড় থেকে কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন চালু করেছেন। তা ছাড়া গতানুগতিক কিছু উন্নয়ন হয়েছে।’

সুজনকে ভোট দেওয়া এ ভোটার আরও বলেন, আওয়ামী লীগের একটি অংশ নানান সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ক্ষুদ্র একটি অংশ অনেক সুবিধা নিয়েছেন এমন আলোচনা শোনা যায়। মন্ত্রী হওয়ার পরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন সুজন। শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজন ও স্ত্রীকে ঘিরে একটি চক্র সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন বলে অভিযোগ করেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

এ ছাড়া গত বছর নৌকাডুবির বড় দুর্ঘটনায় স্বজনহারাদের পাশে না দাঁড়ানোয় প্রশ্নবিদ্ধ হন সুজন। এ ছাড়া দ্বিতীয় স্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণ ও স্ত্রীর ফোনে ঈশ^দীর টিটিইকে বরখাস্ত করার ঘটনায় সমালোচিত হন তিনি।

তবে এমপিকে ভোট না দেওয়া বোদা উপজেলার চল্লিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিইনি। কারণ ভোট হয়নি। তবে ২০০৮ সালে এমপি সুজনকে ভোট দিয়েছি।’ এমপি সম্পর্কে তার পর্যালোচনা হলো গন্ডির বাইরে কি উনি যেতে পারবেন? ওই ব্যক্তির ভাষ্য, ‘দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও সুজনকে ভোট দেব না। ভোট দেব কেন?’

এমপির ভালো কাজ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্থানীয় এক এনজিওকর্মী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রুটিন কাজই করেন। তাই ভালো কাজ কী বলব? তবে তিনি মন্ত্রী হওয়ার পর আমাদের জেলায় কিছু ট্রেন বেড়েছে। সারা দেশে রেলের উন্নয়নে কাজ করছেন বলে শুনছি। সবচেয়ে ভালো কাজ বলা যায় তিনি নিজে কোনো ঘুষ খান না। তবে আত্মীয়-স্বজনকে ঘুষ খাওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টাও করেন না।’

সুজনের কর্মকান্ড বিশ্লেষণ করে ৬৫ বছরের স্থানীয় এক ব্যক্তি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সড়ক, স্কুল ভবনসহ চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ছাড়াও বিভিন্ন দুর্যোগ-দুর্বিপাকে কম-বেশি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনা আছে সুজনের। কম্বল ও ত্রাণ বিতরণ করা ছাড়া তেমন বিশেষ কোনো কর্মকান্ড নেই।’

পঞ্চগড়-২ আসনেও আওয়ামী লীগের মধ্যে অনৈক্য আছে। সুজনের একটি বলয় যেমন আছে, তেমনি অন্য একটি বলয়ও আছে। তবে রেলমন্ত্রীর দুর্নাম কম।

টানা তিনবারের এমপি সুজনের বিতর্কিত কাজ কী জানতে চাইলে পঞ্চগড়ের একটি উপজেলার আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজের পছন্দমতো প্রার্থী দিয়ে বড় বিতর্কে জড়িয়েছেন। মূলত দলাদলিও তখন থেকে বেড়েছে। ত্যাগী অনেকেই তার ওপর ক্ষুব্ধ। দলের একটি অংশকে প্রাধান্য দেন। একটি গ্রুপকে নেতৃত্ব দেন, তিনি ও তার ঘনিষ্ঠরা; যা দলীয় নেতা ও সমর্থক গোছের মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।’

এসব বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী সুজনের বক্তব্য জানতে গতকাল সোমবার একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি। মোবাইল ফোনে এসএমএস পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত