সাংবাদিকদের পররাষ্ট্র সচিব

ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী নিরাপত্তা পাবেন কূটনীতিকরা

আপডেট : ১৭ মে ২০২৩, ০১:৪৯ এএম

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের বিষয়টি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী বিদেশি মিশন ও কূটনীতিকদের মৌলিক নিরাপত্তায় বাংলাদেশ কোনো আপস করবে না বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না এটি কোনো প্রভাব ফেলবে। আমাদের যে দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে, তার সঙ্গে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। এটি একটি প্রটোকল সম্পর্কিত বিষয়।’ পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘আমার জানামতে, চারটি দেশকে নিয়মিত (পুলিশ এসকর্ট) দেওয়া হতো। এ ছাড়া একটি বা দুটি দেশ চাইলে তাদের দেওয়া হতো।’

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত ও সৌদি আরবসহ ছয়টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা হিসেবে ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্স দেওয়া শুরু করে সরকার। এরপর থেকে এটি অব্যাহত ছিল। গত সোমবার সেটি তুলে নেওয়া হয়। প্রভাবশালী এসব দেশের বাড়তি নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিতে পারে এমন আলোচনাও হয়।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের পর গত সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে উপপ্রধান মুখপাত্র বেদান্ত প্যাটেল বলেন, ‘আমি মার্কিন দূতাবাস বা এর কর্মীদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা করতে চাচ্ছি না। আমি উল্লেখ করতে চাই, কূটনৈতিক সম্পর্কের নিরাপত্তা ভিয়েনা কনভেনশন অনুসারে, যেকোনো দেশকে অবশ্যই সব কূটনৈতিক মিশন প্রাঙ্গণ ও এর কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে এবং কর্মীদের ওপর কোনো আক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য কার্যকর সব পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের কূটনৈতিক কর্মী ও স্থাপনার সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বেদান্ত প্যাটেলের এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আমরা অবশ্যই ভিয়েনা কনভেনশনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং তা মেনে চলব।’ তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ‘হলি আর্টিজানের ঘটনার পর এ প্রটোকল দেওয়া হয়েছিল জঙ্গিবাদের উত্থানের বিবেচনায়। পরে তা মূলত ট্রাফিক ক্লিয়ারেন্সের কাজটাই করত। এখন নিরাপত্তার দিকে তেমন ঘাটতি দেখছি না।’

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এখন ঢাকা শহরে বা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ যাই বলি না কেন, তা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। আমাদের ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে আছে। এটা একটা কারণ। আবার আমাদের সিস্টেমের মধ্যে পুলিশ শর্টেজ রয়েছে। রেশনালাইজ করার বিষয় এসেছে।’

বিদেশি মিশনের নিরাপত্তায় বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে জানিয়ে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘তাদের অনেক দিন ধরে তৈরি করা হচ্ছিল। আমরা আনসারের মহাপরিচালকের সঙ্গে বসব এবং তাদের কী কী পরিষেবা আছে, সেটি জেনে দূতাবাসগুলোকে জানিয়ে দেব। যারা ওই পরিষেবা নিতে চাইবে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগও করিয়ে দেব।’

কূটনীতিকদের গাড়িতে পতাকা ওড়ানো বন্ধ হচ্ছে কি নাÑ এ প্রশ্নে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘এটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। নিউ ইয়র্ক বা জেনেভায় কখনই পতাকা ওড়ানোর কোনো পদ্ধতি নেই। অনেক দেশে আছে, রাষ্ট্রীয় যত মিটিং হয় তখন পতাকা উড়িয়ে যাওয়া যায়। এটা মিশনপ্রধানদের নিজেদের ওপর থাকে।’

তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি যখন ইতালি ও জাপানে রাষ্ট্রদূত ছিলাম তখন তো পতাকা উড়িয়েছি। কিন্তু যদি আমি বাজারে যাই, কলিগের বাসায় ব্যক্তিগত দাওয়াতে যাই, তখন তো আমি পতাকা ওড়াব না। এটা নিজেদের সেন্স।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত