প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাখ্যান বিএনপির

আপডেট : ১৭ মে ২০২৩, ০২:০৩ এএম

নির্বাচনকালীন সরকার হলেও বিএনপির সুযোগ নেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা যুদ্ধ-সংগ্রাম-লড়াই করছি। লড়াইটা হচ্ছে প্রতিনিধিত্বমূলক একটি সংসদ তৈরির। এই সরকার ক্ষমতায় থাকলে সেটা হবে না এ কথা আমরা বারবার বলেছি। তারা নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করবে সেটা আমাদের কাছে কোনো ব্যাপারই না। আমরা নিরপেক্ষ সরকার চাই। সেটা অবশ্যই নির্দলীয়ভাবে এবং কোনো দলীয় ব্যক্তিদের আমরা চাই না।’

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের এক যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। এ সময় দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ১৩ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।

সংসদ থেকে পদত্যাগ করে বেরিয়ে আসাটা ভুল ছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কখনোই না। এটা অত্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত। এই সংসদে তো জাতির প্রতিনিধিত্বই ছিল না। কারণ তারা নির্বাচিত নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছয় রাষ্ট্রদূতের বাড়তি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আমার কাছে দুইটা জিনিস মনে হয়। একটা হচ্ছে, এটা চরম দায়িত্বহীনতা। কারণ এর ফলে আন্তর্জাতিক সমস্যার সৃষ্টি হবে। দ্বিতীয়ত, আত্মভরিতা-অহংকার কোন জায়গায় গিয়ে পৌঁছালে আপনার সবচেয়ে বড় ক্ষতি করতে পারে। আমার কাছে মনে হয়, সম্ভবত এবার বিদেশে গিয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) ঠিক সেই রকম উপযুক্ত প্রটোকল পান নাই। প্রতিবাদ হিসেবে বা তার প্রতিশোধ হিসেবে আমরা দেখতে পারছি। হঠাৎ প্রটোকলকে বাতিল করে দেওয়ার অর্থটাই হচ্ছে, সামথিং ইজ ভেরি রং উইথ দিজ কান্ট্রিজ। যাকেই জিজ্ঞাসা করবেন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে এটা উত্তেজনা সৃষ্টি করবে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি এটাতে উদ্বিগ্ন। কূটনীতির বিষয়ে এটা আরও একঘরে করে তুলবে বাংলাদেশকে। কারণ সমস্যাটা শুধু সরকারের নয়, সমস্যাটা বাংলাদেশের জনগণের। ধরেন, আজকে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা ব্যবস্থা নিলে বাংলাদেশের মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। সৌদি আরব, যারা সব সময় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে, তারা যদি ব্যবস্থা নেয়। ভারতও আছে। জাপান, অস্ট্রেলিয়া আমাদের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। এটা কখনো শুভ ফল বয়ে আনবে না।’

দলের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুবার্ষিকীতে কর্মসূচি ঘোষণা করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জিয়াউর রহমানকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ২৯ মে থেকে আগামী ১০ জুন পর্যন্ত কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। এর মধ্যে আলোচনা সভা, সেমিনার, জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, কার্যালয়গুলোতে কালো পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করে রাখা, কালো ব্যাজ ধারণ। সেই সঙ্গে বিএনপির প্রতিটি অঙ্গসংগঠন আলাদা করে কর্মসূচি পালন করবে। মহানগর উত্তর-দক্ষিণ প্রতিটি ওয়ার্ড দুস্থ ও অসহায়দের মধ্যে বস্ত্র ও খাদ্য বিতরণ এবং দোয়া মাহফিল করবে।’

এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পত্রপত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে জিয়াউর রহমানের ওপর পোস্টার প্রকাশ, ৩০ মে ঢাকা মহানগর এবং একইভাবে সারা দেশে জেলা পর্যায়ে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণের কর্মসূচি থাকবে।

বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে যৌথ সভায় দলের কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, খায়রুল কবির খোকন, আবদুস সালাম আজাদ, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির রফিকুল আলম মজনু, যুবদলের সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের রাজিব আহসান প্রমুখ অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত