পুরো আসনের ফল বাতিল করতে পারবে না ইসি

আপডেট : ১৯ মে ২০২৩, ০৫:৪২ এএম

কোনো নির্বাচনে পুরো আসন নয়, অনিয়ম হওয়া এক বা একাধিক কেন্দ্রের ফল বাতিল বা স্থগিত করতে পারবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এমন বিধান রেখে ‘রিপ্রেজেনটেশন অব দ্য পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৩’ চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সংশোধনী প্রস্তাবে ইসি পুরো আসনের নির্বাচন বা ফল বাতিলের ক্ষমতা চেয়েছিল।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকে গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) আইনের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর আগে গত ২৮ মার্চ মন্ত্রিসভা বৈঠকে আরপিও সংশোধনের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল মন্ত্রিসভা। তখন বলা হয়েছিল, খসড়ায় আরও কিছু সংশোধন, মতামতসহ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আবারও মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী বছরের জানুয়ারিতে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই আরপিও সংশোধন করা হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নির্বাচনের যেকোনো মুহূর্তে পেশিশক্তি বা অন্য যেকোনো কারণে এক বা একাধিক কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত বা বাতিল করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। এক বা একাধিক কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ফল বাতিল করতে পারবে। পুরো নির্বাচন বাতিল করার কোনো প্রভিশন আইনে নেই বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

এক বা একাধিক কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত ভোট চলাকালে বা ভোটগণনার সময় দ্রুত তদন্ত করে হতে পারে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। নির্বাচন কমিশন অনিয়মের কারণে পুরো আসনের নির্বাচন বাতিলের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল এ বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা পর্যালোচনা করে যে বিষয়গুলো যৌক্তিক বলে মনে করেছে, যে বিষয়গুলো নির্বাচন পরিচালনা করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও সহায়ক হবে বলে মনে করেছে, সেগুলো অনুমোদন করেছে।

আইনটি মন্ত্রিসভায় পাস হলেও সেটি নিয়ে সংসদে উন্মুক্ত আলোচনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা যেভাবে মনে করবেন, সেভাবে হবে।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গাইবান্ধার একটি আসনে পুরো নির্বাচন স্থগিত করার বিষয়ে মাহবুব হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কথা বলতে চাই না। আইনটি যেভাবে পাস হয়েছে সেটিই বলেছি।’

বিদ্যমান আইনে শুধু রিটার্নিং কর্মকর্তা কারও মনোনয়নপত্র বাতিল করলে তার বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ আছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরপিওর যে খসড়াটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তাতে মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হলেও সে বিষয়ে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো ব্যক্তির মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হলো, কিন্তু কেউ মনে করলেন সেটি সঠিক হয়নি, তখন চাইলে সে বিষয়ে আপিল করা যাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর কেউ রিজেক্ট (বাতিল) হন, তাহলে তিনি তখন আপিল করতে পারতেন। এখন শুধু রিজেক্ট না, রিটার্নিং অফিসার যে সিদ্ধান্তই দেন, যদি গ্রহণও করেন তাহলে আপিল করা যাবে। তার যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে। উপযুক্ত কাগজপত্র ও সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ অভিযোগ দাখিল করে এ আপিল করা যাবে।

তিনি বলেন, এটাতে কিছু সংশোধনী প্রস্তাব করা হয়েছিল। আগে যেমন ছিল যেকোনো ইউটিলিটি বিল যেদিন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হবে তার সাত দিন আগে জমা দিতে হতো। না হলে মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হতো। এখন বিলটা মনোনয়নপত্র যেদিন জমা দেবে, তার আগের দিন পর্যন্ত জমা দিতে পারবে।

সচিব বলেন, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে টিআইএন সার্টিফিকেট যুক্ত করতে হবে এবং কত টাকা আয়কর জমা দিয়েছে, সেটা রসিদ অনুযায়ী দাখিল করতে হবে। এটা আগে ছিল না। এ দুটি অংশ যোগ করা হয়েছে।

একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর কেউ যদি হামলা বা তাদের আহত করেন তাহলে তিনি সুনির্দিষ্ট শাস্তির আওতায় আসবেন।

আগের আইন অনুযায়ী জেলাভিত্তিক রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়োগ দেওয়া হলেও এখন নতুন আইন অনুযায়ী সংসদীয় আসনভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া যাবে। তবে একই ব্যক্তি একাধিক আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা হতে পারবেন বলে জানান তিনি। সাধারণত জাতীয় নির্বাচনগুলোতে প্রতিটি জেলার সবকটি নির্বাচনী আসনের জন্য একজন রিটার্নিং কর্মকর্তা হন। জেলা প্রশাসকরাই (ডিসি) এ দায়িত্বে থাকেন।

প্রস্তাবিত আরপিও সংশোধনীতে গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের কাজে কেউ বাধা দিলে সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদ-ের প্রস্তাব করা হয়েছে। আর রাজনৈতিক দলগুলোর গঠনতন্ত্র বিষয়গুলো (নারী নেতৃত্বসহ) পূরণের সময়সীমা ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে সুরক্ষিত লেনদেন (অস্থাবর সম্পত্তি) আইন, ২০২৩ এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ‘বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি আইন, ২০২৩’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (সংশোধন) আইন, ২০২৩’-এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে মন্ত্রিসভায়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি অনন্য উদ্যোগ। এটি দেশে ও বিদেশে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের সাফল্যের বিষয়ে ১৬ মে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে বিশেষভাবে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এ জন্য মন্ত্রিসভা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত