পুলিশের ক্রাইম কনফারেন্সে নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কনফারেন্সে বলা হয়েছে, নির্বাচনের সময় যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ। যারা দেশ নিয়ে চক্রান্ত করবে তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। ইতিমধ্যে চক্রান্তকারীদের তালিকা করা হয়েছে। ওইসব তালিকা ধরে কয়েক মাসের মধ্যেই গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করবে। পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। গতকাল বুধবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স কোয়ার্টারলি ক্রাইম কনফারেন্সে এসব নিয়ে আলোচনা হয়। দুদিনব্যাপী কনফারেন্সের শেষ দিন ছিল গতকাল।
কনফারেন্স সকাল ১০টায় শুরু হয়ে বিকেলে শেষ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। পুলিশের সব ইউনিটপ্রধান,রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও ৬৪ জেলার পুলিশ সুপাররা (এসপি) উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের সূত্র মতে, কনফারেন্স শুরু হলে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) কামরুল আহসান। পুলিশের ইউনিটপ্রধানরা খোলামেলা কথা বলেন। কথা বলেন কয়েকজন পুলিশ সুপারও। নিজ নিজ এলাকার সমস্যার কথা বলেন কেউ কেউ। আবার এলাকার রাজনীতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। দেশের শান্ত পরিবেশ কারা অশান্ত করার চেষ্টা করছে তাদের নিয়ে কথাও বলেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৈঠকে উপস্থিত থাকা পুলিশের কয়েকজন ডিআইজি ও পুলিশ সুপার দেশ রূপান্তরকে বলেন, সবার কথা শুনে আইজিপি কঠোর ভাষায় সেসব বিষয়ে মত ব্যক্ত করেন। জেলার এসপিরা কে কী করছেন সেই তথ্য আছে বলে জানান তিনি। আবার কারা কারা কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন সে বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সময় থাকতে ভালো হয়ে যান। আর না হলে যেকোনো সময় দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।
ওই কর্মকর্তারা আরও বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশ প্রস্তুত আছে বলে বৈঠকে উপস্থিত সব কর্মকর্তাই জানিয়েছেন। নির্বাচনের আগে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল থেকে গুজব ছড়ানো হতে পারে। এসব গুজব ছড়িয়ে কেউ যেন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি গুজব রোধে সাইবার মনিটরিং বাড়াতে হবে। যেসব পুলিশ কর্মকর্তা খারাপ কাজ করবেন তাৎক্ষণিক তাদের প্রত্যাহার করা হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তারা জানান, আইজিপি বলেছেন পুলিশ বাহিনীর কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু এটা করতে গিয়ে শৃঙ্খলার সঙ্গে আপস করা যাবে না। তিনি বলেছেন, কোনো পুলিশ সদস্যদের দুর্নীতি, মাদক-সংশ্লিষ্টতা এবং নৈতিক স্খলন কঠোর হাতে দমন করা হবে।
ওই কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম বলেছেন, পুলিশ সদস্যরা কে কোথায় যান সেই তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। তিনি সমানের দিনগুলোতে সবাইকে সতর্ক থাকা ও সরকারের নির্দেশ মেনে দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে জোর দেন। আর্মড ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ড. হাসান উল হায়দার বলেছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে মানুষকে অসম্মানের অভিযোগ এলে খারাপ লাগে। পুলিশকে এমনভাবে চলতে হবে সবাই যেন ভালো বলেন।
তা ছাড়া কনফারেন্সে সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া, পিবিআইয়ের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদারসহ পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের প্রধানরা সংশ্লিষ্ট ইউনিটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন।
সভাপতির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, ফোর্সের ওয়েলফেয়ার নিশ্চিত করতে হবে। ওয়েলফেয়ার দেখতে গিয়ে শৃঙ্খলার সঙ্গে আপস করা যাবে না। কোনো পুলিশ সদস্যের বিচ্যুত আচরণের দায় পুলিশ বহন করবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যদের দুর্নীতি, মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং নৈতিক স্খলনের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। ব্যক্তির দায় ব্যক্তিকেই নিতে হবে। ব্যক্তির দায় বাহিনী নেবে না। পুলিশের সম্মান ও মর্যাদা বজায় রেখে অন্যান্য সার্ভিস ও বাহিনীর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।
