কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শনিবার জেলা বিএনপির সমাবেশে পটুয়াখালী ও রাজবাড়ীতে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অর্ধশত আহত ও ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া দিনাজপুরে সমাবেশের আগে র্যালিতে বিএনপির কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
পটুয়াখালী : জেলা বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অর্ধশত বিএনপির নেতাকর্মী আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মী, পুলিশ ও সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। গতকাল সকালে শহরের বনানী এলাকায় বিএনপির কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।
কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সকালে শহরের বনানী মোড়ে একত্র হন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে দুপক্ষের সংঘর্ষ বাধে। দফায় দফায় একে অপরের ওপরে হামলা চালান উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা। এতে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে। দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়।
এদিকে সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টুর বক্তব্য চলাকালে জেলা ছাত্রলীগের নেতারা বিএনপির সমাবেশে হামলা শুরু করলে উভয় দলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে জেলা যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতারা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পুনরায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েক রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেভ করে। এ ঘটনায় উভয় দলের আরও অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ সময় মাইটিভির সাংবাদিক মশিউর রহমান বাবলু ইটের আঘাতে আহত হন। সংঘর্ষের কারণে বিএনপির নির্ধাধিত সমাবেশ পন্ড হয়ে যায়।
দুপুর সাড়ে ১২টায় হোটেল হিলটনের তিনতলায় অনুষ্ঠিত তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য কোনো নির্বাচন হবে না। এ সময় কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংষু সরকার কুট্টিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংষু সরকার কুট্টি বলেন, ‘বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলাকালে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। এতে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছে।’
জেলা ছাত্রলীগের সেক্রেটারি তানভির হাসান আরিফ বলেন, সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ছাত্রলীগ মিছিল বের করলে বিএনপির গুন্ডারা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের কয়েকজন আহত হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর হোসেন বলেন, পটুয়াখালী সবুজবাগ মোড় থেকে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম শান্তি সমাবেশ শুরু করলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে দলের ১০ কর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার মো. সাইদুল ইসলাম এবং পটুয়াখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
রাজবাড়ী : বিএনপির সঙ্গে পুলিশ, ছাত্র ও যুবলীগের সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে প্রায় শতাধিক আহত ও ৩০ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে দাবি বিএনপির। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে রাজবাড়ী শহরের বকুলতলা এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এ সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৬টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন বিএনপির কর্মীরা।
জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য বলেন, পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে যোগদানের উদ্দেশ্যে আমার বাসা থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিএনপির জেলা কার্যালয়ের দিকে যাচ্ছিলাম। পথে প্রথমে বাধা দেয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। আমরা সেই বাধা কাটিয়ে সামনে গেলে পুলিশ বিনা উসকানিতে আমাদের ওপর হামলা করে। দফায় দফায় পুলিশ লাঠিপেটা, রাবার বুলেট নিক্ষেপসহ যাবতীয় অত্যাচার করে আমাদের নেতাকর্মীদের। আমরা আর দলীয় কার্যালয়ে যেতে পারিনি। পুলিশের হামলায় আমাদের শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এ ছাড়া ৩০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের আয়োজনে শান্তি সমাবেশ ছিল আমাদের পার্টি অফিসে। শান্তি সমাবেশে যোগ দিতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে নেতাকর্মী আসে। আমরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগ মিলে রাস্তায় মোটরসাইকেল শোডাউন দিচ্ছিলাম। শহরের বকুলতলা এলাকায় গেলে বিনা উসকানিতে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের ওপর ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পুলিশ আমাদের চলে যেতে বলে। কোনো সংঘর্ষে না গিয়ে ফিরে আসছিলাম। ঠিক তখনই বিএনপির গুন্ডা বাহিনী এসে আমাদের ৬টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জমান বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা আগে সংঘর্ষে জড়িয়েছে এবং পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। তখন পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দায়িত্ব পালন করেছে। বিএনপি বেশ কিছু নেতাকর্মী আটক আছে। তবে এ ঘটনায় মামলা হবে।
দিনাজপুর : শহরের জেল রোডের দলীয় কার্যালয়ে জনসমাবেশ হয়। বেলা আড়াইটা থেকে জেলার সদর উপজেলাসহ ১৩টি উপজেলা থেকে দলের নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। বিকেল ৪টায় সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান মিয়ার নেতৃত্বে একটি র্যালি আসার সময় দলীয় কার্যালয়ের পাশে দলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। সাবেক এমপি আখতারুজ্জামান মিয়াসহ দলীয় নেতারা তাদের শান্ত করেন।
দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লা বুলু। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কবির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালেক হোসেন।
