ষাট বছর বয়সে জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করলেন ভারতীয় অভিনেতা আশীষ বিদ্যার্থী। বৃহস্পতিবার জামাই ষষ্ঠীর দিন কলকাতাতেই নিজের দ্বিতীয় বিয়ে সারলেন এ অভিনেতা। পাত্রী রূপালি বড়ুয়া, কলকাতার এক নামি ফ্যাশন হাউজের কর্মকর্তা। আশীষ জানিয়েছেন, রূপালিকে বিয়ে করার অনুভূতি একেবারেই অন্য রকম।
বৃহস্পতিবার সকালে ঘরোয়া পরিসরে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেছেন আশীষ আর রূপালি। সন্ধ্যাবেলা ঘরোয়া এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। উপস্থিত ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং আত্মীয়রা। বিয়ের ছবি সোশ্যালে দিয়েছিলেন রূপালি। আর তা ভাইরাল হতে মুহূর্ত লাগেনি।
ছবিতে দেখা গেছে, বিয়ের সময় আশীষের পরনে ছিল দক্ষিণ ভারতীয় ধুতি আর ঘিয়ে রঙের পাঞ্জাবি। রূপালি পরেছিলেন সাদা রঙের অসমিয়া মেখলা। সঙ্গে সোনার গয়না।
আশীষের দ্বিতীয় স্ত্রী রূপালি আসামের মেয়ে। জন্মেছিলেন ১৯৭৩ সালের ২১ এপ্রিল। এখন তার বয়স ৫০ বছর। পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার রূপালি। তার সাজপোশাক থেকেও স্পষ্ট যে তিনি কতটা ফ্যাশন সচেতন। শাড়ি পরতে খুব ভালবাসেন।
রূপালির পড়াশোনা আসামেই। অ্যানথ্রোপলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। গুয়াহাটির কটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হয়েছেন। গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। আশীষের মতো রূপালিরও এটি দ্বিতীয় বিয়ে। জানা গেছে, এর আগে মিতম বড়ুয়া নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তার।
মিতম পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। ইংল্যান্ডে কর্মরত ছিলেন তিনি। তার মৃত্যু হয়েছে। মিতম এবং রূপালির একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। সোশ্যালে প্রায়ই নিজের কন্যাসন্তানের সঙ্গে ছবি দেন রূপালি।
২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে স্বামীর সঙ্গে একটি কাপড়ের বিপণি খোলেন রূপালি। ২০১৪ সালের অক্টোবরে লিমিটেড সংস্থা হিসেবে নাম নখিভুক্ত করান রূপালি এবং মিতম। যদিও ২০১৬ সালের নভেম্বরে সেই সংস্থা বন্ধ হয়ে যায়। জানা গেছে, ইংল্যান্ডে স্বামীর মৃত্যুর পর কলকাতায় ফিরে আসেন রূপালি।
কলকাতায় ফিরে একটি হ্যান্ডলুমের বিপণি খোলেন রূপালি। নিজের বিপণির হয়ে মডেলিংও করেছেন। আর দুই অংশীদারের সঙ্গে একটি ক্যাফেও রয়েছে রূপালির। ইনস্টাগ্রামে রূপালিতে অনুসরণ করেন ১১২৪ জন। ইনস্টাগ্রাম রিল থেকে স্পষ্ট নাচতে ভালবাসেন রূপালি। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতেও ভালোবাসেন। সুযোগ পেলেই দেশভ্রমণে বেরিয়ে পড়েন।
আশীষের সঙ্গে পরিচয় কীভাবে জানতে চাইলে রূপালি একটি সংবাদ সংস্থাকে বলেন, ‘কিছু সময় আগে আমাদের পরিচয়। এর পর সম্পর্কটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবি। আশীষ দারুণ মানুষ। ওর মন খুব ভালো।’
