পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, চীনের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগামী সেপ্টেম্বরে বেইজিং সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ওই সময়ে জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক যাওয়ার শিডিউল থাকায় সরকারপ্রধান চলতি বছরই বেইজিং যাবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা নেই।
গতকাল সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।
গত রবিবার চীনের ভাইস মিনিস্টার সান ওয়েইডংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওয়েইডং প্রধানমন্ত্রীকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কি না জানতে চাইলে মোমেন এসব তথ্য দেন। এ বছর প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর হতে পারে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলতে পারব না।’
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চীনের ভাইস মিনিস্টারের সঙ্গে গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট উদ্যোগ (জিডিআই) নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমারের আন্তরিকতার ঘাটতি রয়েছে। প্রত্যাবাসন নিয়ে চীন কাজ করেছে, তারা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। আমরা তো চাই ভালোভাবেই প্রত্যাবাসন শুরু হোক।’
চরম দারিদ্র্য ও মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ওলিভিয়ার ডি শ্যুটার বলেছেন, এখনই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে অনুকূল পরিস্থিতি নেই। তার এ মন্তব্যের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা বলে প্রত্যাবাসনে সহায়ক পরিবেশ নেই, তাদের বলেন রোহিঙ্গাদের নিয়ে যেতে।’
‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বড় বড় কথা বলে’ : রোহিঙ্গা ইস্যুতে পশ্চিমারা প্রয়োজনীয় কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র মুখে বড় বড় কথা বলে, হাজারো রোহিঙ্গা তারা নিয়ে যেতে চায়। অথচ এখন তারা এসবের ধারেকাছে নেই। কানাডা মাত্র ৯ জন নিয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে ২৬ জনকে।’
এশিয়ার বড় রাষ্ট্র হিসেবে এ বিষয়ে চীনকে জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়টিতে চীন কাজ করছে। এ বিষয়ে তারা জোরালো ভূমিকা রাখলে সংকট সমাধান হতে পারে।
এ সময় রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের প্রথম ব্যাচের ৩০০ জন কবে যাবে জানা নেই।’
