দেশে গ্রিন শিপইয়ার্ড যুগের সূচনা করেছে শিল্প গ্রুপ পিএইচপি। আর যিনি তা বাস্তবায়নে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি হলেন বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এবং পিএইচপি রিসাইক্লিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহিরুল ইসলাম রিংকু। দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে তার সঙ্গে কথা বলেন সিনিয়র রিপোর্টার ভূঁইয়া নজরুল।
দেশ রূপান্তর : শিপব্রেকিং শিল্পে গ্রিন শিপইয়ার্ডের ধারণা কীভাবে এলো?
জহিরুল ইসলাম রিংকু : ২০০৯ সালে শিপব্রেকিং-সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডে গিয়েছিলাম। সে সময় সরকারের শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশের শিপব্রেকিং শিল্পে দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। একইভাবে পরে আরও সম্মেলনে যোগ দিতে গেলে সেখানেও একই ইস্যুতে সমালোচনা হতো। তখন মাথা নিচু করে থাকতে হতো। তাই মাথা উঁচু করে কথা বলার জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে গ্রিন শিপইয়ার্ডে রূপান্তরে কাজ শুরু করি। ২০১৭ সালের শেষের দিকে আমরা সেই স্বীকৃতিও অর্জন করি। পরে জাপানেরও স্বীকৃতি অর্জিত হয়।
দেশ রূপান্তর : পিএইচপি ২০১৭ সালে গ্রিন শিপইয়ার্ডে রূপান্তরের পর দেড় শতাধিক ইয়ার্ডের মধ্যে এ সময় আরও দুটি গ্রিন ইয়ার্ডের স্বীকৃতি পেয়েছে। আরও প্রায় সাত থেকে আটটি পাইপ লাইনে রয়েছে। গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরের হার এত কম কেন?
জহিরুল ইসলাম রিংকু : এক-একটি ইয়ার্ডকে হংকং কনভেনশন অনুযায়ী গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তর করতে ছোট ইয়ার্ডে প্রায় ৩০ কোটি এবং বড় ইয়ার্ডে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার প্রয়োজন। ইয়ার্ড মালিককে এই অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। পিএইচপির হয়তো অন্য শিল্প-কারখানা আছে, অন্য প্রজেক্ট থেকে এখানে বিনিয়োগ করছে। কিন্তু যারা শুধু শিপইয়ার্ড ব্যবসা করে তাদের পক্ষে তো এই বিনিয়োগ কষ্টসাধ্য। এজন্য গ্রিন শিপইয়ার্ড রূপান্তরে ধীর মনে হচ্ছে। তবে এই ধীরতা থাকবে না, আমরা এসব পিছিয়ে থাকা ইয়ার্ডগুলো কীভাবে সহযোগিতা করা যায় দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গেও কথা হচ্ছে এবং সরকারের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
দেশ রূপান্তর : গ্রিন শিপইয়ার্ডে রূপান্তর না হলে কোন ধরনের সমস্যা হতে পারে?
জহিরুল ইসলাম রিংকু : আমাদের পাশের দেশ ভারতে প্রায় ১০০টি ইয়ার্ড গ্রিনে রূপান্তর হয়েছে। তুরস্কেও একই অবস্থা। এখন যারা আমাদের প্রতিযোগী তারা যদি পরিবেশসম্মত ইয়ার্ড তৈরিতে এগিয়ে যায় তাহলে জাহাজ মালিকরা আমাদের কাছে জাহাজ বিক্রি করবে না। তাই শিপইয়ার্ড ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলেও সব ইয়ার্ড গ্রিনে রূপান্তর হতে হবে।
দেশ রূপান্তর : গ্রিন ইয়ার্ডে রূপান্তরের পর আপনার ইয়ার্ডে কোনো দুর্ঘটনা হয়নি। শ্রমিকও অনেক কম। আপনি সফলতার সঙ্গে করছেন দেখে অনেকে উৎসাহিত হচ্ছেন। প্রকৃত বিষয়টি কী?
জহিরুল ইসলাম রিংকু : হুম, এটা সঠিক যে আমার ইয়ার্ডে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। আমার এখানে আগে যেখানে সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক কাজ করত, আমি সেখানে ৩৫০ জনে নামিয়ে এনেছি। বিপরীতে সব ধরনের আধুনিক উপকরণের ব্যবহার বাড়িয়েছি। এতে শ্রমিক কম লাগছে। শ্রমিক কমে যাওয়ায় তাদের প্রশিক্ষিত করতে সহজ হচ্ছে এবং গাইডলাইনও দেওয়া যাচ্ছে। এজন্য বিভিন্ন ইয়ার্ড মালিক প্রায়ই আমাদের ইয়ার্ড পরিদর্শনে যান এবং কীভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তা দেখে নিজেদের ইয়ার্ডে বাস্তবায়নে উদ্যোগী হচ্ছেন।
