শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা ইউনিয়নের আমজাদিয়া একাডেমির অফিস সহকারী মাসুদুর রহমানের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তর বিচার দাবিতে গতকাল রবিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা ঘেরাও করে। পরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের আশ^াসে তারা বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরে যায়।
বিদ্যালয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমজাদিয়া একাডেমির অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে মাসুদুর রহমান তার অফিস কক্ষে ডেকে নেন। এরপর তিনি ওই ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করেন। এ সময় ওই ছাত্রী চিৎকার করলে অন্য শিক্ষার্থীদের চেষ্টায় সে রক্ষা পায়। পরদিন ওই ছাত্রী প্রধান শিক্ষকের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করে। এরপর গত বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও নাওডোবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করে। পরে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি অভিযুক্ত মাসুদুর রহমানকে এক মাসের জন্য বরখাস্ত এবং ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।
গতকাল প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে মাঠে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। পরে তারা নাওডোবা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দুপুরে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা ঘেরাও করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদে আমরা পড়ালেখা করতে চাই। আমার বোনের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তার (মাসুদুর রহমান) শাস্তি ও বিদ্যালয় থেকে স্থায়ী বরখাস্ত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জিয়া বলেন, ‘এ ঘটনায় ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্ত অফিস সহকারী মাসুদুরকে এক মাসের জন্য বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে।’
পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমজাদিয়া একাডেমির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগের বিষয় মৌখিকভাবে শুনেছিলাম। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এলে তাদের পরামর্শ দিয়েছি লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে তারা থানা ক্যাম্পাস ছেড়ে যায়।’
