ফেনীর একটি হাসপাতালে ভুল অস্ত্রোপচারে ওসমান গনি (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজনরা আদনান আহমেদ নামে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে ওই শিশুর মরদেহের সঙ্গে অস্ত্রোপচার কক্ষে (ওটি) তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের বের করে আনে।
গত শনিবার সন্ধ্যায় শহরের কাঁচা তরকারির আড়তের সামনে অবস্থিত আল মদিনা হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এরপর রাতে স্থানীয় চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন টিপুর মাধ্যমে সমঝোতা করে লাশ হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, গতকাল রবিবার সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুভল চাকমা জেলাপর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ওই হাসপাতালের সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। হাসপাতালটির লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন ছিল না বলে ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে।
মারা যাওয়া শিশু ওসমান গনি ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের খাইয়ারা বাজারের পাশের বাসিন্দা সাইফুল ইসলামের ছেলে।
আহাজারিরত শিশুর মা আসমা খাতুন বলেন, আমার জ্যান্ত ছেলের কিডনি কেটে ডাক্তার মেরে ফেলেছে। আমার সন্তান চাই। আর কিছু চাই না, আমার সন্তানকে বুকে ফিরিয়ে দিতে হবে।
ওসমানের বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, হার্নিয়ার অপারেশন করার জন্য শনিবার বিকেল ৪টায় ছেলেকে নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি করি। কথা ছিল, সন্ধ্যার পর অপারেশন হবে। কিন্তু বিকেল সাড়ে ৪টায় ডাক্তার এসে ইনজেকশন পুশ করে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পরই ছেলের মৃত্যুর খবর আসে। ভুলভাবে অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে ছেলেটাকে তারা মেরে ফেলেছেন। দোষীদের শাস্তি চাই।
হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আশরাফুল ইসলাম বলেন, অস্ত্রোপচার কক্ষে কোনো ভুল হয়েছে কি না তদন্ত করে দেখা হবে।
অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক সাইফুল ইসলাম বলেন, অ্যানেস্থেসিয়া দিয়ে রোগীর অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে তার জ্ঞান ফিরে না আসায় আমরা চিন্তায় পড়ে যাই। একপর্যায়ে দেখি সে বেঁচে নেই। সম্ভবত সে হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছে।
অস্ত্রোপচার কক্ষে সার্জারি চিকিৎসকের দায়িত্বে থাকা আদনান আহমেদ বলেন, রোগীর জ্ঞান ফিরে আসা না আসাটা অ্যানেস্থেসিয়ার ওপর নির্ভর করে। সঠিকভাবে তদন্ত হলে মূল বিষয়টি বের হয়ে আসবে।
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মাহফুজুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগীরা মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. শিহাব উদ্দিন জানান, হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
