মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার লস্করদীতে অবৈধ গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েছেন তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা। এ সময় স্থানীয়রা তিতাস গ্যাসের কয়েকটি গাড়িসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রেখে নানা সেøাগান দিতে থাকে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে তিতাসের লোকজনকে উদ্ধার করে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে গজারিয়ার হোসেন্দী ইউনিয়নের লস্করদী এলাকায় অবৈধ গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে যান তিতাস গ্যাসের লোকজন। এ সময় অবৈধ সংযোগ ব্যবহারকারী স্থানীয়রা তাদের বাধা দেয় এবং একপর্যায়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। এতে গজারিয়া-জামালদী সড়কে প্রায় আধা ঘণ্টার মতো যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে অভিযান শেষ না করেই পুলিশের সহায়তায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিতাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
তিতাস গ্যাসের সোনারগাঁ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী সুরুজ আলম বলেন, ‘আমরা গজারিয়া উপজেলার জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবৈধ গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্নে অভিযান পরিচালনা করি। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকটি ছোট ছোট লাইন বিচ্ছিন্ন করার পরে আমাদের একটি টিম লস্করদী এলাকায় বড় একটি লাইন বিচ্ছিন্ন করতে যায়। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আমাদের অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। আমরা পুনরায় সেখানে অভিযান পরিচালনা করার চেষ্টা করছি।’
প্রতিবাদকারীরা জানান, স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তারা এক একটি সংযোগ নিয়েছেন। এর আগেও একাধিকবার তিতাস গ্যাস তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। তারা পুনরায় চাঁদা তুলে সংযোগ নিয়েছেন। এখন আর তারা সেই সংযোগ কাটতে দেবেন না। গজারিয়ার অবৈধ সব সংযোগ বৈধ ঘোষণা করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মুন্সীগঞ্জ সদর-গজারিয়া সার্কেল) থান্দার খায়রুল হাসান বলেন, ‘অবৈধ গ্যাসসংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে গজারিয়ার লস্করদীতে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়েন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করেছে।’
