রোগাক্রান্ত গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন প্রাণীর চিকিৎসা নিতে এসে অপেক্ষায় কৃষক-খামারিরা। কেউ বসে আছেন, কেউবা ডাক্তারকে না পেয়ে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অফিসের চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়েছেন। সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ডিউটি বাদ দিয়ে প্রাইভেটে ভিজিট নিয়ে চিকিৎসায় ব্যস্ত সময় পার করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম। সকালে অফিসে এসে স্বাক্ষর করেই প্রাইভেট চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। আর এদিকে তার অনুপস্থিতিতে হাসপাতালে আসা সেবাপ্রার্থীরা সেবা না পেয়েই বাড়ি ফেরেন। কেউ বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তার দেখা পান।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪০টা পর্যন্ত কর্মস্থলে অবস্থান করার কথা থাকলেও তার তোয়াক্কা করেন না প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম। গত রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত অন্তত তিনদিন উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে গিয়ে এই কর্মকর্তাকে তার অফিসে পাননি এই প্রতিবেদক। তিনি কোথায় আছেন জিজ্ঞেস করলে অফিসের কর্মচারীরা জানান, স্যার বাইরে আছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক পল্লী চিকিৎসক বলেন, ‘তিনি (প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা) সকালে অফিসে এসে স্বাক্ষর করে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। এরপর হাবিবউল্লাহ নামে এক পল্লী চিকিৎসককে সঙ্গে নিয়ে বের হয়ে যান। হাবিবউল্লাহর মোটরসাইকেলযোগে মাথায় হেলমেট পরে চষে বেড়ান উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। প্রতিটি চিকিৎসায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা করে নেন ভিজিট।’
এ বিষয়ে পল্লী চিকিৎসক হাবিবউল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনিও বিষয়টি স্বীকার করেন।
গরুর লাম্পি স্কিন রোগের চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ অফিসে এসেছিলেন উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের গৃহস্থ বায়তুল্লাহ। কিন্তু ডাক্তারকে না পেয়ে হতাশ হয়ে তাকে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে। বায়তুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় লাম্পি স্কিন রোগ ব্যাপকহারে হানা দিয়েছে। ১০ থেকে ১৫টি গরু মারা গেছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের লোকজনকে খবর দিয়েও পাওয়া যায় না। খবর দিলে বাড়িতে যায় না ডাক্তার। বাধ্য হয়ে প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে আসি। হাসপাতালে এসে অনেক সময় অপেক্ষা করে ফেরত আসি। দেখা পাইনি বড় ডাক্তারের। উনার অফিসে গিয়ে দেখি আমার মতো অনেকেই ঘুরে যাচ্ছেন। আবার অনেকেই অপেক্ষা করতে করতে ঘুমিয়ে গেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অনেক ঘুরে মাঝে মাঝে চিকিৎসা পেলেও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, ‘এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমি নিয়মিতই অফিস করি। মাঝে মাঝে প্রশিক্ষণসহ মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কাজে আমাকে বাইরে যেতে হয়।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. হাফিজা জেসমিন বলেন, ‘অফিস টাইমে বাইরে প্রাইভেট চিকিৎসা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই।’
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুমারী খাতুন বলেন, ‘অনেক সময় মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ থাকে, যে কারণে অফিস ছেড়ে বাইরে যেতে হয়। তবে অফিস চলাকালীন প্রাইভেটে ভিজিট নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখব। তাকে এ বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করব।’
